রাজীব গান্ধীর হত্যাকারীদের মুক্তি দেওয়ার সিদ্ধান্ত কয়েকদিনের মধ্যেই

রাজীব গান্ধী (Rajiv Gandhi) হত্যাকাণ্ডে জড়িত অপরাধীদের মুক্তি দেওয়া হবে কিনা, সে বিষয়ে আগামী তিন-চারদিনের মধ্যেই সিদ্ধান্ত নেবেন তামিলনাড়ুর রাজ্যপাল বানওয়ারিলাল পুরোহিত (Banwarilal Purohit)। সুপ্রিম কোর্টের ধমকের মুখে বৃহস্পতিবার এমনটাই জানিয়েছেন সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা।
১৯৯১ সালে ২১ মে তামিলনাড়ুতে একটি জনসভায় দেশের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধীকে হত্যা করে আততায়ীরা। এই ঘটনার সঙ্গে এলটিটিই (LTTE) সংগঠনের যুক্ত থাকার প্রমাণ পাওয়া যায়। এরপরই পেরিয়াভালান, মুরুগান, সান্থাম, নলীনী শ্রীহরণ, রবার্ট পায়াস, জয়াকুমার ও রবিচন্দ্রন নামক সাত ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয় ও তাঁদের যাবজ্জীবনের সাজা ঘোষণা করা হয়।
২০১৬ সালে সাত অভিযুক্তদের মধ্যে একজন তদন্ত সম্পূর্ণ না হওয়া অবধি তাঁদের মুক্তির আবেদন জানান। এর প্রেক্ষিতে ২০১৮ সালে তামিলনাড়ু সরকার অভিযুক্তদের সাজা পূরণের আগেই মুক্তির প্রস্তাব দেয়। তবে এই সিদ্ধান্ত মঞ্জুর হতে গেলে প্রয়োজন রাজ্যপালের স্বাক্ষরের। দু’ বছর কেটে গেলেও এখনও অবধি রাজ্যপাল সেই সিদ্ধান্ত মঞ্জুর বা খারিজ-কোনটিই করেননি।
বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টে এই মামলার শুনানির সময় বিচারপতি এল নাগেশ্বর রাও, বিচারপতি হেমন্ত গুপ্তা ও বিচারপতি অজয় রাস্তোগীর বেঞ্চ অসন্তোষ প্রকাশ করে বলে, “এই পর্যায়ে আমরা ক্ষমতা প্রয়োগ করতে চাই না। কিন্তু সরকারের প্রস্তাব দুই বছর ধরে আটকে রয়েছে, এই বিষয়েও আমরা খুশি নই।”
তামিলনাড়ু সরকারের তরফে অপরাধীদের মুক্তি দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হলেও বিগত বছরগুলিতে কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে বারংবার এই প্রস্তাব খারিজ করে দেওয়া হয়েছে। ২০১৮ সালে কেন্দ্রীয় সরকার সুপ্রিম কোর্টকে জানায়, রাজীব গান্ধীর হত্যাকারীদের মুক্তি দেওয়া সম্ভব নয়। এই হত্যাকাণ্ডকে “অত্যন্ত ঘৃণ্য ও নৃশংস অপরাধ” বলে অ্যাখ্যা দিয়ে কেন্দ্রের তরফে বলা হয়, “অপরাধীদের মুক্তি দেওয়া হলে তা অত্যন্ত খারাপ নজির স্থাপন করবে এবং ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রেও এইধরনের অপরাধীদের দ্বারা বিরূপ প্রভাব সৃষ্টি হবে।” তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই জানিয়েছে, এখনও তদন্ত প্রক্রিয়া শেষ হয়নি।