কলকাতা নয়, ‘সুভাষনগর’! পুরসভার জঞ্জাল থেকে উদ্ধার নেতাজির দুষ্প্রাপ্য দলিল

কলকাতা নয়, ‘সুভাষ নগর’৷

সম্ভবত কেউই জানেন না, নেতাজি সুভাষকে সম্মান জানাতে শহর কলকাতার নাম বদলের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিলো সেই ১৯৪৬ সালে৷ তৎকালীন কলকাতা পুরসভায় (Kolkata corporation) গৃহীত হয়েছিলো এ সংক্রান্ত এক প্রস্তাবও ৷ প্রস্তাবে বলা হয়েছিলো, নেতাজি সুভাষকে (Netaji Subhash) সম্মান জানাতে কলকাতা শহরের নাম বদল করা হবে, নতুন নাম হবে ‘সুভাষনগর’ (Subhas Nagar)৷ সেদিন এই ঐতিহাসিক এবং সাহসী সিদ্ধান্ত নিয়েছিলো কলকাতা পুরসভা৷

শহরের ভূগোল এবং ইতিহাসই বদলে যেত, কলকাতা পুরসভায় গৃহীত এমন এই প্রস্তাবের প্রামাণ্য নথি সম্প্রতি উদ্ধার হয়েছে জঞ্জাল থেকে।

শতবর্ষের মুখে এসে কলকাতা পুরসভার ফেলে দেওয়া জঞ্জাল থেকে উদ্ধার হয়েছে নেতাজি সুভাষচন্দ্র সম্পর্কিত বহু দুষ্প্রাপ্য নথি। ১৯২৫ সালে নেতাজি (Netaji Subhash chandra Bose) যখন কলকাতা পুরসভার চিফ এগজিকিউটিভ অফিসার (CEO, KMC) ছিলেন, সেই সময়ের অমূল্য বেশ কিছু নথি শেষপর্যন্ত মিলেছে এই ২০২০-২১ সালে৷ এই সব নথির খোঁজ মিলেছে কলকাতা পুরসভার করিডরে ডাঁই হয়ে পড়ে থাকা বস্তাভর্তি পুরোনো কাগজের পাহাড় থেকে৷ সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, ডাঁই হয়ে পড়ে থাকা ৫০০ বস্তা পুরনো কাগজ ঘেঁটে মিলেছে এই ইতিহাসের খোঁজ৷ উদ্ধার হওয়া ওইসব মূল্যবান নথি ডিজিটাইজেশনের কাজ শুরু হয়েছে।

কয়েক যুগ ধরেই কলকাতা পুরসভার অন্দরে অযত্নেই পড়ে ছিলো হাজারো কাগজ৷ পুর কর্তৃপক্ষ এসব কিলো দরে বিক্রি করার সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর তা করিডরে ডাঁই করা হয়৷ আর তার মধ্যেই লুকিয়ে ছিলো ইতিহাস ৷

শুধু কলকাতার নামবদলই নয়, জানা গিয়েছে, ফেলে দেওয়া ওই সব পুরোনো কাগজ থেকেই উদ্ধার হয়েছে নেতাজি সম্পর্কিত
বসুর বহু দুষ্প্রাপ্য নথি। পুরসভা সূত্রের খবর, ফেলে দেওয়া পুরোনো কাগজ ঘেঁটে জানা গিয়েছে, ১৯২৫ সালে কলকাতা পুরসভার চিফ এগজিকিউটিভ অফিসার থাকার সময় পুলিশ একবার গ্রেফতার করেছিলো সুভাষচন্দ্রকে। ওই বছরের ১৫ মার্চ থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত তিনি পুরসভার কাজে যোগ দিতে পারেননি। পুর কর্তৃপক্ষ তখন নেতাজির জন্য ৪ মাসের ছুটি মঞ্জুর করেছিলো। যেহেতু ছুটিতে ছিলেন, তাই সুভাষচন্দ্র ইচ্ছাপ্রকাশ করলেই পুরো বেতন বা ভাতা পেতে পারতেন। কিন্তু নেতাজি তখন লিখিতভাবে জানিয়েছিলেন, যেহেতু তিনি ওই ক’মাস পুরসভার কাজে সময় দিতে পারেননি, তাই বেতনও তিনি নেবেন না৷ নেতাজির এই ইচ্ছাকে স্বীকৃতি দিয়ে সে সময়ে একটি প্রস্তাব গ্রহণ করেছিল পুরসভা। সেই নথিও উদ্ধার হয়েছে পুরসভার করিডরে পড়ে থাকা জঞ্জালের স্তূপ থেকে।

বস্তা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে কলকাতা পুরসভার CEO বা মেয়র থাকার সময়েই নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুকে গ্রেফতারির প্রতিবাদে কালীপুজোর সময় রাস্তার আলো বন্ধ করে, ঘরে আলো না-জ্বালিয়ে, আতসবাজি পোড়ানো বন্ধ রেখে ‘ডার্ক দীপাবলি’ বা পালন করেছিলেন শহরবাসী৷ উদ্ধার হওয়া পুরসভার নথিতে আছে, সেবছরের দীপাবলিতে শুধুমাত্র সেন্ট পলস ক্যাথিড্রাল ছাড়া কলকাতায় কোনও বাড়িতে আলো জ্বলেনি।

এ ছাড়াও, পুরোনো নথি থেকে উদ্ধার হয়েছে, ১৯৪৬ সালে কলকাতার দাঙ্গার বিশদ বর্ণনা, দাঙ্গায় গৃহহারা মানুষদের তালিকা, ১৯২৫ সালে কলকাতার বিভিন্ন যৌনপল্লির সমীক্ষা রিপোর্ট, ১৯৪৫ সালে কলকাতায় রিকশা- বন্‌ধ-সহ ইতিহাসের বহু অজানা তথ্য। পুরসভার সংগ্রহশালার দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিক জানিয়েছেন, ৫০০ বস্তা পুরোনো কাগজ ঘেঁটে একটা একটা করে নথি উদ্ধার করা হচ্ছে। এসব নথি ডিজিটাইজ করে ক্যাটালগ তৈরি করা হচ্ছে৷

আরও পড়ুন:রাজ্যে আজাদ হিন্দ ফৌজের নামে মনুমেন্ট, নেতাজির নামে বিশ্ববিদ্যালয়! টুইট বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর

বাতিল কাগজ হিসেবে পুরসভার যে সব নথি স্রেফ ফেলে দেওয়া হয়েছিলো, তাই এখন ঠাঁই পেতে চলেছে কলকাতা পুরসভার সংগ্রহশালায়।

Advt