টানা তিন দিন বাস ধর্মঘট হচ্ছেই রাজ্যে, ফের নিষ্ফলা মুখ্যসচিব-বাস মালিকদের সংগঠনের বৈঠক

ভাড়া বাড়াতেই হবে। বাস মালিকরা নিজেদের দাবিতে অনড়। রবিবার বিকেলে রাজ্যের মুখ্যসচিব আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে বৈঠকে বসেন বাস মালিকরা। কিন্তু কাটলো না জট। এই মাসের শেষ সপ্তাহে টানা তিন দিন বাস ধর্মঘট হচ্ছেই রাজ্যে। অন্তত আজকের বৈঠকের পর এমনটাই জানিয়েছেন বাস মালিকরা। তবে দু’পক্ষ আরও একবার বৈঠকে বসতে পারে বলে জানা যাচ্ছে।

ডিজেলের দাম বাড়ায় তাঁদেরও বাসের ভাড়া বৃদ্ধি করার কথা জানিয়েছিল। কিন্তু তাতে রাজি নয় রাজ্য সরকার বলে সূত্রের খবর। এদিন মুখ্যসচিব আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে বৈঠকে বসে একাধিক প্রস্তাব দিয়েছেন বাসমালিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা। তাঁদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বৈঠকের পর রাজ্য সরকারের সঙ্গে ফের আলোচনার রাস্তায় খুলল। তবে এখনও তারা ধর্মঘটের অবস্থানে অনড় রয়েছেন বলেও জানিয়ে রেখেছেন। রাজ্যের ৫টি বাসমালিক সংগঠন ভাড়া বৃদ্ধি সহ একাধিক দাবিতে ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে। টানা তিনদিন ধর্মঘট চললে নিত্যযাত্রীদের হয়রানির শেষ থাকবে না। তাই বাসমালিক সংগঠনগুলির সঙ্গে বৈঠকে বসতে চায় রাজ্য সরকার। রবিবার বিকেল তিনটে নাগাদ বৈঠক শুরু হয়। এদিন বাসমালিক সংগঠনের এক প্রতিনিধি জানান, রাজ্য সরকার ডাকলে তাঁরা আবার আসবেন।

বাস-মিনিবাস সংগঠনের কথা অনুযায়ী ন্যূনতম ভাড়া ৭ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৪ টাকা করতে হবে। এর আগেও একাধিকবার পরিবহন দফতরের সঙ্গে বৈঠকে বসেছে সংগঠনগুলি। কিন্তু রফাসূত্র মেলেনি। আজও বৈঠক নিষ্ফলা।

উল্লেখ্য, মঙ্গলবার বাস এবং মিনিবাস মালিকদের বিভিন্ন সংগঠন আগামী ২৮,২৯ এবং ৩০ জানুয়ারি কলকাতাসহ রাজ্যের সমস্ত জায়গায় ধর্মঘটের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তাঁরা মূলত কেন্দ্র ও রাজ্যের কাছে দুটি দাবি রেখেছে। প্রথম, পেট্রল-ডিজেলের দামের ওপরে জিএসটি বসাক কেন্দ্র। বিগত দিনগুলিতে দেখা গিয়েছে দাম বেড়েই চলেছে পেট্রল-ডিজেলের। প্রত্যেকদিন পেট্রল-ডিজেলের দাম রেকর্ড মাত্রায় বেড়ে চলেছে। সেই কারণেই তাদের কেন্দ্রের কাছে দাবি জিএসটি বসানো হোক পেট্রল-ডিজেলের ওপর। এছাড়া দ্বিতীয়ত, রাজ্য সরকারের কাছে দাবি বাসের ভাড়ার পুনর্বিন্যাস করা হোক। লকডাউনের পরে রাজ্য সরকার তিন সদস্যের কমিটি তৈরি করেছিল। যাদের মূলত কাজ ছিল বাসের ভাড়ার পুনর্বিন্যাস করা। তার পরবর্তী পর্যায়ে এখনও পর্যন্ত কোনও সিদ্ধান্ত হয়নি। এই জায়গায় দাঁড়িয়ে রাজ্য সরকারের কাছে বাস মালিকদের বিভিন্ন সংগঠনের দাবি বাসের ভাড়ার পুনর্বিন্যাস করা হোক। বাস মালিকদের বিভিন্ন সংগঠন জানিয়েছে, ৩০ জানুয়ারি মধ্যে কোনও রকম ব্যবস্থা না নিলে পরবর্তী পর্যায়ে ১৫ ফেব্রুয়ারির পর থেকে তারা লাগাতার ধর্মঘটের পথে নামবে।

আরও পড়ুন-‘ঘুষখোর’ শুভেন্দু সারদার ৬ কোটি টাকা নিয়েছেন, সুদীপ্তর চিঠি তুলে ধরে তোপ অভিষেকের

Advt