Sunday, January 11, 2026

সৌদিতে বাংলাদেশি গৃহকর্মীর হত্যায় গৃহকর্ত্রীর ফাঁসি, স্বামীর জরিমানা

Date:

Share post:

খায়রুল আলম (ঢাকা) : সৌদি আরবে কোনও বাংলাদেশিকে হত্যায় দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর প্রথমবারের মতো একজনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে সে দেশের এক আদালত।  সোমবার আদালতের রায়ে বাংলাদেশি গৃহকর্মী আবিরন বেগম হত্যাকাণ্ডে দোষী সাব্যস্ত করে সৌদি গৃহকর্ত্রীকে মৃত্যুদণ্ড এবং গৃহকর্তাকে কারাদণ্ড ও জরিমানা করা হয়েছে। খুলনার পাইকগাছার বাসিন্দা আবিরন বেগম স্থানীয় এক দালালের সহযোগিতায় ঢাকার একটি রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে ২০১৭ সালে সৌদি আরবে যান গৃহকর্মী হিসেবে কাজ করতে।

এরপর ২০১৯ সালের ২৪ মার্চ রিয়াদের আজিজিয়ায় নিহত হন তিনি। তার মরদেহের ফরেনসিক প্রতিবেদনে হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি সামনে আসে। আবিরনের মরদেহ বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনা নিয়ে নানা জটিলতা দেখা দিলে ব্র্যাকের অভিবাসন কর্মসূচির সহায়তার হত্যাকাণ্ডের ৭ মাস পর ওই বছরের ১৪ অক্টোবর তার মরদেহ দেশে ফেরানো হয়। মরদেহের সঙ্গে আসা আবিরনের মৃত্যু সনদে মৃত্যুর কারণ ‘হত্যা’ লেখা ছিল। পরে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন নিহতের পরিবার, নিয়োগকারী সংস্থা, মন্ত্রণালয়, দূতাবাস সব জায়গায় খোঁজ-খবর নিয়ে ডিসেম্বরে একটি প্রতিবেদন জমা দেয়।

আরও পড়ুন-মোদির সফর চূড়ান্ত করতে মার্চের প্রথমে বাংলাদেশ যাচ্ছেন বিদেশমন্ত্রী

সেখানে উল্লেখ করা হয়, সৌদি আরবে যাওয়ার পর থেকেই মধ্যবয়সী আবিরনকে পিটিয়ে, গরম পানিতে ঝলসে এবং আরও নানাভাবে নির্যাতন করা হয়। প্রতিবেদনে অভিযুক্তদের বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনের আওতায় দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং ক্ষতিপূরণ আদায়ের সুপারিশ করা হয়। এরপর নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে পাওয়ার অব অ্যাটর্নি নিয়ে গত ১৬ ডিসেম্বর থেকে শুরু হয় আবিরন হত্যাকাণ্ডের বিচারকাজ। খবরে বলা হয়েছে, মামলার প্রধান আসামি গৃহকর্ত্রী আয়েশা আল জিজানীর বিরুদ্ধে ইচ্ছাকৃত এবং সুনির্দিষ্টভাবে হত্যাকাণ্ড সংঘটনের দায়ে আদালত কেসাস বা জানের বদলে জানের রায় প্রদান করে।

Advt

ওই মামলায় গৃহকর্তা বাসেম সালেমের বিরুদ্ধে হত্যাকাণ্ডের আলামত ধ্বংস, আবিরন বেগমকে নিজ বাসার বাইরে বিভিন্ন জায়গায় কাজে পাঠানো ও চিকিৎসার ব্যবস্থা না করার অভিযোগে মোট ৩ বছর ২ মাসের কারাদণ্ডাদেশ দেওয়া হয়। একইসঙ্গে তাকে ৫০ হাজার সৌদি রিয়াল জরিমানা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মামলার তৃতীয় আসামি সৌদি দম্পতির ছেলের বিরুদ্ধে হত্যাকাণ্ডে সংশ্লিষ্ট থাকার কোনও প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তবে আবিরন বেগমকে বিভিন্নভাবে অসহযোগিতা করায় তাকে সাত মাস কিশোর সংশোধনাগারে থাকার আদেশ দেওয়া হয়েছে। সৌদি আরবে কোনও বাংলাদেশি হত্যার ঘটনায় এই প্রথম কারও মৃত্যুদণ্ডের রায় দেওয়া হলো। তবে আদালতের এই রায়ের বিরুদ্ধে ৩০ দিনের মধ্যে আপিল করার সুযোগ রয়েছে বলে জানা গেছে। আবিরনের মৃত্যুতে সৌদি আরবের আদালত দুঃখ প্রকাশ করেছে। ৬ জানুয়ারি এই মামলার সর্বশেষ শুনানি ছিল। এ সময় আদালত নিহতের পরিবারের দাবি জানতে চাইলে দূতাবাস প্রতিনিধিরা জানিয়েছিলেন যে তারা কেসাস চান। আসামি পক্ষের আইনজীবী গৃহকর্তা বাসেম সালেমির জামিনের আবেদন করলেও আদালত তা নাকচ করে দেয়।

spot_img

Related articles

ভয়ে তালাবন্ধ হয়ে থাকতেন, তাতে রেহাই নেই: ওড়িশায় বাংলা বলায় মার খেয়ে ঘরে ফিরল রাজা

বাংলার পরিযায়ী শ্রমিকদের জন্য ক্রমশ যেন আতঙ্কের জায়গা হয়ে উঠছে প্রতিবেশী রাজ্য ওড়িশা। প্রায় প্রতিদিন বেছে বেছে বাঙালিদের...

IND vs NZ ODI: চোটের জেরে ছিটকে গেলেন পন্থ, পরিবর্ত বেছে নিলেন নির্বাচকরা

আশঙ্কাই সত্যি হল। নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে একদিনের সিরিজ শুরুর দিনেই বড় ধাক্কা ভারতীয় শিবিরে। চোট পেয়ে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে একদিনের...

কার নির্দেশে কোথা থেকে আচমকা আইপ্যাকে ইডি তল্লাশি: তথ্য ফাঁস কুণালের

কয়লা মামলার অজুহাতে আড়াই বছর পরে রাজনৈতিক পরামর্শদাতা সংস্থা আইপ্যাকের দফতর ও কর্ণধারের বাড়িতে তল্লাশি অভিযান। আদতে নির্বাচনের...

চাকরির টোপ দিয়ে পাচার, মায়ানমারে উদ্ধার ২৭ ভারতীয়

বেশ কয়েক সপ্তাহ ধরেই চলছিল উৎকণ্ঠা। অবশেষে সেই টানটান উত্তেজনার অবসান। মায়ানমারের(Myanmar) দুর্গম এলাকায় পাচার হয়ে যাওয়া ২৭...