সাধন-কন্যা শ্রেয়ার হোর্ডিং সরলো! কয়েক ঘন্টার মধ্যেই বদলে গেল বসিরহাটের ছবি

 

রাস্তায় মোড়ে মোড়ে ফ্লেক্স (Flex) আর হোর্ডিং (Hording) সেখানে তাঁর জোড় হাতে হাসি মুখের ছবি। কোথাও হোর্ডিং-এ ছবির সঙ্গে নেতা-নেত্রীদের স্টাইলে লেখা “সমাজসেবী”, কোথাও লেখা ‘‘নাড়ির টান”! গত ৪৮ ঘন্টা এমনই দৃশ্য দেখেছিল বসিরহাট (Basirhat)। হ্যাঁ, ভোট বাজারে ( Assembly Election) হঠাৎ করে কলকাতা থেকে সটান বসিরহাটে এসে হাজির হয়েছিলেন মন্ত্রী সাধন পান্ডের (Sadhan Pandey) মেয়ে শ্রেয়া পান্ডে (Shreya Pandey)। শুধু আসা-যাওয়াই নয়, চষে বেড়িয়েছেন বসিরহাটের অলিগলি। স্থানীয় মানুষের সঙ্গে জমিয়ে গল্প-আড্ডা। হাসিমুখে সেলফির আবদার মেটালেন। শুধু মণ্ডপে মণ্ডপে নয়, গেলেন অন্য ধর্মীয়স্থানেও। ঠিক যেন ভোটের আগে ভোটের প্রচার! শ্রেয়া আবার দাবি করেছেন, তিনি বসিরহাটের মানুষ।

 

কিন্তু কয়েক ঘন্টার মধ্যেই বদলে গেল ছবিটা। সরস্বতী পুজোর আগের দিন সকালে শ্রেয়ার যে ফ্লেক্স-হোর্ডিং-এ রংচং-এ হয়ে উঠেছিল বসিরহাট, পুজো মিটতেই সেই ছবি দেওয়া বেশ কিছু হোর্ডিং সরিয়ে ফেলা হল পথঘাট থেকে। কেনই-বা হঠাৎ হোর্ডিং লাগানো হলো, কেনই-বা সেই সেই হোর্ডিং খুলে ফেলার কাজেও সক্রিয়তা দেখা গেল, তা বোধগম্য হচ্ছে না অনেকেরই। আবার এই দুই ঘটনায় রাজনীতির রং দেখছেন কেউ কেউ।

মন্ত্রী সাধন পাণ্ডের মেয়ে হঠাৎ কলকাতা ছেড়ে বসিহাটে এসেই সরস্বতী পুজোয় মেতে উঠলেন। তাঁকে নিয়েই বা এত মাতামাতি, আলোচনা কেন? হঠাৎ কীভাবে “কাছের মানুষ” হয়ে উঠলেন তিনি? ইত্যাদি এমন অনেক প্রশ্ন নিয়েই

উস্কে উঠেছে জোর জল্পনা! তবে কি এবার ভোটে দাঁড়াচ্ছেন সাধন কন্যা? আর সেক্ষেত্রে বসিরহাট দক্ষিণ বিধানসভা কেন্দ্র থেকেই কি প্রার্থী হচ্ছেন শ্রেয়া পান্ডে? রাজনৈতিক মহলে কান পাতলে এখন এই এমনই কানাঘুষো শোনা যাচ্ছে। কৌতূহল বাড়ছে বসিরহাটবাসীর মধ্যে।

যদিও এ প্রসঙ্গে খোলসা করে কিছুই বলেননি শ্রেয়া পান্ডে। তবে হ্যাঁ, তিনি যে নির্বাচনে পদপ্রার্থী হতে চান, নিজের সেই ইচ্ছের কথা গোপনও করেননি সাধন কন্যা। প্রশ্ন এখন, ভোটে লড়লে বাবা মন্ত্রী সাধন পান্ডের দলীয় প্রতীকেই কি তিনি দাঁড়াবেন? নাকি অন্য দলে যোগ দিচ্ছেন শ্রেয়া? না, কোনও প্রশ্নেরই এখনও স্পষ্ট কোনও উত্তর মেলেনি।

প্রসঙ্গত, সরস্বতী পুজোর আগের দিন সোমবার বসিরহাট দক্ষিণ বিধানসভা এলাকায় পৌঁছে যান মন্ত্রী সাধন পান্ডের কন্যা। রীতিমত ভোট প্রচারের স্টাইলে মন্ডপে মন্ডপে ঘোরেন। মন্দিরে যান। দরগায় যান। সেখানে গিয়ে মানুষের সঙ্গে আলাপচারিতা সারেন। যুবক-যুবতীদের আবদার রাখতে তাদের সঙ্গে সেলফি তোলেন। কিন্তু হঠাৎ কী এমন হল যে, ভোটের বাজারে কলকাতা থেকে এসে সমাজসেবী পরিচয়ে বসিরহাটের সর্বত্র ঘুরে বেড়ালেন শ্রেয়া পান্ডে? এখানেই উঠছে প্রশ্ন।

বসিরহাটবাসীর কথায়, সরস্বতী পুজো উপলক্ষে এভাবে শুভেচ্ছা-মঙ্গলকামনা জানিয়ে এধরনের ব্যানার আগে কখনও দেখা যায়নি। আচমকাই বসিরহাট শহর ছয়লাপ হয়ে গিয়েছে মন্ত্রী সাধন পান্ডের কন্যার ছবি দেওয়া পোস্টার-ব্যানারে। স্কুল, আদালত, পুরসভা, ব্রিজের ধার থেকে শহরের অলিতেগলিতে সর্বত্র নজরে এসেছে এই পোস্টার। তবে কি ফুটবলার বিধায়ক দীপেন্দু বিশ্বাসকে সরিয়ে মন্ত্রী তনয়াকে প্রার্থী করছে শাসক দল? রাজনৈতিক মহল থেকে সাধারণ মানুষ, তুঙ্গে জল্পনা। এখানে-ওখানে জটলায় কান পাতলেই শোনা যাচ্ছে এই একটাই প্রশ্ন।

এদিকে হোর্ডিং খুলে ফেলার বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে, শাসক দলেরই একটি গোষ্ঠী শ্রেয়ার ছবি দেওয়া হোর্ডিংয়ে শহরময় সাজিয়ে ছিল। বিতর্ক দানা বাঁধায় সেগুলি খুলে ফেলা হয়। কিন্তু সেটা অপর গোষ্ঠীর লোকজন খুলে ফেলেছে কিনা, তা নিয়েও উঠছে প্রশ্ন। বিষয়টি নিয়ে অবশ্য জেলা তৃণমূল সভাপতি জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের স্পষ্ট বক্তব্য, ‘‘এখানে গোষ্ঠীর কোনও ব্যাপার নেই। কাকে প্রার্থী করা হবে, তা দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঠিক করবে।

Advt