দলিতদের খুনিরাই বলছে দলিতদের নাগরিকত্ব দেবে! বিজেপিকে কটাক্ষ ব্রাত্যর

কেন্দ্র-রাজ্য একসুতোয় বাঁধা থাকবে। তাহলেই রাজ্যের উন্নতি-অগ্রগতিতে জোয়ার আসবে। অর্থাৎ, যাকে বলে “ডবল ইঞ্জিন” (Double Engine)সরকার। নরেন্দ্র মোদি (Narendra Modi)-অমিত শাহ (Amit sah) হোন কিংবা রাজ্যের বিজেপি (BJP) নেতারা, ভোটের ময়দানে আপাতত এই “স্লোগান” চালিয়ে দিয়েছেন। তবে চুপ করে বসে নেই শাসক তৃণমূলও (TMC)।

আজ, শুক্রবার তৃণমুল ভবনে সাংবাদিক বৈঠকে রাজ্যের মন্ত্রী ব্রাত্য বসু (Bratya Basu) “ডাবল ইঞ্জিন সরকার” স্লোগান নিয়ে বিজেপিকে কটাক্ষ করতে ছাড়লেন না। ডবল ইঞ্জিন নিয়ে তাঁর পাল্টা যুক্তি, বিজেপি শাসিত গুজরাত, উত্তরপ্রদেশের থেকে সব দিকে বাংলা এগিয়ে।

এদিন ব্রাত্য বসু বলেন, ”’মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমলে বাংলায় সামাজিক ও আর্থিক নবজাগরণ হয়েছে। উত্তরপ্রদেশ, গুজরাত ক্রমশ পিছিয়েছে। বাংলা কিন্তু এগিয়েছে। আমরা হিন্দিভাষী মানুষের পক্ষে। তবে এই ভয়ঙ্কর বিজেপি দলের বিরুদ্ধে। একুশে ফের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিপুল জয়ের মধ্যে দিয়ে চব্বিশে দেশজুড়ে বিজেপির পতন সুনিশ্চিত হবে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে শুধু জেতালে হবে না। চব্বিশে বিজেপির উৎখাতের রাস্তাও সাধারণ মানুষকে তৈরি করতে হবে।”

এখানেই শেষ নয়। তথ্য তুলে ধরে ব্রাত্য বসু বলেন, “রাজ্যের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা নিয়ে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব বারবার প্রশ্ন তুলছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় করোনার সময় কী করেছে ওরা জানেই না। এখন বাংলায় করোনা থেকে সুস্থতা একশো শতাংশ। কোভিড রোগী একজনও নেই। শিশু মৃত্যুর হার মধ্যপ্রদেশে ৪৮ শতাংশ। উত্তরপ্রদেশে ৪৩। গুজরাতে ২৪। বাংলায় ২২ শতাংশ। রাজ্য ভিত্তিক মাতৃ-মৃত্যুর হার মধ্যপ্রদেশে ১৭৩ শতাংশ। উত্তরপ্রদেশে তাক লাগিয়ে দেওয়ার মতো সংখ্যা। ১৯৭ শতাংশ। বাংলায় ৯৮ শতাংশ। গুজরাতে তো ডাবল ইঞ্জিন সরকার। কিন্তু সেই রেল চলে ধীর গতিতে। ডাবল ইঞ্জিন যাঁরা বলছেন তাঁদের এসব তথ্য দিতে চাই। সরকারি হাসপাতালে বেড- উত্তরপ্রদেশে ৭৬ হাজার। মধ্যপ্রদেশে ৩১ হাজার। কর্ণাটকে ৬৯০০০। গুজরাতে ২০,১২৭। বাংলায় ৮৫,৬২৭। টাটা ডাবল ইঞ্জিন, বাই বাই। কলকাতা সব থেকে নিরাপদ শহর। ২০১৯-এ উত্তরপ্রদেশে মহিলাদের অপরাধের সংখ্যা সব থেকে বেশি। মহিলাদের বিরুদ্ধে সংগঠিত অপরাধ উত্তরপ্রদেশে সব থেকে বেশি। তবে এখন বাংলাতেও এই সংখ্যা কিছুটা বেড়েছে। আসলে এখন বাইরে থেকে লোক আসছে। মহিলাদের উপর অত্যাচার বাড়ছে। আমাদের পুলিস নজর রাখছে।”

দলিতদের উপর অত্যাচারের প্রসঙ্গ তুলে ব্রাত্য বসু বলেন, ”তফশিলি, মতুয়া নিম্নবর্গের মানুষের প্রতি অপরাধ বাংলায় ০.৩। রোহিত ভেমুলার হত্যাকারীরা, দলিতদের খুনিরা বনগাঁয় গিয়ে বলছে, আমরা আপনাদের নাগরিকত্ব দেব। শ্রী শ্রী হরিচাঁদ ঠাকুর, শ্রী শ্রী গুরুচাঁদ ঠাকুর এসব ফ্যাসিস্টদের বিরুদ্ধে সরব হয়েছিলেন। এখানে বিজেপি ক্ষমতায় এলে মতুয়া বাড়ির ছেলেদের আলাদা থালা-বাসন দেবে। আর উচ্চবর্ণের জন্য আলাদা বাসন। ডাবল ইঞ্জিন করে এসব করবে বিজেপি। গণপ্রহার আইন পাস করেছে আমাদের রাজ্য। আর ডাবল ইঞ্জিন সরকারের রাজ্যে দলিতদের পিটিয়ে মারা বৈধ।”

আরও পড়ুন- করোনা আবহে ভোট, নিয়মকানুনে কী কী বদল আনল কমিশন?


Advt