আব্বাস ঠিক কথা বলেননি: জোটের ভাঙন রুখতে বলতে হল বিমানকে

বাম-কংগ্রেস জোট এ কি এখন কাঁটা আইএসএফ? রবিবার, ব্রিগেডে বাম-কংগ্রেসের (Left-Congress) সঙ্গে মঞ্চে হাত ধরাধরি করে দাঁড়ালেও সোমবার আসন ভাগাভাগির বৈঠকে ডাকা হয়নি আব্বাস সিদ্দিকির (Abbas Siddiqui) দলকে। উল্টে কংগ্রেসের বিষয়ে আব্বাসের যে ঠিক কথা বলেননি সে কথাও বলতে হল বামফ্রন্ট চেয়ারম্যানকে। এদিন বৈঠকে বসে বাম এবং কংগ্রেস; ছিলেন বিমান বসু (Biman Basu), সূর্যকান্ত মিশ্র (Suryakanta Mirshra), অধীররঞ্জন চৌধুরী (Adhirranjan Chowdhury), প্রদীপ ভট্টাচার্যরা (Pradip Bhattacharya)।

ব্রিগেডের মঞ্চ আব্বাসকে নিয়ে বাম নেতাদের যে মাতামাতি দেখা গিয়েছিল, 24 ঘণ্টা পেরোতেই তার সুর গিয়েছে বদলে। এদিন বৈঠকের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসু জানান, কংগ্রেসকে নিয়ে আব্বাসের বক্তব্যকে সমর্থন করে না বামেরা। শুধু তাই নয়, জোটে থাকতে গেলে সবাইকে একরকম কথা বলতে হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। বলেন, “আশা করি আইএসএফ-এর (Isf) সেটা উপলব্ধি হবে”। একইসঙ্গে বিমান বসু জানান, এই সংযুক্ত মোর্চার আসন সমঝোতা আলোচনার মধ্যেই হবে। তাঁরা বারবার আলোচনা করে রাজ্যের সব আসনেই বোঝাপড়া ঠিক করতে চাইছেন।

সাংবাদিক বৈঠকে অধীর চৌধুরী জানান, “বামেদের সঙ্গে আলোচনার পর কংগ্রেস 92 টি আসন সুনিশ্চিত করতে পেরেছি। এর বেশি আসন হয়তো বামেদের কাছে দাবি করলে বিষয়টি ভেবে দেখা হত। কিন্তু সেকুলার ফ্রন্ট-সহ অন্যান্য কয়েকটি দল জোটে যুক্ত হওয়ার ফলে তাদের জন্য আসন ছেড়ে রফাসূত্রে যেতে হচ্ছে”। এনসিপি (Ncp), আরজেডিও (Rjd) তাঁদের জোটে থাকতে চেয়েছেন বলে দাবি অধীরের। তাঁর মতে, অন্য জোট শরিকদের সঙ্গে আসন ভাগাভাগি কংগ্রেসের 92 টি আসন ছেড়ে তারপরেই হবে। মঙ্গল-বুধবারে, মধ্যে প্রথম দফার প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করবে কংগ্রেস।

একইসঙ্গে অধীর জানান, রবিবার ব্রিগেডের মঞ্চ তিনি আব্বাসের উপস্থিতিতে ক্ষুব্ধ ছিলেন না। জনতার উন্মাদনার জন্য সাময়িক বক্তব্য বন্ধ রেখেছিলেন মাত্র।

তবে, এদিন আব্বাস সিদ্দিকি সম্পর্কে বামেরা যথেষ্ট কড়া মনোভাব দেখিয়েছে। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, কংগ্রেসের সম্পর্কে আইএসএফ নেতার মন্তব্য যে বাম-কংগ্রেস জোট ফাটল ধরাতে পারে সেই ইঙ্গিত পেয়েই এদিন কংগ্রেসকে পাশে নিয়ে জোট বার্তা অক্ষুণ্ন রাখতে চাইলেন বিমান বসু।