পামেলা কোকেন কাণ্ড: চাঞ্চল্যকর দাবি কলকাতা পুলিশের! ফের রাকেশ সিংয়ের পুলিশ হেফাজত

পামেলা (Pamela Goswami) কোকেন কাণ্ডে (Drug Case) নয়া মোড়! আদালতের কাছে CCTV ফুটেজ জমা দিয়ে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ কলকাতা পুলিশের (Kolkata Police)। বিজেপি (BJP) যুবমোর্চা নেত্রী পামেলার গ্রেফতারির দিনের সংশ্লিষ্ট এলাকার সমস্ত CCTV ফুটেজ আলিপুর আদালতে (Aalipur Court) জমা দিয়েছেন তদন্তকারীরা। সেখানে স্পষ্ট, এই কোকেন কাণ্ডের চক্রান্তের পিছনে বিজেপির বাহুবলী নেতা রাকেশ সিংয়ের (Rakesh Singh) যুক্ত থাকার সমস্ত প্রমাণ মিলেছে, আজ সোমবার আদালতে দাঁড়িয়ে জোর গলায় এমনটাই দাবি করেয়ছেন সরকার পক্ষের আইনজীবী (PP) সুরেশ প্রসাদ সিং (Suresh Prasad Singh) । শুধু তাই নয়, পামেলা রাকেশের বিরুদ্ধে যে যে অভিযোগ করেছেন, সেগুলির যথেষ্ট ভিত্তি আছে বলেই মনে করছেন সরকার পক্ষের আইনজীবী। তাই বিজেপি নেতাকে এখনও হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন বলে তিনি এজলাসে আর্জি করেন।

এরপরই বিজেপির দাপুটে নেতা রাকেশ সিং, সুরজ ও জিতেন্দ্রকে আগামী ৯ মার্চ পর্যন্ত পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দিল আদালত। তাঁকে ফাঁসানো হয়েছে। গ্রেফতারের পর থেকে বার বারই সেই দাবি করে আসছিলেন পামেলা গোস্বামী (Pamela Goswami)। সোমবার কার্যত তাতেই সিলমোহর দিলেন সরকারি আইনজীবী। গাড়ি থেকে যে কোকেন মিলেছে তা কিনতে টাকা ঢেলেছিলেন বিজেপি নেতা রাকেশ সিং (Rakesh Singh)। এমনটাই আদালতে জানালেন সরকারি আইনজীবী।আর সেই কারণে রাকেশ সিংয়ের (Rakesh Singh) বিরুদ্ধে ২৭-এর A ধারা যোগ করতে আবেদন করা হয় সরকারি তরফে।

এদিন আদালতে সরকারি আইনজীবী জানান, “পামেলার গ্রেফতারির দিনের CCTV ফুটেজে দেখা যাচ্ছে, একটি গাড়ি থেকে চালক নেমে গেল। তারপর ওই গাড়ি থেকেই নামছেন পামেলা (Pamela Goswami) ও প্রবীর। আর তারপরই দেখা গেল, অমৃত সিং নামে এক যুবক গাড়ির মধ্যে বসেই জ্যাকেট খোলার চেষ্টা করছে একটু নিচু হয়ে। তারপর সেও গাড়ি থেকে নেমে যায়। অমৃত সিং যে জায়গা থেকে নেমে যায়, গাড়ির সেই জায়গা থেকেই কোকেন মিলেছে। গাড়ি থেকে নেমে একটু হেঁটে সে যে স্কুটিতে চেপে মোমিনপুর পর্যন্ত যায়, সেখান থেকে নেমে বাসে করে অরফানগঞ্জে পৌঁছয়। তারওরপর রাকেশের (Rakesh Singh) বাড়ি যায়। পরে সেখান থেকেই সে পালায়। এই সময়ের মধ্যে রাকেশের সঙ্গে তার কথোপকথনের সমস্ত তথ্য আমাদের কাছে আছে। সেগুলি আদালতে জমা দিয়েছি।”

অন্যদিকে, রাকেশ সিংয়ের আইনজীবী সামসুং কুরিয়ান দাবি করেন, তাঁর মক্কেলকে জোর করে ফাঁসানো হচ্ছে। এখনও পর্যন্ত পুলিশ কিছু বাজেয়াপ্ত করতে পারেনি। তাঁর মক্কেলকে পুলিশ হেফাজতে টর্চার করা হচ্ছে। সেই সংক্রান্ত মেডিক্যাল রিপোর্ট আদালতে তুলে ধরেছেন তাঁরা। এবং জামিনের আবেদন করেছেন। যদিও তাঁদের আবেদন মঞ্জুর করেননি বিচারক রানা দাম।