পাখির চোখ মুর্শিদাবাদ, ২২-এ ২২ টার্গেট বেঁধে প্রচারে ঝড় তুলছে তৃণমূল

একুশের নির্বাচনে বিজেপিকে ধরাশায়ী করতে রাজ্যে একাধিক জেলার পাশাপাশি মুর্শিদাবাদকেও(Murshidabad) এবার পাখির চোখ করেছে তৃণমূল(TMC)। অধীর গড়ে ভাঙন ধরিয়ে ২২-শে ২২ টার্গেট নিয়েই এবার মাঠে নেমেছে ঘাসফুল। আর সেই লক্ষ্যে রীতিমত ঝড় তোলা হয়েছে প্রচারে। বৈশাখের শুরুতেই এই জেলায় প্রচারে আসছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়(Mamata Banerjee)। তার আগে এখানে প্রচার সারবেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়(Abhishek Banerjee)। এছাড়াও প্রার্থী ঘোষণা হওয়া ইস্তক বকলমে মুর্শিদাবাদ দলের দায়িত্বে থাকা পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম ইতিমধ্যেই জেলার বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিধানসভায় জনসভা করেছেন। কোমর বেঁধে মাঠে নেমেছেন মুর্শিদাবাদের তৃণমূল জেলা সভাপতি আবু তাহের খান। সবমিলিয়ে ক্ষমতা দখলের লড়াইয়ে মুর্শিদাবাদের ২২ টি আসনকে অন্যতম বড় ফ্যাক্টর হিসেবে ধরে নিয়েই এবার মাঠে নেমেছে তৃণমূল।

একুশের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই সেজে উঠেছে সমস্ত রাজনৈতিক দলগুলি। তবে নির্বাচনে কোনো দলই স্বস্তিজনক অবস্থায় নেই বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। এহেন অবস্থায় মুর্শিদাবাদ জেলা তৃণমূলের কাছে এই নির্বাচনে অন্যতম প্রেস্টিজ ফাইট। ২০১১ সালে পালাবদলের পর ২০১৬ সালের নির্বাচন পর্যন্ত এই জেলাতে তৃণমূল বিধায়ক সংখ্যা ছিল মাত্র চারজন। যদিও ২০১৬ সালে এই জেলা থেকে একাধিক কংগ্রেস ও বাম নেতা তৃণমূলে যোগ দেওয়ার পর ২০১৯ সালে তার সুফল পায় ঘাসফুল। মুর্শিদাবাদ থেকে ২ জন সাংসদ জিতে আসেন তৃণমূলের প্রতীকে। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই জেলায় গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব অন্যতম ফ্যাক্টর হয়ে দাঁড়ায়। যে সামাল দিতে কার্যত হিমশিম খেতে হয় শীর্ষ নেতাদের।

আরও পড়ুন:পাহাড়ে প্রতিশ্রুতির বন্যা, নাগরিকত্ব নিয়ে গোর্খাদের আশ্বাসের চেষ্টা অমিতের

যদিও বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে রাজ্যের দলবদলের হিড়িক পড়লেও, সে হিড়িকে গা ভাষায়নি মুর্শিদাবাদ। তবে ‘ঘর শত্রু বিভীষণের’ সংখ্যা যে বেড়েছে তা অস্বীকার করছেন না রাজ্য নেতারা। এদিকে ঘাড়ের উপর নিশ্বাস ফেলছে সংযুক্ত মোর্চা ও বিজেপি। এমন অবস্থায় ৯ বিধায়ক ও ২ সাংসদ নিয়ে অধীর গড়ে ফাটল ধরিয়ে নিজেদের পালে হাওয়া কেড়ে নিতে তৈরি জেলা ও রাজ্য নেতারা। এ ক্ষেত্রে মূল হাতিয়ার করা হয়েছে প্রচারকেই। সূত্রের খবর, ভোট প্রচারে রাজ্যস্তরের নেতাদের আরও বেশি করে মুর্শিদাবাদে আনা যায় কিনা তারজন্য জেলা নেতাদের সঙ্গে একাধিক বৈঠক করছেন রাজ্য নেতারা।

Advt