নস্টালজিয়া! ১০ বছর পরে মমতার পাড়ায় বক্তা কুণাল

ভবানীপুর কেন্দ্র। তৃণমূল (Tmc) প্রার্থী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের (Shobhandev Chatterjee) সমর্থনে মঙ্গলবার সন্ধেয় সভা করলেন তৃণমূল মুখপাত্র কুণাল ঘোষ (Kunal Ghosh)। আর সভায় বলতে উঠে নস্টালজিক হয়ে পড়েন তিনি। মনে করেন, ১০ বছর আগে কথা। ২০১১ সাল, ভবানীপুর (Bhabanipur) কেন্দ্রে উপনির্বাচনের প্রার্থী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Bandopadhyay)। এদিকে তখন কালিম্পং-এ ভূমিকম্প। বিপর্যয়ে পড়া মানুষের পাশে থাকার জন্য নির্বাচনের কাজ ছেড়ে পাহাড়ে চলে গিয়েছেন মমতা। আর তৃণমূল নেতা-কর্মীদের নিয়ে এলাকায় একের পর এক সভা করে চলেছেন কুণাল ঘোষ। এদিনের মঞ্চ থেকে সে কথা স্মরণ করে তৃণমূল মুখপাত্র বলেন, “ভবানীপুর আমার কাছে নস্টালজিয়া। ১০ বছর আগে এখানে প্রচারে এসেছিলাম। আমি বলব, সেই সময়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভুল লোকদের বিশ্বাস করেছিলেন। সেই সময় তৃণমূল নেত্রী যাঁদের অন্ধবিশ্বাস করেছিলেন, তাঁরাই তখন আমার পিঠে ছুরি মেরেছিলেন। এখন মমতাদির পিঠে ছুরি মেরে চলে গিয়েছেন। আর অনেক ঝড়-জল সামলেও কুণাল ঘোষ এখনও তৃণমূলের মঞ্চেই রয়েছেন”। এই কথা বলতেই তুমুল হাততালি দিয়ে ওঠে সভায় উপস্থিত জনতা। মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন সুখেন্দুশেখর রায় এবং মদন মিত্র।

আরও পড়ুন- চাপের মুখে পিছু হটতে বাধ্য হলেন মোদি? বঙ্গে ভার্চুয়াল সভা করার পরিকল্পনা

কুণাল বলেন, শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ। অত্যন্ত সজ্জন-ভদ্র মানুষ। এলাকার উন্নয়নের স্বার্থে তাঁকেই ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান কুণাল। একইসঙ্গে নাম না করে তুলোধোনা করেন বিজেপি (Bjp) প্রার্থী রুদ্রনীল ঘোষের (Rudranil Ghosh)। কুণাল বলেন, বিজেপির এমন দেউলিয়া অবস্থা যে, ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত তৃণমূল সরকারের কমিটিতে থেকে যিনি মোটা টাকা বেতন নিয়েছেন, তাঁকেই এখন প্রার্থী করতে হচ্ছে। তৃণমূল মুখপাত্র জানান, একজন অভিনেত্রী রুদ্রনীলের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানিয়ে তাঁকে ফোন করেছিলেন। সেই অভিনেত্রীর অভিযোগ, ধর্ষণের মামলা থেকে রেহাই পেতে তৃণমূলের মঞ্চ ব্যবহার করে এখন বিজেপিতে গিয়ে ভিড়েছে রুদ্রনীল।

কেন্দ্রের জনবিরোধী নীতির সমালোচনা করেন কুণাল ঘোষ। তিনি বলেন, বিজেপি “জয় শ্রীরাম” ধ্বনি দিচ্ছে, আর এদিকে রান্নার গ্যাসের দাম বাড়ছে, পেট্রোল-ডিজেলের দাম বাড়ছে, ব্যাঙ্কে কমছে স্বল্প সঞ্চয়ের সুদ।

পাশাপাশি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জনহিতকর কাজের খতিয়ান তুলে ধরেন তৃণমূল মুখপাত্র। ভিড়ে ঠাসা ছিল মঙ্গলবার সন্ধেয় কুণালের জনসভা। দলবদলুদের নাম করতেই সভা থেকে আওয়াজ ওঠে ‘গদ্দার’।

আরও পড়ুন- সংক্রমণ বৃদ্ধি অব্যাহত, সরকারি হাসপাতালগুলিতে বাড়তে চলেছে কোভিড বেডের সংখ্যা

Advt