সিপিএমের ভুলেই বাংলা বিধানসভা আজ বামশূন্য, তোপ লিবারেশন নেতা দীপঙ্করের

সিপিএমের (cpim) ভুল নীতি ও ব্যর্থতার কারণেই বাংলা বিধানসভা আজ বামশূন্য। এবারের ভোটের মূল ইস্যুটিকে ধরতেই ব্যর্থ হয়েছেন সিপিএম নেতারা। তাঁরা মানুষকে বোঝাতে গিয়েছিলেন, তৃণমূলকে আমরাই হারাতে পারি। বিজেপির চেয়ে আমরা ভাল। ভোটের মূল ইস্যুটিকে ধরতে পারেননি বলেই মানুষ ওদের প্রত্যাখ্যান করেছে। উল্টে, বিজেপিকে ঠেকাতে ভরসাযোগ্য বিকল্প হিসাবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তৃণমূলকেই বেছে নিয়েছেন বাংলার মানুষ। বাংলা বিধানসভা বামশূন্য হওয়ার পর এই প্রতিক্রিয়া দিলেন সিপিআইএমএল লিবারেশনের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক দীপঙ্কর ভট্টাচার্য (dipankar bhattacharya)

প্রসঙ্গত, সংযুক্ত মোর্চা গঠন বা একইসঙ্গে তৃণমূল ও বিজেপি দুই দলকেই মূল শত্রু হিসাবে ঘোষণা, ভোটের আগে সিপিএম নেতাদের সঙ্গে নীতিগত ফারাকের কথা প্রকাশ্যে উল্লেখ করেছিলেন সিপিআই এমএল লিবারেশন-(cpim liberation) এর সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক দীপঙ্কর ভট্টাচার্য। তিনি বুঝিয়েছিলেন, এই মুহূর্তে বিজেপিই রাজ্য ও দেশ উভয় ক্ষেত্রেই প্রধান শত্রু। সেজন্য বিজেপি বিরোধিতাই অগ্রাধিকার পাওয়া উচিত। কিন্তু তাঁর যুক্তি কানেই তোলেননি সিপিএমের নীতি নির্ধারক নেতারা। উল্টে তৃণমূল বিরোধিতায় জোর দিয়ে আব্বাস সিদ্দিকির মত কট্টর মুসলিম মৌলবাদী নেতার হাত ধরতে উদগ্রীব ছিলেন মহম্মদ সেলিমের মত নেতারা। সাম্প্রদায়িক দলের সঙ্গে গাঁটছড়া বেঁধে বামেদের ধর্মনিরপেক্ষতার ফাঁকা আওয়াজ বাংলার মানুষ প্রবলভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে। এর পরিণতিতে ১৯৪৬ সালের পর এই প্রথম বাংলা বিধানসভা বামশূন্য। ২০১৯ সালের লোকসভা ভোটে একটি আসনও পায়নি বামেরা। আর এবার বিধানসভায় শূন্য হয়ে তীব্র অস্তিত্বের সংকটে তারা।

এই পরিস্থিতিতে বামেদের শূন্য থেকে শুরু করার পরামর্শ দিয়ে বৃহত্তর বাম ঐক্যের সওয়াল করা লিবারেশন নেতা দীপঙ্কর ভট্টাচার্যের পরামর্শ: বিধানসভায় নেই বামেরা, এখন তাঁদের আরও বেশি করে রাস্তায় থাকতে হবে। লড়াই করেই ফিরে আসা যায়। দীপঙ্কর নিজের দলের দৃষ্টান্ত তুলে ধরে বলেন, ২০১০ সালে আমরা বিহারে শূন্য হয়ে গিয়েছিলাম। ২০১৫ সালে হই ৩। আর ২০২০ সালে আমাদের প্রাপ্তি ১২। দীপঙ্কর ভট্টাচার্য বলেন, বাংলায় এবারের ভোটে বিজেপির ফ্যাসিবাদ বনাম গণতন্ত্রের যে মেরুকরণ ঘটেছে তার ফলেই জিতেছে তৃণমূল।

Advt