Saturday, March 14, 2026

ক্লান্তিহীন কান্তি, হারের হ্যাট্রিকের পরেও করোনা হাসপাতাল খুললেন এই “রেড ভলেন্টিয়ার”

Date:

Share post:

তিনি কাজের মানুষ, কাছের মানুষ। বাম আমলে রাজ্যের দাপুটে মন্ত্রী। কিন্তু ২০১১ সালে রাজ্যে রাজনৈতিক পালা বদলের পর থেকে শুধুই পরাজয় সঙ্গী হয়েছে তাঁর। গতবছর করোনা (Corona) আবহের মধ্যে গোদের উপর বিষ ফোঁড়ার মতো আমফানের (Amphun) তাণ্ডবে যখন দিশেহারা সুন্দরবনের মানুষ, তখন তাঁদের আলোর দিশা দেখিয়ে ছিলেন তিনি। তিনি কান্তি গাঙ্গুলি (Kanti Ganguly)। সিপিএম (CPIM) নেতা। রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী। রায়দিঘির (Roydighi) প্রাক্তন বিধায়ক। এবার বিধানসভা ভোটে (Assembly Election) হারের হ্যাট্রিক হয়েছে। তবে ক্লান্তিহীন কান্তি। মানুষ হয়ে কাজ করার জন্য জন প্রতিনিধি হওয়ার প্রয়োজন পড়ে না। প্রয়োজন মানসিকতার। এবং সেই মানসিকতা দেখিয়েই এখন রেড ভলান্টিয়ার (Red Volunteers) হিসেবে কাজ করছেন কান্তিবাবু।

ভোটে হারার পর মুছড়ে পড়েননি, বরং করোনা কালে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে ব্যক্তিগত উদ্যোগে চালু করে দিয়েছেন “দাওয়াখানা”। সিপিএমের যুব সংগঠন ডিওয়াইএফআই-কে সঙ্গে নিয়ে বুড়ো কান্তি এখনও তরুণ-তুর্কিদের মতো লড়ছেন। এবার লড়াই করোনা সংক্রমণের বিরুদ্ধে। করোনা রোগীদের জন্য বা অন্য যে কেউ সেখান থেকে প্রয়োজন মতো ওষুধ, মাস্ক নিচ্ছেন।

শুধু ওষুধ বিতরণ কেন্দ্র নয়, করোনা রোগীদের জন্য বিশেষ হাসপাতাল তৈরি হলো কান্তি গাঙ্গুলির উদ্যোগে। কালান্তক করোনা! একুশের আরও ভয়ঙ্কর হয়ে ফিরে এসেছে মারণ ভাইরাস। সংক্রমণে লাগাম পরাতে গিয়ে হিমশিম অবস্থা প্রশাসনের। কার্যত লকডাউন চলছে রাজ্যে। মৃত্যু যে থামছে না! গত বছর করোনা আক্রান্ত হয়ে প্রয়াত হন প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়, অভিনেতা সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়। চলে যান চিকিত্‍সক বিপ্লব দাশগুপ্ত। আর এবছর ‘মৃত্যুমিছিল’-এ কবি শঙ্খ ঘোষ, ২৪ ঘণ্টার এডিটর অঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায়দের মতো আরও অনেকে। তাঁদের স্মরণ করেই যাত্রা শুরু হয়েছে প্রতিবন্ধী ভিলেজ কোভিড রিলিফ সেন্টারের।

শহরের উপকণ্ঠে ইএম বাইপাস সংলগ্ন মুকুন্দপুরে (Mukundapur) করোনা আক্রান্তদের এই পুর্নবাসন কেন্দ্রটির নেপথ্যে সেই সিপিএম নেতা কাজের মানুষ, কাছের মানুষ কান্তি গঙ্গোপাধ্যায়। আপাতত ৫০টি শয্যা নিয়ে চালু হল এই কেন্দ্র। লক্ষ্য, শয্যা সংখ্যা বাড়িয়ে ১০০ করা।

এই প্রতিবন্ধী কোভিড রিলিফ সেন্টারে (Protibondhi Vivid Relief Centre) কেমন পরিষেবা মিলবে? কান্তি গাঙ্গুলির কথায়, “এটি হাসপাতাল নয়, পুর্নবাসন কেন্দ্র। যতক্ষণ না হাসপাতালে বেড পাচ্ছেন, ততক্ষণ এখানে থাকতে পারবেন করোনা রোগীরা। টাকা-পয়সা লাগবে না। একেবারে নিখরচায়। তবে, সাধারণ মানুষের কাছ আমরা সাহায্য চাইছি। সকলকে এগিয়ে আসার আবেদন জানাচ্ছি। আমরা কৃতজ্ঞ শ্রমজীবী স্বাস্থ্য উদ্যোগ ও ওয়েস্ট বেঙ্গল ডাক্তার’স ফোরামের কাছে। মানুষ মানুষের সাহায্যে পাশে এসে দাঁড়াক, এটাই আমার প্রার্থনা।”

Advt

 

spot_img

Related articles

হরমুজ থেকে ভারতের দিকে রওনা দিল জাহাজ: আসছে এলপিজি ট্যাঙ্ক

অবশেষে হরমুজে আটকে থাকা ভারতের জাহাজগুলিকে ছাড়ার অনুমতি দিল ইরান। ভারত সরকারের পক্ষ থেকে পূর্ব হরমুজে (Strait of...

সাপ্লিমেন্টারি তালিকা কবে? কমিশনের কর্মশালায় একগুচ্ছ প্রশ্ন তৃণমূলের 

বিধানসভা ভোটের রণদামামা বাজার আগেই ভোটার তালিকা নিয়ে নিজেদের আপত্তির কথা আরও একবার স্পষ্ট করল তৃণমূল কংগ্রেস। শুক্রবার...

মোদি রাজ্যে পা রাখার আগেই ‘গো ব্যাক’! বিরাট হোর্ডিং শহরজুড়ে

বিজেপির রাজ্য নেতাদের কলঙ্কিত অত্যাচারে বিধ্বস্ত গোটা বাংলা। বারবার তাঁদের ডেইলি প্যাসেঞ্জার জাতীয় নেতারা এসে যে পেপ-টক দেওয়ার...

কর্মীদের চোখের চিকিৎসায় উদ্যোগী মার্লিন গোষ্ঠী, দুই কেন্দ্রে আয়োজিত হল পরীক্ষা শিবির 

কর্মীদের শারীরিক সুস্থতা ও স্বাস্থ্যের দিকে নজর দিতে অভিনব উদ্যোগ নিল দেশের অন্যতম আবাসন নির্মাণকারী সংস্থা মার্লিন গোষ্ঠী।...