Saturday, April 4, 2026

ঘূর্ণিঝড়ের দাপটে ফেন্সিং ভেঙে গ্রামে ঢুকতে পারে বাঘ, তাই ড্রোনের সাহায্যে নজরদারি চলছে সুন্দরবনে

Date:

Share post:

 ঘূর্ণি ঝড়ের (cyclone Yass) দাপটে জলোচ্ছ্বাসের প্রাবল্যে ফেন্সিং ভেঙে জঙ্গলের বাঘ(royal Bengal in village) ঢুকে পড়তে পারে লোকালয়ে। বুলবুল, আয়লা এবং আমফান প্রতিটি ঘূর্ণিঝড়ের সময় এই অভিজ্ঞতা হয়েছে সুন্দরবনবাসীর। কিন্তু প্রশাসন এবার আর এই ভুল করতে চায় না। তাই এবার বাড়তি ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে। বনদফতরের বিট অফিস ও ক্যাম্প অফিসে কর্তব্যরত বন কর্মীদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ঘূর্ণিঝড়ের পরে যাতে কোনও ভাবেই জলা জঙ্গল থেকে বাঘ বেরিয়ে লোকালয়ে ঢুকতে না পারে সেদিকে নজর রাখতে। আর তাই এখন থেকেই গ্রাম লাগোয়া জঙ্গলের দিকে ফেন্সিং সরিয়ে নাইলনের জাল লাগানো হচ্ছে। সুন্দরবনের(Sunderban tiger sanctuary) একদিকে ব্যাঘ্র প্রকল্প আর তার পাশেই রয়েছে দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা জেলার বিভাগীয় বন আধিকারিক এর বিশেষ বনাঞ্চল। ইয়াস উপকূলে আছড়ে পড়ার পর সুন্দরবনের জঙ্গলের ক্ষয়ক্ষতি দেখতে এবং বাঘের গতিবিধির ওপর নজর রাখতে ড্রোনের সাহায্যে নজরদারি চালাবেন বনকর্মীরা।

 

ঘূর্ণিঝড়ের দাপটে কোনও ভাবেই যাতে ফেন্সিং ভেঙে বাঘ, হরিণ বা অন্য বন্যপ্রাণী বেরিয়ে আসতে না পারে সেজন্য নদী পথেও টহলদারি চালাবে বন দফতরের কুইক রেসপন্স টিম। ডিএফও মিলন মন্ডলের নেতৃত্বে একটি কুইক রেসপন্স টিম পুরো জেলার পরিস্থিতির ওপর নজর রাখবে। কুলতলি এলাকায় ক্ষয়ক্ষতির দিক মাথায় রেখে অরণ্যপ্রহরী নামের একটি বড় বোট মোতায়েন থাকবে । সেই বোটে থাকবে ১৮ জন সদস্য। তাঁরা দ্রুত এলাকায় গিয়ে ভেঙে পড়া ফেন্সিং দ্রুত মেরামত করবেন।

নজরদারি সত্ত্বেও গ্রামের কোথাও যদি বাঘ ঢুকে পড়ে তাহলে পরিস্থিতি সামলাতে কুলতলি ও ঝড়খালি এই দুই বিট অফিসে দুটি আলাদা টিম তৈরি আছে। তারা যত দ্রুত সম্ভব সেই এলাকায় গিয়ে বাঘকে ঘুমপাড়ানি গুলি ছু়ড়ে কাবু করা হবে। বন দফতরের বোটে ঘুমপাড়ানি বন্দুক, লোহার খাঁচা ও নাইলনের শক্ত , মোটা জাল রাখা হয়েছেl এই গোটা পদ্ধতির নজরদারি চলবে ড্রোনের মাধ্যমে। শুধুমাত্র কুলতলি বিট অফিস এলাকায় দেউলবাড়ি-দেবীপুর, গুড়গুড়িয়া-ভুবনেশ্বরী ও মৈপীঠ-বৈকুণ্ঠপুর এই তিনটি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় ৩৭ কিলোমিটার নাইলনের ফেন্সিং রয়েছে। ঘূর্ণিঝড়ে যোগাযোগ ব্যবস্থা পুরোপুরি বিপর্যস্ত হতে পারে। তাই গভীর জঙ্গলের মধ্যে থাকা বনদফতরের বিট অফিস ও ক্যাম্প গুলিতে অন্তত ১৫ দিনের খাবার, ওষুধ, পানীয় জল মজুত রাখা হয়েছে।

বনকর্মীরা জঙ্গলের ফেন্সিংয়ের নজরদারির পাশাপাশি নদী বাঁধেরও খেয়াল রাখবেন। দুর্গত মানুষকে উদ্ধার করতে ডিভিশনের মোট ৬ লগিং অপারেশন টিম তৈরি করা হয়েছে। সেই টিমে থাকবে ১২ জন সদস্যl বারুইপুর, ক্যানিং, ডায়মন্ড হারবার, নামখানা, রায়দিঘি, রামগঙ্গা মূলত রেঞ্জ অফিসাররাই এই টিমগুলোর নেতৃত্ব দেবেন।

Related articles

মায়ানমারে ক্ষমতায় জুংটা: রাষ্ট্রপতি পদে শপথ সেনাপ্রধান মিন লাইংয়ের

সংসদীয় নির্বাচনে জিতে ফের মায়ানমারের ক্ষমতায় সামরিক দল জুংটা। শুক্রবার দেশের রাষ্ট্রপতি পদে শপথ নিলেন সামরিক প্রধান মিন...

রাহুলের মৃত্যু নিয়ে ম্যাজিক মোমেন্টসের উত্তরে সন্তুষ্ট নয় আর্টিস্টস ফোরাম,শনিতে FIR-র সিদ্ধান্ত

অভিনেতা রাহুলের মৃত্যুতে টলিউডের অন্যতম নামী প্রযোজনা সংস্থা ম্যাজিক মোমেন্টসের (magic moments) বিরুদ্ধে এফআইআর (FIR) করতে চলেছে আর্টিস্টস...

প্রবল ভূমিকম্প আফগানিস্তানে, কম্পন টের পেল কাশ্মীর

রাতের অন্ধকারে প্রবল ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল প্রতিবেশী দেশ আফগানিস্তান। একে যুদ্ধবিধ্বস্ত আফগানিস্তানে (Afghanistan) প্রায় প্রতিদিন মৃত্যু মিছিল লেগে...

পূর্ব ভারতে প্রথম উচ্চ-ক্ষমতা সম্পন্ন ক্যামেরায় পোষ্যদের কানের ভিতর পরীক্ষা AHPL-এ

পূর্ব ভারতে প্রথম পোষ্যদের জন্য সফলভাবে অ্যাডভান্সড ভিডিও অটোস্কোপি/অরাল এন্ডোস্কোপি চালু করেছে অ্যানিমেল হেলথ প্যাথলজি ল্যাব (AHPL)। একের...