‘CBI সব বিষয় এড়িয়ে শুধু মানুষের ভিড় নিয়েই চিন্তিত’, কটাক্ষের সুরে সওয়াল সিংভির

“সমস্ত দিক থেকেই এটি এক অভূতপূর্ব মামলা। এতদিন ধরে শুনানি চলছে, দেখা যাচ্ছে, সব কিছু ছেড়ে CBI শুধু মানুষের ভিড় নিয়েই চিন্তিত”।

হাইকোর্টের বৃহত্তর বেঞ্চে নারদ- মামলা স্থানান্তরের শুনানিতে অংশ নিয়ে বৃহস্পতিবার এভাবেই CBI-কে কটাক্ষ করলেন অভিযুক্তদের কৌঁসুলি অভিষেক মনু সিংভি৷

এদিন CBI-এর তরফে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহেতা’র সওয়াল শেষ হতেই চার অভিযুক্তের তরফে বলতে শুরু করেন সিংভি৷ তবে এদিনও কিছুক্ষণের মধ্যেই শুনানি স্থগিত হয়ে যায়৷ পরবর্তী শুনানি হবে সোমবার৷

◾অভিযুক্তদের কৌঁসুলি অভিষেক মনু সিংভি এদিনের সওয়ালে সরাসরি CBI-কে তোপ দেগে বলেন, “১৭ মে অভিযুক্তদের কথা ডিভিশন বেঞ্চ শোনেনি৷ ওদিকে দেখা যাচ্ছে,অন্য সব বিষয় বাদ দিয়ে CBI বার বার শুধু সেদিনের ভিড়ের বিষয়টাই টেনে আনছে৷ আসলে এ ছাড়া CBI-এর যে আর কিছুই বলার নেই, তা সলিসিটর জেনারেল ভালোই জানেন”৷

◾সিংভি – কীভাবে নিম্ন আদালতের বিচারক বাধাপ্রাপ্ত হলেন, কীভাবে গোটা বিচারব্যবস্থাই বাধাপ্রাপ্ত হলো, কীভাবে বিচারক পক্ষপাতদুষ্ট হলেন, কীভাবে মানুষের ভিড় এই সব ঘটনার জন্য দায়ি, তার কোনও সুনির্দিষ্ট প্রমাণই তো CBI- এর কাছে নেই। CBI তাই একবারও গোটা ঘটনার পূর্ণাঙ্গ আলোচনায় যেতে চাইছে না। কারণ তাহলেই সলিসিটর জেনারেল অসুবিধার মধ্যে পড়বেন।
তাই সব দিক থেকেই এটি অভূতপূর্ব মামলা। CBI এভাবে এড়িয়ে গেলে চলবে কেন ?”

এদিনের শুরু হতেই ফের বৃহত্তর বিচারপতিদের প্রশ্নের মুখে পড়েন CBI- কৌঁসুলি তথা সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহেতা৷

◾শুনানির প্রথমপর্বেই মেহেতা-কে উদ্দেশ্য করে বিচারপতি আই পি মুখোপাধ্যায় প্রশ্ন করেন – ২০১৭ সালে নারদ- তদন্ত শুরু হওয়ার পর কিন্তু এই চারজনকে গ্রেফতার করা হয়নি। গত ১৭ মে সকালে তাঁদের গ্রেফতার করা হলো৷ নিম্ন আদালত থেকে চারজন জামিন পেলেন৷ আপনারা (CBI) হাইকোর্টে ই-মেল করে অভিযোগ জানালেন, হাইকোর্ট তার ভিত্তিতে জামিনে স্থগিতাদেশ দিল। কিন্তু আপনারা (CBI) আদালতের সাধারন নিয়ম মেনে মামলা করতে পারতেন পরের দিন বা তার পরের দিন৷ সেখানেও যদি একই নির্দেশ আদালত দিত, তাহলে আপনাদের (CBI-এর) অধিকার কীভাবে খর্ব হত ? আপনারা হাইকোর্টে যে ই-মেল পাঠিয়েছিলেন সেখানে আইনের কোন ক্যাটেগরি (জনস্বার্থ, রিট ইত্যাদি ) মেনে অভিযোগ করেছেন, তা পরিষ্কার করে বলা ছিল না। এমন অস্বচ্ছ আবেদন CBI কেন করেছিলো ?

◾বিচারপতি সৌমেন সেন – যে ই-মেল CBI পাঠিয়েছিলো, তাকে আমরা মামলার কোন ক্যাটেগরিতে ধরবো ? জনস্বার্থ, জামিন খারিজ, না’কি রিট?
◾মেহেতা – আমাদের চিঠিতে একাধিক অভিযোগ ছিল, যার মধ্যে জনস্বার্থ-ও অন্যতম ছিল।

◾বিচারপতি হরিশ ট্যাণ্ডন – মিঃ মেহেতা, আপনার কি মনে হয় না, বিচারব্যবস্থায় যে শ্রেণিবিন্যাস রয়েছে, সেটাও অত্যন্ত গুরত্বপূর্ণ ?

◾বিচারপতি অরিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় – মিঃ মেহেতা, আপনি বলছেন বৃহত্তর বেঞ্চ নিম্ন আদালতের জামিনের রায় খারিজ করতে পারে। তাহলে তো এই বেঞ্চ জামিনও মঞ্জুর করতে পারে?

◾বিচারপতি আই পি মুখোপাধ্যায়- মিঃ মেহেতা, আমরা যদি অন্য আদালতে মামলা পাঠাই, সেখানে তাহলে কি বিষয়ে বিচার হবে? জামিন পাবে, কি পাবে না।

◾মেহেতা – হাইকোর্ট মনে করলে মামলা স্থানান্তরের নির্দেশ যেমন দিতে পারেন, তেমনই জামিনের আবেদন স্থানান্তরের নির্দেশও দিতে পারেন। জামিনের আবেদন হাইকোর্টে স্থানান্তর করার ক্ষেত্রে কোনও আইনি বাধা নেই। জামিনের মামলা হাইকোর্টে শুনানি তারপর চূড়ান্ত নির্দেশ দিতেই পারে হাইকোর্ট। তবে আগে জামিনের শুনানি হলে এই মামলার বাকি অংশগুলি অপ্রাসঙ্গিক হয়ে পড়বে৷

মেহেতার এই আর্জি খারিজ করে ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি জানান, “আমরা চাই আগে জামিনের আবেদনের শুনানিই এখন শুরু হোক”৷ এর পরেই সওয়াল শুরু করেন সিংভি৷

ওদিকে এই মামলায় CBI পক্ষভুক্ত করেছে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী, আইনমন্ত্রী এবং সাংসদ তথা আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে৷ এদিন আদালতে কল্যাণ জানান, “এ বিষয়ে নিজের বক্তব্য জানিয়ে হলফনামা পেশ করেছি”৷ ওই হলফনামায় কল্যাণ তাঁর বিরুদ্ধে আনা CBI-এর সব অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে বলেছেন, তিনি সেদিন উপস্থিত ছিলেন অভিযুক্তদের আইনজীবী হিসাবে৷

আরও পড়ুন:করোনা কালেও ক্ষুদ্র সঞ্চয় প্রকল্পে বাংলা দেশের সেরা

Advt