‘মৃত’ জানালেন তিনি অমৃতাভ, রেল আধিকারিকদের জড়িত থাকার সম্ভাবনা স্পষ্ট

তিনিই অমৃতাভ চৌধুরী- সংবাদমাধ্যমের সামনে তা স্বীকার করে নিলেন জ্ঞানেশ্বরী (Gyaneswari) দুর্ঘটনায় ‘মৃত’৷ যদিও সিবিআই তদন্তে তিনি জানিয়েছেন রেলের অনেক আধিকারিক, কর্মীরা এর সঙ্গে যুক্ত। যে টাকা পেয়েছিলেন তা সুদ-সহ তিনি ফেরত দিয়ে দেবেন। এমনকী, তাঁর যে আত্মীয়া চাকরি পেয়েছিলেন তিনিও তা ছেড়ে দেবেন বলে সংবাদমাধ্যমের সামনে জানান অমৃতাভ চৌধুরী (Amritabha Chowdhury)। রবিবার, অমৃতাভকে জোড়াবাগানে তাঁর বাড়িতে নিয়ে গিয়ে পরিচয় যাচাইয়ের চেষ্টাও করেন সিবিআই (CBI) আধিকারিকরা৷ বাড়ি থেকে পুরনো ছবি, জ্ঞানেশ্বরী দুর্ঘটনার সময় অমৃতাভরকে কেমন দেখতে ছিল সেই সমস্ত ফটো সংগ্রহ করা হয় বলে সূত্রের খবর। অমৃতাভর  প্রতিবেশী এবং বাড়ির মালিকের সঙ্গে কথা বলেও পরিচয় যাচাইয়ের চেষ্টা করা হয়৷ তার বাবাকে নিজাম প্যালেসে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

২০১০ সালে জ্ঞানেশ্বরী এক্সপ্রেসের দুর্ঘটনায় মৃতের তালিকায় নাম ছিল জোড়াবাগানের বাসিন্দা অমৃতাভ চৌধুরীর৷ ডিএনএ (Dna) মিলিয়ে অমৃতাভর দেহ তাঁর পরিবারকে দিয়েছিল রেল৷ আর্থিক সাহায্য বাবদ চার লক্ষ টাকাও পায় অমৃতাভর পরিবার৷ অমৃতাভর বোন রেলে চাকরি পান৷ কিন্তু ঘটনার প্রায় ১১ বছর পর রেলের তরফে সিবিআই-কে অভিযোগ করে জানানো হয়, অমৃতাভ চৌধুরী নামে ওই ব্যক্তির জ্ঞানেশ্বরী দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয়নি৷ তিনি বেঁচেই আছেন৷ ডিএনএ রিপোর্ট জাল করে অমৃতাভর পরিবার চাকরি এবং ক্ষতিপূরণের টাকা নিয়েছে৷

অভিযোগ পেয়ে শুক্রবার রাতে জোড়াবাগানের বাড়ি থেকে অমৃতাভ এবং তাঁর বাবাকে আটক করে সিবিআই৷ সিবিআই সূত্রে খবর, রেল ভিজিল্যান্স টিম তদন্ত করে জানতে পারে গত কয়েক বছর ধরে একটি বেসরকারি সংস্থায় চাকরি করছিলেন অমৃতাভ। এমনকী, আয়কর রিটার্নও জমা দিয়েছেন৷ শুধু তাই নয়, পাসপোর্ট নবীকরণ করেছেন তিনি৷ সেই কারণে প্রথমে অমৃতাভর পরিচয় নিয়ে নিশ্চিত হতে পারেনি সিবিআই৷ শনিবার জেরার পর অমৃতাভ এবং তাঁর বাবা মিহির চৌধুরীকে ছেড়ে দেয় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা৷ এ দিন ফের তাঁদের নিজাম প্যালেসে ডেকে পাঠানো হয়৷ বক্তব্যের স্বপক্ষে প্রমাণ হিসেবে উপযুক্ত নথিও নিয়ে যেতে বলা হয়৷ সিবিআই দফতরে হাজির হন অমৃতাভ এবং তাঁর বাবা৷ সেখানে অমৃতাভ কার্যত নিজের পরিচয় স্বীকার করে নেন৷ সংবাদমাধ্যমের প্রশ্ন জবাবে তিনিই বলেন, “আমিই অমৃতাভ চৌধুরী৷ আমিই জ্ঞানেশ্বরী এক্সপ্রেসে দিল্লি যাচ্ছিলাম”৷ তবে এই কারচুপির সঙ্গে রেলের আরও অনেকে আধিকারিক যুক্ত বলে অভিযোগ অমৃতাভর। তিনি বলেন, “যা জিজ্ঞাসা করার রেলের আধিকারিকদের করুন”। সিবিআই আধিকারিকরাও অবশ্য মানছেন, রেলের একশ্রেণির কর্মী এবং আধিকারিকদের মদত ছাড়া এত বড় কারচুপি করা সম্ভব নয়৷ ফলে এর সঙ্গে রেলের কোনও বর্তমান বা প্রাক্তন আধিকারিক যুক্ত কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে৷

আরও পড়ুন:পরাজয় মানতে না পেরে ৩৫৬-র দাবি তুলছে বিজেপি: তীব্র কটাক্ষ কুণালের