Wednesday, June 24, 2026

হাওয়ালায় কয়েক দফায় ধনকড় নেন ১০.২৫ লক্ষ টাকা! অভিযোগ সাংবাদিক সঞ্জয়ের

Date:

Share post:

রাজ্যের রাজ্যপাল জাগদীপ ধনকড়ের সঙ্গে জৈন হাওয়ালায় মামলার সম্পর্কের কথা কয়েকদিন আগেই দাবি করেছিল রাজ্যের শাসক দল। এবার ওই মামলার একটি তথ্য প্রকাশ্যে আসতেই জগদীপ ধনকড়ের সঙ্গে ওই জৈন হাওয়ালায় মামলার যোগাযোগের ছবি স্পষ্ট হয়ে উঠছে।
প্রখ্যাত সাংবাদিক তথা লেখক সঞ্জয় কাপুর রীতিমতো তথ্য-প্রমাণ দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছেন হাওয়ালায় মামলাতে ধনকড়ের যোগাযোগ ছিল ওতপ্রোত।

সালটা ছিল ১৯৯১। ব্লিৎজ পত্রিকার প্রখ্যাত সাংবাদিক ও লেখক সঞ্জয় কাপুর জৈন শিল্পপতিদের টাকা হাওয়ালায়ের মাধ্যমে কীভাবে বিভিন্ন প্রভাবশালীদের কাছে পৌঁছেছে তা নিয়ে একের পর এক তদন্তমূলক প্রতিবেদন সামনে এনেছিলেন। সুপ্রিমকোর্টে জৈন হাওয়ালায় কেলেঙ্কারির শুনানির সময় সেই প্রতিবেদনের তথ্যগুলি প্রমাণ হিসেবে দাখিল করা হয়েছিল।

গত সপ্তাহে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই হাওয়ালায়া কেলেঙ্কারিতে সরাসরি ধনকড়ের যোগ থাকার অভিযোগ এনেছিলেন। এমনকি চার্জশিটেও তাঁর নাম আছে বলে তিনি দাবি করেছিলেন। এরপরেই সাংবাদিক বৈঠকে ধনকড় সাফাই দিয়ে জানিয়েছিলেন, এই মামলার সঙ্গে তার কোনও যোগাযোগ নেই এবং চার্জশিটেও তার নাম নেই। যদিও তার কোনও স্পষ্ট প্রমাণ তিনি দিতে পারেননি।

এরপরেই সাংবাদিক বিনীত নারায়ণ এবং সঞ্জয় কাপুর মমতাকে সমর্থন করে জানিয়ে দেন যে তৃণমূল সুপ্রিমো যে অভিযোগ করেছেন তা সম্পূর্ণ সত্য। হাওয়ালায়ের মাধ্যমে জৈনদের কাছ থেকে ধনকড় বিপুল পরিমাণ টাকা উৎকোচ হিসেবে নিয়েছিলেন। এমনকি মমতাকে সমর্থন করে সঞ্জয় কাপুর লেখেন, তার ১৯৯১ সালে জৈন হাওয়ালায় কেলেঙ্কারি নিয়ে যে বই প্রকাশিত হয়েছিল ,তাতে সমস্ত তথ্য প্রমাণ দেওয়া আছে। ওই বইতে ব্যাখ্যা করা আছে কীভাবে প্রতিবেদনটি কে কাজে লাগিয়ে জনৈক ব্যক্তি নিজের ইমেজ তৈরি করেছিলেন। এমনকি সঞ্জয় কাপুর এই কথাও জানিয়েছেন যে, জাগদীপ ধনকড় হাওলার মাধ্যমে কত টাকা নিয়েছিলেন । তার বিশদ তথ্য প্রমাণ তার প্রকাশিত বই ‘ব্যাড মানিব্যাগ ব্যাড পলিটিক্স’-এ স্পষ্ট উল্লেখ করা আছে।

কেরলের ভাজপা ঘনিষ্ঠ রাজ্যপাল আরিফ মহম্মদ খান ঘুষ হিসেবে কয়েক দফায় সাড়ে ৭ কোটি টাকা নিয়েছিলেন এবং জাগদীপ ধনকড় তিন চার দফায় ১০.২৫ লক্ষ টাকা ঘুষ হিসাবে নিয়েছিলেন । সঞ্জয় কাপুর আরও জানিয়েছেন যে জগদীপ ধনকড় প্রতি দফায় কত টাকা করে নিয়েছিলেন তা এতদিন পর এই মুহুর্তে তার পক্ষে মনে করা সম্ভব হচ্ছে না।
শুধুমাত্র হাওয়ালায় কেলেঙ্কারি নিয়ে লেখা সঞ্জয় কাপুরের বইতেই নয়, বিনীত নারায়ণের অভিযোগ পত্রেও জৈন হাওয়ালায় কেলেঙ্কারিতে ঘুষ নেওয়ার প্রসঙ্গে এই দুই রাজ্যপালের নাম উল্লেখ রয়েছে। তাই রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, তৃণমূল সুপ্রিমো ধনকড়ের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ তুলেছেন তা যতটা সহজে এড়িয়ে যেতে পারবেন বলে মনে করেছিলেন বাংলার রাজ্যপাল, তা কিন্তু তার পক্ষে সম্ভব নয়।

Related articles

FIFA World Cup: ফাইভস্টার পারফরম্যান্স পর্তুগালের, জোড়া গোলে রেকর্ড পর্তুগালের

বিশ্বকাপে (FIFA World Cup) পর্তুগালের ৫ স্টার পারফরম্যান্স! উজবেকিস্তানেক ৫-০ গোলে হারাল পর্তুগিজরা। অল্পের জন্য হ্যাটট্রিক হলনা রোনাল্ডোর(Cristiano...

শোকজের পরে ফিরহাদ-অরূপদের দল থেকে বহিষ্কার করলেন মমতা? জল্পনা তুঙ্গে

দলের শৃঙ্খলাভঙ্গ ও দলবিরোধী কাজে লিপ্ত থাকার অভিযোগে ফিরহাদ হাকিম, অরূপ বিশ্বাস ও অরূপ রায়দের সোমবারে শোকজ করেছিল...

বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে সহবাস! তারকা ক্রিকেটারের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ

  বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে সহবাসের অভিযোগ উঠল বাংলা দলের ক্রিকেটার অভিষেক পোড়েলের(Abhisek porel) বিরুদ্ধে। এক ডাক্তারি পড়ুয়ার তরুণী মগরা...

বেআইনি সম্পত্তি অধিগ্রহণে নতুন বিলের ডাক মুখ্যমন্ত্রীর! দুর্নীতি দমন নাকি রাজনৈতিক প্রতিহিংসা? উঠছে প্রশ্ন

দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করতে নতুন আইন আনার ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বিধানসভায় রাজ্যপালের ভাষণের উপর...