পোড়া পোড়া গন্ধ, দমবন্ধ! মন্ত্রিত্ব না পাওয়া “অতৃপ্ত” বঙ্গ বিজেপি সাংসদদের কটাক্ষ কুণালের

২০১৯ সালে লোকসভা ভোটে বাংলা থেকে অপ্রত্যাশিত ভাবে ১৮ জন সাংসদ পেয়েছিল বিজেপি (BJP)। আর রাজ্যবাসীর ভাগ্যে জুটে ছিল কেন্দ্রের দুই “হাফ মন্ত্রী”! একুশের বিধানসভা বিপর্যয়ের পর বাংলার বিজেপি সাংসদরা ভেবে ছিলেন এবার হয়তো বাংলাকে বাড়তি গুরুত্ব দেবেন মোদি-অমিত শাহরা। কিন্তু সে গুড়ে বালি। নিজেদের মধ্যে বাংলা থেকে “লবি” করে জনাচারেক সাংসদের পদোন্নতি হয়েছে বটে, কিন্তু কপাল পুড়েছে অনেকের। আর এইসব দেখেশুনে টুইটারে কটাক্ষ করতে ছাড়েননি তৃণমূলের (TMC) রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ (Kunal Ghosh)।

এই যেমন, মোদির মন্ত্রিসভা থেকে বাদ পড়েছেন আসানসোলের দু’বারের সাংসদ বাবুল সুপ্রিয়। পদত্যাগ করতে হয়েছে দেবশ্রী চৌধুরীকেও। একইসঙ্গে মোদির সম্প্রসারিত মন্ত্রিসভায় জায়গা পেতে পারেন ভেবে আশায় বুক বেঁধে ছিলেন এ রাজ্যের কম করে ৮জন বিজেপি সাংসদ। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে তাঁরা বিভিন্ন সময়ে কেন্দ্রীয় নেতাদের দুয়ারে দুয়ারে ঘুরেছেন। মন্ত্রিসভায় নিজের নাম পাকা করতে একে অপরের নামে শীর্ষ নেতৃত্বের কানে কু-মন্ত্র দিয়েছেন বলেও শোনা যাচ্ছে।

মন্ত্রী হওয়ার জন্য বাংলা টু দিল্লি দৌড় ঝাঁপ করেছেন নিশীথ প্রামাণিক, লকেট চট্টোপাধ্যায়, শান্তনু ঠাকুর, সুরিন্দর সিং আলুহালিয়া, জগন্নাথ সরকার, দীনেশ ত্রিবেদী, জন বার্লা, সৌমিত্র খাঁ, সুভাষ সরকার, এমনকি অর্জুন সিংও। অনেক জটিল সমীকরণের পর কেউ মন্ত্রী হয়েছেন। কেউ মন্ত্রিত্ব ছেড়ে হতাশ। আবার এ যাত্রায় যাদের ভাগ্যে মন্ত্রিত্ব জুটলো না, তাঁদের অনেকেই অতৃপ্ত আত্মার মতো ফেসবুক বিপ্লব শুরু করেছেন। চলছে অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগের পালা।

বিজেপির এমন ডামাডোল দেখে তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ একটি টুইটে ব্যাঙ্গের সুরে লেখেন, “কেমন যেন পোড়া পোড়া গন্ধ। দমবন্ধের ভাব। যুবনেতা থেকে বাহুবলী, নেত্রী থেকে ডাক্তারবাবু, ভারি উদাসী মন। আর আদি বিজেপি? জাদুঘরে আলাদা গ্যালারিতে স্মারক হিসেবে থাকুক। শপথ দেখে অনেকে বিপথে না যায়!!” কুণাল তাঁর এই টুইট আবার ট্যাগ করেন BJP4Bengal-এ।

বিধানসভা ভোটের আগে তৃণমূল ছেড়ে অনেকেই বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন। দল বদলের কারণ হিসেবে সকলের মুখেই শোনা গিয়েছিল, “তৃণমূলে থেকে কাজ করা যাচ্ছে না। দমবন্ধ পরিস্থিতি।” এবার যেন তারই পাল্টা দিলেন কুণাল ঘোষ। যাকে বলে কাটা ঘায়ে নুনের ছেটা। বিশেষ করে মন্ত্রিত্বের আশায় থাকা সাংসদের নাম না করে বিদ্রুপ করলেন কুণাল। একই সঙ্গে বঙ্গ বিজেপিতে পুরোনো ও আদি বিজেপি নেতা-কর্মীরা বঞ্চিতের দল, তাঁদের মিউজিয়ামে জায়গা পাওয়া উচিত বলেই কটাক্ষ করেন তৃণমূল রাজ্য সাধারণ সম্পাদক।