Saturday, November 29, 2025

‘বিজেমূল’ বলা ভুল হয়েছে, মানুষ নেয়নি আমাদের, কর্মীদের কাছে স্বীকারোক্তি সূর্যকান্তর

Date:

Share post:

সিপিএম (cpim) সম্বন্ধে রাজনৈতিক মহলে বেশ কয়েকটি বিশেষণ ঘুরে বেড়ায়। কেউ বলেন, জ্যোতিবাবুর (jyoti basu) দলের চোর পালালে বুদ্ধি বাড়ে। কেউ বলেন প্রত্যেকবার ওরা নিজেদের ভুল খুঁজে বের করে, আর ফের ঘটা করে সেই ভুল আবার করে। কেউ কেউ তো এও বলেন, জ্যোতিবাবু তো সেই কবে নয়ের দশকে ‘ঐতিহাসিক ভুল’-এর (historical blunder) কথা বলে গিয়েছিলেন, সেই ট্র‍্যাডিশন সমানে চলছে।

সেই ট্র‍্যাডিশনে পা মেলালেন রাজ্য সম্পাদক সূর্যকান্ত মিশ্র (cpm state secretary suryakanta mishra)। বুধবার সোশ্যাল মিডিয়ায় এসে রাজ্যের প্রাক্তন স্বাস্থ্যমন্ত্রী কী কী ভুল হয়েছিল একুশের বিধানসভা ভোটে তার ব্যাখ্যা দিয়েছেন। দলের বিধায়ক সংখ্যা ‘শূন্য’তে আনার পর অবশেষে সিপিএমের আত্মোপলব্ধি!

কী কী ভুলের তালিকা সামনে এনেছেন সূর্যকান্ত?

১) বিজেপি (bjp) বিরোধিতায় তাঁদের ঘাটতি ছিল। অর্থাৎ বিজেপি-তৃণমূলকে একাসনে বসানো উচিত হয়নি।

২) দুটি দলকে একাসনে বসাতে গিয়ে ‘বিজেমূল’-এর মতো স্লোগান ব্যবহার করা হয়েছে। এতে বাম ভোটাররা বিভ্রান্ত হয়েছেন, কেউ আবার বিরক্তিতে তৃণমূলকে বেছে নিয়েছেন।

৩) ১০ বছরের প্রতিষ্ঠান বিরোধিতার প্রেক্ষিত বদলে দিতে সরকার বেশ কিছু জনপ্রিয় স্কিম চালু করেছিল। যে স্কিমে মানুষ দারুনভাবে উপকৃত হয়। বিরোধিতার জন্য বিরোধিতা করে ‘দুয়ারে সরকার’ (duare sarkar), ‘স্বাস্থ্য সাথী’ (sasthya sathi), দিদিকে বলো’কে (didike bolo) নিয়ে ব্যঙ্গ করা হয়েছে। কিন্তু মানুষ যে উপকার পেয়েছে তার অভিজ্ঞতার সঙ্গে এগুলো মেলেনি। ফলে মানুষ বাম কংগ্রেসকে পরিত্যাগ করেছে।

৪) সূর্যকান্তর অকপট স্বীকারোক্তি, ২০১৪-র লোকসভা এবং ২০১৬-র বিধানসভা ভোটে তৃণমূল-বিজেপির কোথাও একটা অদৃশ্য বোঝাপড়া ছিল বলে মনে হয়েছে। কিন্তু ২০১৯ থেকে তৃণমূল কংগ্রেস সরাসরি বিজেপি বিরোধিতায় নামে, প্রবলভাবে নামে। সেখানে কোনও কৃত্রিমতা ছিল না। বামেরা তাদের ব্যঙ্গ করতে গিয়ে মানুষের থেকে নিজেরাই বিচ্ছিন্ন হয়েছে।

৫) ভোটের সময় আঘাত পাওয়া মুখ্যমন্ত্রীর হুইল চেয়ার প্রচারকে কটাক্ষ করাও মানুষ ভালোভাবে নেয়নি।

৬) সূর্যকান্ত জানান, দলের বিপর্যয়ের পর বিস্তর গালমন্দ করে বহু চিঠি দলের কাছে আসছে। সেগুলোকে উপেক্ষা করা নয়, গুরুত্ব দিয়ে পড়া হচ্ছে, ইতিবাচক বিষয়গুলোকে আত্মস্থ করার চেষ্টা চলছে।

লক্ষ্যণীয় বিষয় হলো আগামিদিনে বামফ্রন্ট (left front) তাদের আন্দোলন-কর্মসূচি চালাবে। কিন্তু সংযুক্ত মোর্চার ব্যানারে নয়। কেন? সুর্যর বক্তব্য, মোর্চা থাকবে কিনা সে বিষয়ে বামফ্রন্টে আলোচনা হবে। সেখানে ছাড়পত্র পেলে তবেই পদক্ষেপ। অর্থাৎ সংযুক্ত মোর্চার (left alliance) অস্তিত্ব যে বিলোপ হয়েছে, তা স্বীকার করে নিয়েছেন সিপিএম রাজ্য সম্পাদক।

 

spot_img

Related articles

‘রাষ্ট্রবাদ’ শব্দে মানুষ ভয় পায়: ভারতের একতা নিয়ে গান্ধীজি ভুল, দাবি মোহন ভাগবতের

এবার সরাসরি গান্ধীজির তত্ত্বকে আক্রমণ আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবতের। ভারতের একতার শক্তি নিয়ে ব্রিটিশ বিরোধিতাকে যেভাবে অনুঘটক বলে...

তারকেশ্বরে মর্মান্তিক পথদুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন পঞ্চায়েত সমিতির কর্মাধ্যক্ষ, শোকপ্রকাশ অভিষেকের 

তারকেশ্বরের জনপ্রিয় পঞ্চায়েত সমিতির প্রাণিসম্পদ দফতরের কর্মাধ্যক্ষ বন্দনা মাইতির আকস্মিক মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে গোটা এলাকায়। শনিবার...

শিক্ষিকা হলেন AI রোবোট! তাক লাগিয়ে দিল দ্বাদশের পড়ুয়া

বড় বড় সংস্থা সহকারী হিসাবে এআই-এর দ্বারস্থ হচ্ছে। সেখানে স্কুলে পড়ানোর জন্যও এআই রোবোটের (AI robot) পরিকল্পনা করতেই...

সাহস থাকলে তৃণমূলের সঙ্গে সম্পূর্ণ কথোপকথন প্রকাশ করুন: জ্ঞানেশকে চ্যালেঞ্জ ডেরেকদের

মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের কাছে ৫ প্রশ্নের জবাব চাইতে যাওয়ার পরে দিন ফের জাতীয় নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে মিথ্যাচারের অভিযোগ...