একুশের বিধানসভা নির্বাচনের (West Bengal Assembly Election) গোটা পর্ব জুড়ে সংবাদ শিরোনাম হয়েছিলেন তিনি। এমনকি প্রধানমন্ত্রী (PM) নরেন্দ্র মোদি (Narendra Modi) পর্যন্ত নির্বাচনী প্রচারে বলেছিলেন দেশের মধ্যে সবচেয়ে গরিব, সৎ ও নিষ্ঠাবান মহিলা এবার পশ্চিমবঙ্গ থেকে বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির (BJP) প্রার্থী হয়েছেন। বিধানসভা ভোটে বিজেপির তারকা প্রচারক অভিনেতা মিঠুন চক্রবর্তী (Mithun Chakraborty) এই প্রার্থীর হয় সর্বপ্রথম প্রচার শুরু করেন। তিনি চন্দনা বাউরি (Chandana Bauri)। বাঁকুড়ার (Bankura) শালতোড়ার (Shaltorda) বিজেপি বিধায়ক। ফের একবার শিরোনামে উঠে এলেন বছর ৩০-এর চন্দনা। তবে এবার রাজনীতির বাইরে সম্পূর্ণ অন্য একটি বিষয়ে তাঁকে নিয়ে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।


এবার “দ্বিতীয় বিয়ে” নিয়ে সংবাদ শিরোনামে বিজেপি “হতদরিদ্র” বিধায়ক চন্দনা বাউরি। স্বামী-সন্তান, অসুস্থ শাশুড়িকে ছেড়ে গাড়ির চালক তথা দলেরই কর্মী কৃষ্ণ কুন্ডুকে বিয়ে করে বসলেন শালতোড়ার বিজেপি বিধায়ক চন্দনা। এমনই অভিযোগ উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে।

জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার সকালে গঙ্গাজলঘাটি থানায় যান তিনি। সেখানে পুলিশ আধিকারিকদের জানান, বুধবার রাতে তিনি দলের এক কর্মীকে বিয়ে করেছেন। পুরো বিষয়টি মৌখিক ভাবে থানায় জানান তিনি। এদিকে এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই শোরগোল বাঁকুড়ার গঙ্গাজলঘাটি এলাকায়। বিধায়কের এই কাজে বিজেপির নেতা-কর্মী থেকে শুরু করে বিরোধী দলের সকলেই নিন্দায় সরব হয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে থানা থেকে বেরোনোর সময় মুখ খোলেননি বিধায়ক। গঙ্গাজলঘাটি থানা থেকে মুখ ঢাকা দিয়ে বেরিয়ে যান চন্দনা। তাঁর স্বামী শ্রাবণ বাউড়িও ঘটনার কথা মানতে চাননি। সন্তানদের কোলে নিয়ে থানা থেকে বেরিয়ে যান।


এদিকে চন্দনার প্রেমিক কৃষ্ণ কুন্ডুর স্ত্রী রূম্পা কুন্ডু গঙ্গাজলঘাটি থানায় তাঁর স্বামী ও বিধায়ক চন্দনা বাউরির বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছেন। লিখিত অভিযোগে তিনি জানান, ওই দু’জন বেআইনি ভাবে বিয়ে করেছে। তাঁর আরও দাবি, বিষয়টি নিয়ে প্রকাশ্যে মুখ খোলায় তাঁকে ক্রমাগত হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এরই মধ্যে আজ, বৃহস্পতিবার সকালেই ভাইরাল হয় চন্দনা বাউরি ও তাঁর গাড়ি চালক তথা দলের কর্মী কৃষ্ণ কুন্ডুর ছবি। ছবিতে চন্দনাকে সিঁদুর পরে থাকতে দেখা গিয়েছে। খবর ছড়ায়, চন্দনা দ্বিতীয়বার বিয়ে করেছেন।


আরও পড়ুন-দেশবাসীকে রক্ষা করতে আমি ফিরে আসব, ভিডিওবার্তা পলাতক আফগান প্রেসিডেন্টের

যদিও চন্দনাদেবী পুরো ঘটনার কথা অস্বীকার করেছেন। তাঁর বক্তব্য, ‘’পারিবারিক সমস্যার জন্য রেগে গিয়ে থানায় গিয়েছিলাম। স্বামী-স্ত্রীর সমস্যা সমাধান করে ফিরেছি। বিরোধী দলের লোকেরা কুৎসা ছড়াচ্ছেন। এর আগেও আমার নামে উল্টোপাল্টা বলা হয়েছিল। ফেক নিউস ছড়ানো হচ্ছে। দু’জনের একসঙ্গে ছবিটিও মিথ্যে।’’
