রক্তাক্ত কাবুল: বিস্ফোরণে মৃত বেড়ে ৪০, নিন্দায় বিশ্ব

ইউরোপীয় ইউনিয়নের একাধিক দেশ এবং অস্ট্রেলিয়া আগেই সতর্কবার্তা দিয়েছিল যে, কাবুল বিমানবন্দরে যে কোনও সময় আত্মঘাতী জঙ্গি হামলা হতে পারে। সেই সতর্কবার্তা মিলিয়ে দিয়ে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা নাগাদ প্রবল বিস্ফোরণ ঘটল কাবুলের হামিদ কারজাই বিমানবন্দরে। একটি নয়, পরপর দুটি বিস্ফোরণ ঘটেছে বলে খবর। একটি বিস্ফোরণ ঘটেছে বিমানবন্দরের গেটে। অপরটি বিমানবন্দর থেকে কিছুটা দূরে ব্যারন হোটেলের সামনে।

ব্রিটেনের একটি সেনা শিবিরের সামনে এই বিস্ফোরণ। মার্কিন প্রতিরক্ষা দফতর পেন্টাগন প্রথম এই আত্মঘাতী বিস্ফোরণের খবর জানায়। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত তালিবান সন্ত্রাস কবলিত কাবুলে এই আত্মঘাতী হামলায় ৪০ জনের মৃত্যু হয়েছে। জখম হয়েছেন শতাধিক মানুষ। আহতদের অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক। প্রশাসনের আশঙ্কা, নিশ্চিতভাবেই মৃতের সংখ্যা আরও অনেক বাড়বে।

এই আত্মঘাতী বিস্ফোরণের ফলে আহতদের মধ্যে তিনজন মার্কিন সেনা ও কয়েকজন ব্রিটিশ সেনাও আছে বলে খবর। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানাচ্ছে, বিমানবন্দরের গেটে এক আত্মঘাতী জঙ্গি নিজেকে উড়িয়ে দেয়। প্রবল বিস্ফোরণের শব্দে কেঁপে ওঠে আশপাশের এলাকা। বহু অফিস ও বাড়ির কাচ ভেঙে পড়েছে। কাবুলের আকাশ ঢেকে গিয়েছে ঘন কালো ধোঁয়ায়। তীব্র আতঙ্কে ছুটোছুটি করতে শুরু করেন মানুষ। মহিলা ও শিশুরা কাঁদতে কাঁদতে ছুটছে। এরই মধ্যে আতঙ্কিত মানুষের উপর গুলি চালানো শুরু হয়েছে। তবে, তালিবান জঙ্গিরা না অন্য কেউ গুলি চালাচ্ছে, তা স্পষ্ট নয়। অনেকেই মনে করছেন, হামিদ কারজাই বিমানবন্দরের যা পরিস্থিতি তাতে হতাহতের সংখ্যা রাতের মধ্যেই অনেকটাই বাড়বে। মার্কিন সেনারা আশঙ্কা করছে যে, জঙ্গিরা রাতের দিকে আরও বিস্ফোরণ ঘটাতে পারে অর্থাৎ ধারাবাহিক বিস্ফোরণের আশঙ্কা উড়িয়ে দিচ্ছে না মার্কিন সেনা। যে কারণে সাধারণ মানুষকে বিমানবন্দর থেকে দূরে সরে যেতে বলেছে সেনা। দেখা যাচ্ছে, একের পর এক অ্যাম্বুল্যান্স আহতদের নিয়ে হাসপাতালে ছুটছে। ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে আছে দেহ ও শরীরের ছিন্নভিন্ন অংশ। স্থানীয় হাসপাতালগুলিতে ইতিমধ্যেই একাধিক আহতকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। শুরু হয়েছে চিকিৎসা। বহু বিদেশি নাগরিক আফগানিস্তান ছাড়ার জন্য বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় কাবুল বিমানবন্দরের উদ্দেশে রওনা দিয়েছিলেন। চরম বিপদে পড়ে অনেকেই মাঝপথে আটকে পড়েন। গোটা পরিস্থিতি চরম বিশৃঙ্খল। আতঙ্কে দিশাহারা মানুষ।

এদিন প্রথম বিস্ফোরণের ২০ মিনিট পর দ্বিতীয় বিস্ফোরণটি হয়। ব্যারন হোটেলে মূলত বিভিন্ন দেশের সাংবাদিক ও কিছু মার্কিন সেনা আছেন। এদিন বিস্ফোরণের পর যখন কাবুলের আকাশ আতঙ্কের কালো মেঘে ছেয়ে গিয়েছে, সেই সময় ইতালির একটি বিমানকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়। অনেকেই আশঙ্কা করছেন, এই বিস্ফোরণের পিছনে রয়েছে আইএস জঙ্গিদের হাত। তবে কোনও জঙ্গি সংগঠন এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে এই বিস্ফোরণের দায় স্বীকার করেনি। কেউ কেউ মনে করছেন, তালিবান জঙ্গিরাই পরিকল্পিতভাবে চাপ তৈরির লক্ষ্যে এই বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে। কারণ বহু মানুষ দেশ ছেড়ে চলে যাওয়ার জন্য বিমানবন্দরে এসে হাজির হয়েছেন। তাঁরা যাতে যেতে না পারেন, তাঁদের মধ্যে যাতে প্রবল আতঙ্ক ছড়িয়ে দেওয়া যায়, সে কারণেই পরিকল্পিতভাবে এই বিস্ফোরণ ঘটানো হয়েছে। এদিনের বিস্ফোরণে বেশ কয়েকটি শিশুরও মৃত্যু হয়েছে বলে খবর। ইতিমধ্যেই গোটা আন্তর্জাতিক দুনিয়া এই বিস্ফোরণের কড়া নিন্দা করেছে। বিভিন্ন রাষ্ট্রনেতারা একযোগে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে বিস্ফোরণের খবর জানানো হয়েছে। সঙ্গে সঙ্গে জরুরি বৈঠকে বসেন তিনি। উদ্বেগ প্রকাশ করেন ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন সহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধানরা।

আরও পড়ুন- কেন্দ্রের কৃষি আইনের প্রতিবাদে ২৫ সেপ্টেম্বর ভারত বনধের ডাক কৃষকদের

advt 19

 

Previous articleকেন্দ্রের কৃষি আইনের প্রতিবাদে ২৫ সেপ্টেম্বর ভারত বনধের ডাক কৃষকদের
Next articleশ্যামাপ্রসাদের একাধিক আয় বহির্ভূত সম্পত্তির হদিশ !