Wednesday, June 24, 2026

সিঙ্গুরে ডাকাত-কালীর পুজোয় এখনও চলে শতাব্দী প্রাচীন রীতি

Date:

Share post:

কেউ বলে ৫০০ বছর। আবার কারো মতে ৩০০ বছর। এই কালীর বয়স নিয়ে ভিন্ন মত দীর্ঘদিনের। বহু বছর আগের কথা। হুগলির (Hoogli) সিঙ্গুরে তখনও তেমন একটা জনপদ গড়ে ওঠেনি। ঘন জঙ্গলে ঘেরা ছিল গোটা এলাকা। দিনের বেলাতেও এই পথ দিয়ে যেতে ভয় পেত মানুষ। তখন ঘন জঙ্গলের মধ‍্যে ছিল ডাকাতদের আস্তানা। তবে এই পুজোকে কেন্দ্র করে নানা কাহিনী প্রচারিত আছে। একদিন অসুস্থ রামকৃষ্ণ দেবকে দেখতে মা সারদাদেবী কামারপুকুর থেকে সিঙ্গুর হয়ে দক্ষিণেশ্বর যাচ্ছিলেন। যাওয়ার পথে একটু পিছিয়ে পড়েছিলেন তিনি। সেই সুযোগে ডাকাত দল মা সারদাকে আটক করে। কথিত আছে তখনই মা সারদার পিছনে দর্শন দেন স্বয়ং মা কালী। তাই দেখে অপরাধ বুঝতে পেরে সারদাদেবীর পা ধরে কাঁদতে শুরু করে ডাকাতরা। রাত অনেক হয়ে যাওয়ায় ওই দিন পুরুষোত্তম পুরেই রাতে থাকেন মা সারদা। রাতে তাঁকে খেতে দেওয়া হয় চাল-কড়াই ভাজা। পরের দিন ডাকাতরাই তাঁকে দক্ষিণেশ্বরে ঠাকুর রামকৃষ্ণের কাছে পৌঁছে দেন। কেউ বলে গগন ডাকাত। আবার কারো মতে বিশে ডাকাতের দল তখন এই অঞ্চলের ত্রাস ছিল।

কথিত আছে, চালকেবাটী গ্রামের মোড়ল চাষের সামগ্রী নিয়ে হাটে যাওয়ার সময় সিঙ্গুরের পথে ক্লান্ত হয়ে গাছের তলায় ঘুমিয়ে পড়েন। তখন মা কালী তাঁকে স্বপ্নাদেশ দেন ঐ স্থানে মন্দির প্রতিষ্ঠা করতে। পরে তিনি এক চালার ছোট মন্দির তৈরি করে দেন।মন্দির তো হল, পুজো কে করবে, কীভাবে চলবে পুজোর খরচ? , বর্ধমানের রাজা স্বপ্নাদেশ পেয়ে মায়ের পুজোর জন‍্য জমি দান করেন। সেবাইতও রাখা হয়। সেই সেবাইতের বংশধরেরা এখনও পুজো চালিয়ে যাচ্ছেন। প্রথম থেকেই পুজোয় ভোগ দেওয়া হয় চাল-কড়াই ভাজা আর কারণ দিয়ে। শুরুতে ছাগ বলি দেন সেবাইত ও রাজার প্রতিনিধিরা। পরে হয় অন‍্যদের মানসিক বলি। কথিত আছে, সেই সময় ডাকাতি করতে যাওয়ার অনুমতির জন‍্য পুজো-যজ্ঞ চলত। ঘটের উপর মায়ের পায়ের ফুল না পড়া পর্য‍ন্ত চলত পুজো। তাতে কাজ না হলে নরবলিও দেওয়া হত। বহু বছর ধরে সিঙ্গুরের এই কালী ডাকাত কালী নামেই পরিচিত।

আরও পড়ুন:খেলরত্ন নয়, অর্জুন পুরস্কার চাইছেন রবি, জানালেন ফেডারেশনের এক কর্তা

এখন মন্দির প্রাঙ্গন ঝাঁ চকচকে। সারা বছর প্রচুর ভক্ত সমাগম হয়। এই মন্দিরে মা কালীর কিছু বৈশিষ্ট্য রয়েছে। প্রাচীন রীতি মেনে আজও এই প্রতিমার কোনও পরিবর্তন হয়না। চার বছর পর নবকলেবর হয়। তখন মূর্তি সংস্কার করা হয়। সারা বছর তামার ঘটের জল পাল্টানো হয় না। পুজোর দিন বর্গক্ষত্রিয় পরিবারের সদস‍্যরা গঙ্গা থেকে জল এনে দেন। তখন ঘট পরিবর্তন করা হয়। তখন মন্দিরে কোন মহিলার প্রবেশ নিষিদ্ধ। পুজোর নদিন আগে থেকে শুরু হয় চণ্ডীপাঠ।

 

Related articles

মুম্বইয়ে ভারী বৃষ্টিতে জারি লাল সতর্কতা, বন্ধ আন্ধেরি আন্ডারপাস

মৌসুমি বৃষ্টির ফলে প্রতিবারের মত এবারেও বিপর্যস্ত বাণিজ্যনগরী। তিনদিন একটানা বৃষ্টিতে(Rain) জল জমতে শুরু করেছে মুম্বইয়ে(Mumbai)। মঙ্গলবার রাত...

স্বচ্ছতা অভিযানে রবীন্দ্র সরোবর লেক পরিদর্শনে অগ্নিমিত্রা, দিলেন কড়া নির্দেশ

স্বচ্ছতা অভিযানে রবীন্দ্র সরোবর লেক( Rabindra Sarobor Lake) পরিদর্শন করলেন রাজ্যের পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল(Agnimitra Pal)। রবীন্দ্র সরোবরে খেলার...

ধর্ষণে অভিযুক্ত কী করে বিরোধী দলনেতা? বিধানসভায় কুণালের প্রশ্নে অস্বস্তিতে অধ্যক্ষ 

রাজ্যপালের ভাষণের ওপর আলোচনাকে কেন্দ্র করে মঙ্গলবার রণক্ষেত্রের চেহারা নিল বিধানসভা। প্রথমবার বিধায়ক হিসেবে বলতে উঠেই স্বভাবসিদ্ধ আগ্রাসী...

পার্ক স্ট্রিটের নস্টালজিয়া নিয়ে ‘নেভারমাইন্ড’, এক ফ্রেমে ঋতুপর্ণা-চৈতী-রূপম 

মুক্তি পেল পার্ক স্ট্রিটের চেনা আলো আর তার সাথে জড়িয়ে থাকা নস্টালজিয়াকে কেন্দ্র করে তৈরি নতুন বাংলা ছবি...