Sunday, April 26, 2026

মৃত্যুবাসর সাজিয়ে প্রিয়জনদের ডেকে বিদায় নিলেন সুস্মিতা!

Date:

Share post:

নিজের মৃত্যুবাসর নিজেই সাজানো। যাকে যা বলার, বার্তা দেওয়ার- তা সব নিখুঁতভাবে চিঠিতে লেখা। আর আগে থেকেই প্রিয়জনদের আমন্ত্রণ জানিয়ে রাখা “ওই দিন, ওই সময় আমার বাড়িতে চলে এসো”। হ্যাঁ, আইনের চোখে এটা আত্মহত্যা। কিন্তু এরকম মৃত্যুবাসর সাজিয়ে যিনি বিদায় নিয়েছেন সেই সুস্মিতা রায়চৌধুরীর কাছে এটি “স্বেচ্ছামৃত্যু’।

পাঁচ-সাতদিন আগে থেকেই নিমন্ত্রণ চলছিল। সবাই ভেবেছিলেন তাঁদের প্রিয় মুনদি হয়তো কোনও সারপ্রাইজ দেবেন তাঁদের। হয়তো নতুন কোনও রান্না খাওয়াবেন। কিন্তু ঘুণাক্ষরেও কেউ বুঝতে পারেননি আড়াই মাস আগে যে মানুষটি ৬০ পূর্ণ করেছিলেন, তিনি ৩১ অক্টোবর, রবিবার নিজের বাড়িতে আত্মহত্যা করবেন।

সুস্মিতা কোনও দুরারোগ্য অসুখে আক্রান্ত ছিলেন না। ছিল না কোনও মানসিক যন্ত্রণা বা অবসাদ। তাহলে কেন এরকম সিদ্ধান্ত? কারণটি খুবই বিস্ময়কর। গত বছর জন্মদিনে ফেসবুক পোস্টে সুস্মিতা লিখেছিলেন, “আমার ইচ্ছে, আমার মরণ বাসরসজ্জা আমি নিজেই রচনা করব। এটা আমার খুব ছোটবেলার স্বপ্ন। এ বিষয়ে আমি খুবই রোম্যান্টিক। কোনও দুঃখ না, হতাশা, অবসাদ না। আমার প্রচন্ড ভালোবাসার জীবনকে আমি কিছুতেই স্বাভাবিক যাপনের বিরুদ্ধে আপোস করতে দেব না।”

আরও পড়ুন:উপনির্বাচনে গো-হারা, তথাগতর পর এবার সৌমিত্র-জয়ের নিশানায় বিজেপি নেতৃত্ব

ডানলপের কাছে বি-হাইভ গার্ডেনের ফ্ল্যাটে স্বামীর সঙ্গে থাকতেন সুস্মিতা রায়চৌধুরী। মৃত্যুর আগে খাওয়ার টেবিলে খামে ভরে পুলিশের জন্য চিঠি লেখা থাকে। নিজের আধার কার্ড। আরও কিছু নির্দেশ দেওয়া চিঠি বিভিন্ন জনের উদ্দেশ্যে। সঙ্গে আর্ট পেপারে লেখা রবীন্দ্রনাথের দামিনীর একটি কোটেশন।

রবিবার দুপুরে একতলার বাসিন্দা বোন সঞ্চিতাকে রোজকার মতো আদর করে যান মুন। তার আচরণে বিন্দুমাত্র অস্বাভাবিকতা দেখেননি সঞ্চিতা। সুস্মিতার সংসার ছিল চারতলায়। সমাজকর্মী হিসেবে যথেষ্ট পরিচিত ছিলেন তিনি।বন্ধুবান্ধবের সংখ্যা অগুন্তি। মৃত্যুর আগে ঘনিষ্ঠদের আলাদা আলাদা হোয়াটসঅ্যাপ মেসেজ লিখেছিলেন। মেসেজ লেখার পর ফোন বন্ধ করে দেন সুস্মিতা। রবিবার রাতে পুলিশ সেই ফোন অন করার পরেই মেসেজগুলি পৌঁছতে থাকে। স্বামী, জন্যেও রেখে গিয়েছেন বার্তা। তাতে বলা ছিল, একা ঘরে থাকতে কষ্ট হলে কাকে কাকে ডেকে নিতে হবে। আর কয়েকদিন পরে সব সহ্য হয়ে যাবে।

সুস্মিতা লিখেছিলেন
‘সেই ছোট্টবেলা থেকে জরা, ব্যাধি, মৃত্যুর কথা জানি। জীবনকে যতটা ভালোবাসি, মৃত্যুকেও ততটাই ভালোবাসি। মৃত্যুকে কোনওদিন ভয় পাইনি বলেই তো জীবনকে এতো গভীর ভাবে উপভোগ করতে পেরেছি।…ভিক্ষা না, মৃত্যুকেও আমি অর্জন করতে চাই। মৃত্যু আমার কাছে পালানো নয়। আমি মৃত্যুর প্রণয়প্রার্থী।”

আত্মহত্যার মতো স্বেচ্ছামৃত্যু আমাদের দেশের আইনে অপরাধ। তাই এই মৃত্যু কোনভাবেই গৌরবান্বিত করতে চান না কেউই। তবে শুধু মৃত্যুকে ভালবেসে কেউ এ ধরনের পদক্ষেপ করতে পারে তা ভেবে বিস্মিত সুস্মিতার প্রিয়জনরাও।

Related articles

‘অসুস্থ’ লোক: হোয়াইট হাউসের হামলার পর বললেন ট্রাম্প, ইরান-যোগের আশঙ্কা!

হোয়াইট হাউসের নৈশভোজে বন্দুকবাজের হামলা নিয়ে চিন্তিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump)। ইতিমধ্যে সেই বন্দুকবাজকে গ্রেফতার করা...

দিল্লিতে বন্ধুর বাড়িতে! খোঁজ মিলল পরিচালক উৎসবের

তিন সপ্তাহের বেশি উৎকণ্ঠা, দুশ্চিন্তা আর অনিশ্চয়তার অবসান ঘটল অবশেষে। পরিচালক ও চিত্রনাট্যকার উৎসব মুখোপাধ্যায়ের (Utsav Mukherjee) সন্ধান...

জঙ্গি হামলার আশঙ্কা: বাংলাদেশে জারি ‘রেড এলার্ট’!

নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠনের হামলার আশঙ্কায় রেড অ্যালার্ট (Red Alert) জারি করল বাংলাদেশ সরকার (Bangladesh Govt.)। সরকারের তরফ থেকে...

বকেয়া টাকা চাওয়ার ‘শাস্তি’! দিল্লিতে যুবকের হাত কাটলো আততায়ীরা

পাওনা টাকা ফেরত চাওয়াই কাল হলো ৩২ বছর বয়সী এক যুবকের (Delhi Crime)। ঘটনাটি ঘটেছে দিল্লির দ্বারকা একালায়...