Sunday, May 24, 2026

উনি দাদা আমি বোন, সম্পর্কের সেই সুতোটা আজ স্মৃতি হয়ে গেল: সুব্রতর প্রয়াণে শোকাহত মমতা

Date:

Share post:

দীপাবলির আলোর রোশনাইয়ের মাঝেই নিভে গেছে বঙ্গ রাজনীতির এক বর্ণনায় রাজনৈতিক চরিত্র সুব্রত মুখোপাধ্যায়(Subrata Mukherjee)। তাঁর মৃত্যুতে শোকাহত শাসক-বিরোধী সকল রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বরা। সুব্রত মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে অনেকটা ভাই-বোনের সম্পর্ক ছিল রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের(Mamata Banerjee)। অতীতের সেই সব কথা স্মরণ করে খানিক বিমর্ষ মমতা। সম্প্রতি এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমে দাদা সুব্রত মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে তাঁর মধুর সম্পর্কের কথা স্মরণ করে কলম ধরেছেন মুখ্যমন্ত্রী। সেখানে তিনি লেখেন:

কেন জানি না, বৃহস্পতিবার সকাল থেকে মনটা বড় অস্থির লাগছিল। ঠিক কী তা বুঝিনি, তবে ছোটখাটো বিভিন্ন ঘটনায় মনে হচ্ছিল, কোথাও বোধহয় কিছু গোলমাল হচ্ছে। শেষ পর্যন্ত সুব্রতদার মৃত্যুসংবাদ।

বাড়িতে তখন কালীপুজো চলছে। আর আমি ক্রমাগত খবর পাচ্ছি, সুব্রতদার অবস্থা খারাপ। আরও খারাপ। পুজোতেও মন বসাতে পারছিলাম না। শেষ খবর যখন এল, তখন হোম চলছে। আহুতি হয়ে যাওয়ামাত্র এক মুহূর্ত অপেক্ষা না করে হাসপাতালে ছুটলাম। তবে সুব্রতদার মুখোমুখি দাঁড়াতে পারিনি। তাঁকে ওই ভাবে দেখা আমার পক্ষে সম্ভব নয়। ছন্দবাণীবৌদিকে বুঝিয়ে বাড়ি পাঠালাম। জানি, এ শোকের সান্ত্বনা নেই। তবু এখন তো আর কিছু করার নেই।

সুব্রতদার অসুস্থতার খবর পেয়েছিলাম গোয়াতে। ফিরেই হাসপাতালে গিয়েছিলাম দেখতে। সুব্রতদা বললেন, ‘‘আমি একদম ঠিক আছি। প্রোগ্রাম দে। আমিও গোয়ায় যাব। আর যেখানে যেখানে যেতে হবে বলিস। শুয়ে থাকতে ভাল লাগছে না।’’ এমনই ছিল ওঁর জীবনীশক্তি। কথা বলতে ভাল লাগছে না। কিন্তু মনের মধ্যে কয়েক হাজার স্মৃতি ভিড় করে আসছে।

সুব্রত মুখোপাধ্যায় আমার কাছে রাজনীতির থেকেও বড় এক জন ‘দাদা’। যিনি সর্বদা আমাকে স্নেহের ছায়া দিয়েছেন। যখন যোগমায়া কলেজে ছাত্র ইউনিয়ন করি, সুব্রতদা তখন রাজ্যে অবিসংবাদী ছাত্র নেতা। ছাত্র পরিষদের সভাপতি। এক দিন ডেকে পাঠালেন। আমরা কয়েক জন গেলাম। উনি বললেন, ‘‘তোরা খুব ভাল কাজ করছিস। আমি জানি। চলে আয়। একসঙ্গে কাজ করব।’’ সেই শুরু।

১৯৮৪ সালে আমি যখন প্রথম লোকসভায় দাঁড়াই, তখনও প্রণবদার কাছে আমার নাম প্রথম করেছিলেন সুব্রতদাই। কারণ, প্রণবদা বলেছিলেন, যাদবপুরে একজন লড়াকু মেয়েকে প্রার্থী করতে চাইছেন রাজীব গান্ধী। আমি জানিও না, আমার নাম বলে দিয়েছিলেন সুব্রতদা। প্রণবদা জানতে চেয়েছিলেন, ও কি পারবে? শুনেছি, সুব্রতদা বলেছিলেন, পারলে, ও-ই পারবে
এতগুলো বছর ভালমন্দ, ঐক্য-বিরোধ সব কিছুর মধ্যে দিয়ে সুব্রতদার সঙ্গে আমার সম্পর্কের ভিত শক্ত হয়েছে। কখনও মনে হয়নি, আমি মুখ্যমন্ত্রী আর তিনি মন্ত্রী। সব সময় ভেবেছি, উনি দাদা। আমি বোন। ভুল হলে শিখিয়ে দেবেন। সেই সুতোটা আজ স্মৃতি হয়ে গেল। তাঁকে শত বার প্রণাম জানাই।

 

Related articles

দুর্গাপুরে গাড়ি আটকানো মুখ্যমন্ত্রীর ‘কনভয়’ দাঁড়ালো কলকাতার সিগনালে!

ভিআইপি কালচার চলতে দেবেন না। আবার প্রধানমন্ত্রীর অনুকরণে কনভয়ের গাড়ির সংখ্যা কমাবেন। এই প্রতিশ্রুতি দিয়েও শেষ পর্যন্ত যেভাবে...

আইএফএ-র লিগে বেনজির কাণ্ড, ফুটবলারদের মারে গুরুতর অসুস্থ রেফারি

ফুটবল মাঠের রেফারি নিগ্রহের ঘটনা নতুন কোন বিষয় নয়। রেফারি সিদ্ধান্ত মনঃপুত না হলেই তার দিকে তেড়ে যান...

সুরকারের সঙ্গে প্রেম! বছর শেষেই বিয়ে করছেন কাব্য?

শেষ লগ্নে আইপিএল।এবার বিয়ের সানাই বাজছে সানরাইজার্স হায়দরাবাদ দলের মালিক কাব্য মারানের(Kavya Maran )। দলের  সঙ্গে সব সময়...

মোহনবাগান-AIFF ফের সংঘাত, জাতীয় ক্রীড়া নীতি লাগু ফেডারেশনের

আইএসএল মিটতেই ফেডারেশনের(AIFF) সঙ্গে সংঘাত শুরু মোহনবাগানের(Mohun bagan)। আসন্ন ইউনিটি কাপের(Unity Cup)জন্য আয়োজিত ক্যাম্প থেকে মোহনবাগান সুপার জায়ান্ট(Mohun...