Wednesday, June 24, 2026

চিন থেকে অস্ত্র আনার ছক মাওবাদীদের, নেপথ্যে বাংলাদেশের এক বাম সংগঠন

Date:

Share post:

একের পর এক মাও বিরোধী অভিযানের জেরে দেশের মাওবাদীদের(Maoist) অবস্থা কিছুটা হলেও কোনঠাসা। এই পরিস্থিতিতে সংগঠনের সদস্যদের মনোবল ফেরাতে চিন(China) থেকে অস্ত্র(Arms) আমদানির ছক কষেছিল বাংলা ও ঝাড়খণ্ডের(Jharkhand) মাওবাদীরা(Naxal)। আর এই কাজে তাদের মধ্যস্ততাকারী হয়ে সহায়তা করছে বাংলাদেশে নিষিদ্ধ ‘পূর্ববঙ্গ সর্বহারা পার্টি’ (পিএসপি)। চিন থেকে মায়ানমার হয়ে বাংলায় অস্ত্র পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব নিয়েছে এই পিএসপি। ইতিমধ্যেই এই ডিল সফল করার লক্ষ্যে দফায় দফায় বৈঠক হয়েছে বাংলা ও ঝাড়খণ্ডের মাও সংগঠন ও বাংলাদেশের পিএসপির(PSP) মধ্যে। এবং এই তথ্য প্রকাশ্যে এসেছে ঝাড়খণ্ড পুলিসের কাছে আত্মসমর্পণকারী মাওবাদী নেতা মহারাজ প্রামাণিককে জেরা করে। চাঞ্চল্যকর এই তথ্য হাতে আসার পর ইতিমধ্যেই তদন্তে নামার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট রাজ্য গুলিকে সতর্কবার্তা পাঠানো হয়েছে কেন্দ্রের তরফে।

গোয়েন্দা সূত্রে জানা গিয়েছে, গত মার্চ মাসের শেষেই চিনা অস্ত্রের ‘কনসাইনমেন্ট’ এপারে পৌঁছে যাওয়ার কথা ছিল। তাই জঙ্গলমহল সহ এ রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে শুরু করা হয়েছে জোরদার খানাতল্লাশি। সম্প্রতি ধৃত মাওবাদীদের ‘থিঙ্ক ট্যাঙ্ক’ অরুণকুমার ভট্টাচার্য ওরফে কাঞ্চনদাকে জেরা করে বেশ কিছু তথ্য গোয়েন্দাদের হাতে এসেছে। তাঁরা জেনেছেন, ঝাড়খণ্ডের সিংভূম জেলার ঘন জঙ্গলে বছর দুয়েক ধরে নিয়মিত বৈঠক হচ্ছে মাওবাদীদের। সেখানে হাজির থেকেছেন মহারাজ প্রামাণিক, সব্যসাচী, আকাশ, জয়িতা দাস, প্রতীক ভৌমিক সহ সংগঠনের বড় মাথারা। বৈঠকে ঠিক হয়, সংগঠন বাড়াতে দরকার অর্থ ও অস্ত্র। সেই অস্ত্র তুলে দেওয়া হবে মিলিশিয়াদের হাতে।

আরও পড়ুন:উপনির্বাচনে ভরাডুবির পর বিজেপির অন্দরের বিক্ষোভ মেটাতে জরুরি বৈঠকে গেরুয়া শিবির

শুধু তাই নয়, জানা গিয়েছে, অত্যাধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র এবং সংগঠন চালানোর জন্য এক কোটি টাকা এসেছিল ছত্তিশগড় থেকে। তা বাংলায় পৌঁছে দিয়েছিলেন মহারাজ। বিদেশ থেকে অস্ত্র জোগাড়ের দায়িত্বও দেওয়া হয় তাঁকেই। কারণ, তাঁর সঙ্গে পিএসপির সুসম্পর্ক। বাংলাদেশের অতিবাম দলটির নেতারা ইতিমধ্যে বেশ কয়েকবার চিনে গিয়েছেন অস্ত্র কিনতে। ২০২১ সালের শেষ দিকে সিংভূমের জঙ্গলে হাজির হন পিএসপি’র কয়েকজন নেতা। সেখানে তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন বাংলা ও ঝাড়খণ্ডের একাধিক শীর্ষ মাও নেতা। সেখানেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় চিন থেকে মূলত নাইন এমএম ও অত্যাধুনিক ছোট আগ্নেয়াস্ত্র কেনা হবে। তারপর সেইসব অস্ত্র আনা হবে বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী জেলা খুলনাতে। এবং নদীপথে তা নিয়ে আসা হবে উত্তর ২৪ পরগনাতে। সূত্রের খবর, জঙ্গলমহল, নদীয়া ও দুই ২৪ পরগনার বিভিন্ন জায়গায় ওই অস্ত্র পাঠানোর পরিকল্পনা ছিল মাওবাদীদের। চাঞ্চল্যকর এই রিপোর্ট প্রকাশ্যে আসার পর এই সমস্ত জেলাগুলিতে শুরু হয়েছে তল্লাশি অভিযান।




Related articles

মিড ডে মিলের দায়িত্ব কেন বেসরকারি ধর্মীয় সংস্থাকে? শিক্ষাতেও কি গৈরিকীকরণ?

স্কুলছুট কমাতে ও পড়ুয়াদের পাতে পুষ্টি জোগাতে মিড ডে মিল (Mid-day Meal) চালু করেছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee)...

দুধিয়ায় বেইলি ব্রিজ নির্মাণ শুরু, স্বাভাবিক হচ্ছে শিলিগুড়ি-মিরিক যোগাযোগ

গত সপ্তাহের প্রবল বৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত শিলিগুড়ি-মিরিক (Siliguri-Mirik) সড়ক যোগাযোগ ফের স্বাভাবিক করার উদ্যোগে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার...

মহরমের মিছিলে বাজবে না ডিজে, অস্ত্র প্রদর্শনে নিষেধাজ্ঞা লালবাজারের!

শুক্রবার মহরমের (Muharram) মিছিলে একগুচ্ছ নিষেধাজ্ঞা জারি করল কলকাতা পুলিশ (Kolkata Police)। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ঠিক রাখতে, অপ্রীতিকর ঘটনা...

স্মার্ট প্রিপেইড মিটার লাগানোর নির্দেশিকা প্রত্যাহারের দাবি, আন্দোলনে গ্রাহকরা

সরকারি কর্মী ও সরকারি অর্থভোগীদের বাড়িতে প্রিপেইড স্মার্ট মিটার(Smart Meter) লাগানো বাধ্যতামূলক। সম্প্রতি নির্দেশিকা জারি করেছে রাজ্য সরকার।...