Thursday, May 7, 2026

চিন থেকে অস্ত্র আনার ছক মাওবাদীদের, নেপথ্যে বাংলাদেশের এক বাম সংগঠন

Date:

Share post:

একের পর এক মাও বিরোধী অভিযানের জেরে দেশের মাওবাদীদের(Maoist) অবস্থা কিছুটা হলেও কোনঠাসা। এই পরিস্থিতিতে সংগঠনের সদস্যদের মনোবল ফেরাতে চিন(China) থেকে অস্ত্র(Arms) আমদানির ছক কষেছিল বাংলা ও ঝাড়খণ্ডের(Jharkhand) মাওবাদীরা(Naxal)। আর এই কাজে তাদের মধ্যস্ততাকারী হয়ে সহায়তা করছে বাংলাদেশে নিষিদ্ধ ‘পূর্ববঙ্গ সর্বহারা পার্টি’ (পিএসপি)। চিন থেকে মায়ানমার হয়ে বাংলায় অস্ত্র পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব নিয়েছে এই পিএসপি। ইতিমধ্যেই এই ডিল সফল করার লক্ষ্যে দফায় দফায় বৈঠক হয়েছে বাংলা ও ঝাড়খণ্ডের মাও সংগঠন ও বাংলাদেশের পিএসপির(PSP) মধ্যে। এবং এই তথ্য প্রকাশ্যে এসেছে ঝাড়খণ্ড পুলিসের কাছে আত্মসমর্পণকারী মাওবাদী নেতা মহারাজ প্রামাণিককে জেরা করে। চাঞ্চল্যকর এই তথ্য হাতে আসার পর ইতিমধ্যেই তদন্তে নামার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট রাজ্য গুলিকে সতর্কবার্তা পাঠানো হয়েছে কেন্দ্রের তরফে।

গোয়েন্দা সূত্রে জানা গিয়েছে, গত মার্চ মাসের শেষেই চিনা অস্ত্রের ‘কনসাইনমেন্ট’ এপারে পৌঁছে যাওয়ার কথা ছিল। তাই জঙ্গলমহল সহ এ রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে শুরু করা হয়েছে জোরদার খানাতল্লাশি। সম্প্রতি ধৃত মাওবাদীদের ‘থিঙ্ক ট্যাঙ্ক’ অরুণকুমার ভট্টাচার্য ওরফে কাঞ্চনদাকে জেরা করে বেশ কিছু তথ্য গোয়েন্দাদের হাতে এসেছে। তাঁরা জেনেছেন, ঝাড়খণ্ডের সিংভূম জেলার ঘন জঙ্গলে বছর দুয়েক ধরে নিয়মিত বৈঠক হচ্ছে মাওবাদীদের। সেখানে হাজির থেকেছেন মহারাজ প্রামাণিক, সব্যসাচী, আকাশ, জয়িতা দাস, প্রতীক ভৌমিক সহ সংগঠনের বড় মাথারা। বৈঠকে ঠিক হয়, সংগঠন বাড়াতে দরকার অর্থ ও অস্ত্র। সেই অস্ত্র তুলে দেওয়া হবে মিলিশিয়াদের হাতে।

আরও পড়ুন:উপনির্বাচনে ভরাডুবির পর বিজেপির অন্দরের বিক্ষোভ মেটাতে জরুরি বৈঠকে গেরুয়া শিবির

শুধু তাই নয়, জানা গিয়েছে, অত্যাধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র এবং সংগঠন চালানোর জন্য এক কোটি টাকা এসেছিল ছত্তিশগড় থেকে। তা বাংলায় পৌঁছে দিয়েছিলেন মহারাজ। বিদেশ থেকে অস্ত্র জোগাড়ের দায়িত্বও দেওয়া হয় তাঁকেই। কারণ, তাঁর সঙ্গে পিএসপির সুসম্পর্ক। বাংলাদেশের অতিবাম দলটির নেতারা ইতিমধ্যে বেশ কয়েকবার চিনে গিয়েছেন অস্ত্র কিনতে। ২০২১ সালের শেষ দিকে সিংভূমের জঙ্গলে হাজির হন পিএসপি’র কয়েকজন নেতা। সেখানে তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন বাংলা ও ঝাড়খণ্ডের একাধিক শীর্ষ মাও নেতা। সেখানেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় চিন থেকে মূলত নাইন এমএম ও অত্যাধুনিক ছোট আগ্নেয়াস্ত্র কেনা হবে। তারপর সেইসব অস্ত্র আনা হবে বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী জেলা খুলনাতে। এবং নদীপথে তা নিয়ে আসা হবে উত্তর ২৪ পরগনাতে। সূত্রের খবর, জঙ্গলমহল, নদীয়া ও দুই ২৪ পরগনার বিভিন্ন জায়গায় ওই অস্ত্র পাঠানোর পরিকল্পনা ছিল মাওবাদীদের। চাঞ্চল্যকর এই রিপোর্ট প্রকাশ্যে আসার পর এই সমস্ত জেলাগুলিতে শুরু হয়েছে তল্লাশি অভিযান।




Related articles

সিঙ্গুরে টাটাদের ক্ষতিপূরণে স্থগিতাদেশ কলকাতা হাই কোর্টের

সিঙ্গুরে টাটাদের কারখানা (Singur Tata Motors) তৈরির ক্ষতিপূরণে স্থগিত রাখার নির্দেশ দিল কলকাতা হাই কোর্ট (Kolkata High Court)।...

মমতা হারেননি, উত্তর প্রদেশ মডেলে কমিশন-বিজেপি মিলে তৃণমূলকে হারিয়েছে: অখিলেশ

নির্বাচন কমিশন ও বিজেপি মিলে বেইমানি (বিশ্বাসঘাতকতা) করে ভোট করিয়ে বাংলায় তৃণমূলকে হারিয়েছে। বৃহস্পতিবার, কালীঘাটে তৃণমূল সভানেত্রী মমতা...

১৭৭৭টি নামের নিষ্পত্তি! ট্রাইব্যুনাল ছাড়লেন টি এস শিবজ্ঞানম

ভোট যুদ্ধ শেষে কলকাতা হাই কোর্টের (Kolkata High Court) প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি টি এস শিবজ্ঞানম (T S Sivagnanam)...

আইপিএলের মধ্যেই সতীর্থের প্রয়াণ, শোক প্রকাশ কোহলির

  আইপিএলের মধ্যে বিরাট দুঃসংবাদ। মাত্র ৩৬ বছর বয়সে প্রয়াত বিরাট কোহলির অনূর্ধ্ব ১৯ দলের সতীর্থ অমনপ্রীত সিং গিল।...