মোদি জমানায় উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে ধর্মীয় সহিষ্ণুতা, রিপোর্ট মার্কিন কমিশনের

ভারতে নরেন্দ্র মোদির(Narendra Modi) শাসনে ব্যাপকভাবে কমে গিয়েছে ধর্মীয় সহিষ্ণুতা। সম্প্রতি এমনই রিপোর্ট পেশ করল আমেরিকান কমিশন(Markin Commission)। এই রিপোর্টের পাশাপাশি ভারতের(India) উপরে একগুচ্ছ আর্থিক নিষেধাজ্ঞা চাপানোরও সুপারিশ করা হয়েছে ওই কমিশনের তরফে। যদিও ভারতের সঙ্গে কূটনৈতিক সুসম্পর্ক বজায় রাখতে গত দু’বছরের মতো এ বারও বিদেশ দফতর কোনও নিষেধাজ্ঞার পথে হাঁটবে না বলেই মত সংশ্লিষ্ট মহলের।

আমেরিকার স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত ‘কমিশন অন ইন্টারন্যাশনাল রিলিজিয়াস ফ্রিডম’ প্রতিবছর বিভিন্ন দেশের মানবাধিকার রক্ষার বিষয়টি খতিয়ে দেখে আমেরিকার বিদেশ দফতরকে রিপোর্ট দেয় এবং সেই দেশটির উপরে আর্থিক নিষেধাজ্ঞা চাপানোর বিষয়ে সুপারিশ করে। আর এই রিপোর্টে পরপর ৩ বছর জানানো হল ভারতে সংখ্যালঘুদের ধর্মীয় স্বাধীনতা ক্ষুণ্ণ হচ্ছে। এই কমিশনের তরফে ২০২১ সালে ভারতে মুসলিম ও খ্রিস্টানদের উপর ঘটা একাধিক হিংসার কথা তুলে ধরে জানানো হয়েছে, “প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকার তাদের হিন্দু রাষ্ট্রের ভাবাদর্শে চলে যে নীতি প্রণয়ন করছে, তা সংখ্যালঘুদের জন্য প্রতিকূল।” রিপোর্টে স্পষ্ট বলা হয়েছে, “ভারতে ধর্মীয় স্বাধীনতা উল্লেখযোগ্য ভাবে হ্রাস পাচ্ছে।” ভারতকে ‘যথেষ্ট উদ্বেগজনক পরিস্থিতি’ এই তালিকায় রাখার সুপারিশ করে কমিশনের রিপোর্টে বলা হয়েছে, “গণহত্যা, মানবাধিকার লঙ্ঘন, সাংবাদিক নিগ্রহের ঘটনা থেকে সরকারের মুখ ফিরিয়ে নেওয়ার প্রবণতা আমাদের যথেষ্ট উদ্বিগ্ন করেছে।”

আরও পড়ুন:দাম বাড়াবে কেন্দ্র, দায় চাপাবে রাজ্যের ঘাড়ে: পেট্রোপণ্য ইস্যুতে মোদিকে তুলোধনা মমতার

কারকিন কমিশনের এই রিপোর্টে ভারতে ধর্মীয় অসিহষ্ণুতার একাধিক উদাহরণ তুলে ধরা হয়েছে। তার মধ্যে দুটি ঘটনা হল কাশ্মীরে মানবাধিকার কর্মী খুরন পারভেজকে গ্রেফতার এবং ইউএপিএ-তে গ্রেফতার হওয়া বৃদ্ধ ফাদার স্ট্যান স্বামীর ২০২১-এর জুলাইয়ে মৃত্যু। এমনকি কর্ণাটকে যে সব হিন্দু ধর্মান্তরিত হয়ে খ্রিস্টান হয়েছে বিজেপি সরকার তাদের বাড়ি বাড়ি পুলিশ পাঠিয়ে খোঁজখবর নিয়েছে। পাশাপাশি ভারতের স্বেচ্ছাসেবী ও মানবাধিকার সংগঠন যে সমস্যার সামনে পড়ে সে কোথাও তুলে ধরা হয়েছে রিপোর্টে।




Previous articleবাংলার পাটশিল্প ধ্বংস করার কেন্দ্রের ষড়যন্ত্র সর্বশক্তি দিয়ে আটকাবে INTTUC: ঋতব্রত