আমি সৌমিত্র’: কিংবদন্তি অভিনেতার জীবনের নানা দিক নিয়ে সাজানো

বাঙালির আবেগকে ফের উসকে দিল 'আমি সৌমিত্র'

তীব্র দহনে পুড়ছে শহর। তবে তাতে ভ্রুক্ষেপ নেই সিনে-প্রেমীদের। তাঁরা ভিড় জমিয়েছেন নন্দন চত্বরে। কারণ, ২৭ তম কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব (Kiff)। বৃহস্পতিবার, সেখানে তথ্যচিত্র বিভাগে প্রদর্শিত হল সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় (Soumitra Chatterjee) অভিনীত শেষ তথ্যচিত্র ‘আমি সৌমিত্র’। পরিচালক সায়ন্তন মুখোপাধ্যায়, ক্রিয়েটিভ ডিরেক্টর সৌমিত্রকন্যা পৌলমী বসু। সিনেক্স এবং মুখোমুখি প্রযোজিত এই তথ্যচিত্রে রয়েছেন সব্যসাচী চক্রবর্তী, সন্দীপ রায়, দেবশঙ্কর হালদার, যোগেন চৌধুরী, কৌশিক সেন এবং পৌলমী বসু-সহ আরও অনেককে।

পরিচালক সায়ন্তনের এই তথ্যচিত্রে (Documentary) উঠে এসেছে কিংবদন্তি অভিনেতার সিনেমা, থিয়েটার এবং ছবি আঁকার নানা দিক। আছে তাঁর দরাজ কণ্ঠে কবিতা পাঠও। মঞ্চ, ফিল্ম, সিরিয়াল, ওয়েব সিরিজ- জীবনের শেষদিন পর্যন্ত সব জায়গায় তাঁর রাজত্ব করে গিয়েছেন সৌমিত্র। তাঁর চলে যাওয়া আজও মেনে নিতে পারেনি আপামর বাঙালি। বাঙালির এক চিরন্তন আবেগের নাম উত্তম কুমার হলে আরেক আবেগের নাম সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়। সেই আবেগকেই ফের উসকে দিল ‘আমি সৌমিত্র’।

কথায় বলে, শিল্পীর মৃত্যু হয়, শিল্পের নয়। আর তাই তো আজও বাঙালি তথা বাংলার মনে তিনি রয়ে গিয়েছেন। বাঙালির আইকন সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়।

পরিচালক সায়ন্তন মুখোপাধ্যায় বললেন, করোনা পরিস্থিতির একটু উন্নতি হতেই সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় ফিরেছিলেন শুটিং ফ্লোরে। হাতে থাকা একের পর এক ছবির শুটিং ও ডাবিং শেষ করছিলেন তিনি। যার মধ্যে ছিল এই ডকু-ফিচার। দীর্ঘ এই তথ্যচিত্রের শেষ শুটিং করেছিলেন ৩০ সেপ্টেম্বর। এই তথ্যচিত্রে শুধু অভিনেতা সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় নন, কবি, নাট্যকার, নাট্যপরিচালক, চিত্রকর সৌমিত্রকেও দর্শক আরও কাছ থেকে জানতে পারবেন।

এই তথ্যচিত্র একটু আলাদাভাবে তৈরি করেছেন পরিচালক। দীর্ঘক্ষণের আড্ডা ক্যামেরাবন্দি করেছেন তিনি। যে আড্ডায় আছেন পরিচালক সন্দীপ রায়, সব্যসাচী চক্রবর্তী, কৌশিক সেন, দেবশংকর হালদার-সহ আরও অনেকেই। অভিনয় জীবনের দীর্ঘ চলার পথে সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের নানা কাজ নিয়ে আলোচনা, কবিতাপাঠ, নাটক নিয়ে কথা বলতে দেখা গিয়েছে সবাইকে।

এই তথ্যচিত্রের সঙ্গে যিনি ওতোপ্রতোভাবে জড়িয়ে আছেন তিনি সৌমিত্র কন্যা পৌলমী। তিনি বলেন, “আমার মনে হয়েছিল বাপির তো বয়স হয়ে যাচ্ছে, তাই ওঁর চিন্তাভাবনা ও দর্শন আমাদের ধরে রাখা উচিত। এখানে একেবারে আড্ডার মাধ্যমে বাপির সিনেমা, থিয়েটার, ছবি আঁকার দিক উঠে এসেছে। কিন্তু সাহিত্যচর্চা আর ব্যক্তিগতজীবনে হাত দেওয়ার আগেই বাপি করোনায় আক্রান্ত হন। তাই ওই দিকটা তুলে ধরা যায়নি।” সহজ কথায়, আড্ডার মাধ্যমে সৌমিত্রর জীবনদর্শন তুলে ধরা হয়েছে এই তথ্যচিত্রে।

দু ঘণ্টা ঊনচল্লিশ মিনিটের এই ডকু-ফিচারটিতে মূলত সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের আপাত-অপরিচিত দিকগুলির ওপরেই জোর দেওয়া হয়েছে। বহুমুখী প্রতিভাধর মানুষটির ভাবনা, জীবনদর্শন, আদর্শ, রাজনৈতিক চেতনা— যা বলে যেতে তিনি নিজেই উম্মুখ ছিলেন শেষ দিকে। তাঁর লেখালিখি, কবিতা, ছবি আঁকা এসব ছিল নিজস্ব অবসরের একান্ত যাপন। সেগুলোয় আলোকপাত করা হয়েছে এই তথ্যচিত্রে।

আরও পড়ুন:জাহাঙ্গিরপুরীতে হিংসার মাস্টারমাইন্ড গ্রেফতার তমলুকে

 

 

Previous articleEastBengal: এফসি গোয়ার ইভান গঞ্জালেসকে সই করাতে চলেছে লাল-হলুদ ক্লাব: সূত্র