সিনেমার খিদে মেটাতে চলে এল দেবের নতুন স্বাদের  ছবি ‘কিশমিশ’

এতদিন টনিকে মত্ত ছিলেন দর্শকরা। আর এবার তাঁদের সিনেমার খিদে আরও মেটাতে চলে এল ‘কিশমিশ’। প্রিয় সিনেমা হলে হল ছবির  জমজমাট প্রিমিয়ার।  এই ফিল্মেও প্রধান ভূমিকায়  দেব। সঙ্গে  আছেন রুক্মিণী মৈত্র এবং খরাজ মুখোপাধ্যায় প্রমুখ। দেবের হাউস প্রোডাকশন অর্থাৎ ‘দেব এন্টারটেনমেন্ট ভেঞ্চার্স’ প্রযোজিত ছবি ‘কিশমিশে’ মূলত রোম্যান্টিক গল্পের বুনন। আর তার সঙ্গে রয়েছে নানা রকমের প্লট।

বরাবরই কাজ নিয়ে খুব সিরিয়াস থাকেন দেব। আর কিশমিশ যেহেতু তাঁর হোম প্রোডাকশন তাই এই ফিল্ম নিয়ে যে কোনও রকম গাফিলতি তিনি বরদাস্ত করবেননা, সেটাই স্বাভাবিক। আর এই ট্রেলার নিয়ে দেবের স্যোশাল মিডিয়ায় এসেছে এক ভিডিও, যেখানে দেখা গিয়েছে তিনি তাঁর সহকর্মীদের বকাঝকা করছেন যে কেন ট্রেলার তৈরি হয়নি তাই জন্য। কিন্তু এই সবই যে ভুয়ো, তা জানা যায় শেষ দৃশ্যে। কিশমিশ ছবিতে দেবের চরিত্রের নাম ‘টিনটিন’, আর সেখানেই তাঁকে নিজের চরিত্রের বেশভূষাতেই দেখা গিয়েছে। অবশ্য এই ভিডিও দেখে খুব মজা পেয়েছেন দর্শকরা।কিশমিশে কিছু স্পেশাল চরিত্রে দেখা গেল যিশু সেনগুপ্ত, শ্রাবন্তী এবং অঙ্কুশকে।

প্রেম-ভালবাসা, ঝগড়া-বিচ্ছেদ, বন্ধুত্ব কী নেই! এক্কেবারে রোমিও ছেলের ভূমিকায় থাকছেন দেব। যার নাম কৃশাণু। রোহিনী নামে আধুনিকমনস্কার প্রেমে পড়ে সে। যে কৃশাণুকে সবাই ‘ফেলুদা’ বলেই চেনে। ‘ফেলুদা’ মানে গোয়েন্দা ফেলু মিত্তির নয়! আসলে স্কুল-কলেজে ফেলের ধারা বজায় রেখেছিল। আর সেখান থেকেই নাম ‘ফেলুদা’। তবে রোহিণী তার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে দেয়। তারপরই আত্মহত্যা করার চেষ্টা করে ফেলুদা। তারপর? জানতে হলে ছবিটি দেখতে যেতে হবে প্রেক্ষাগৃহে।
তবে ‘কিশমিশ’ নিয়ে এসেছে এক নতুন অধ্যায়। দেবের কথায়, স্বাদ বদলে ছবি দর্শকদের উপহার না দিয়ে বড্ড বেশি একঘেয়ে হয়ে যেতে হয়। আর তাই বর্তমানে নিজের প্রতিটা ছবিকেই বিশেষ যত্নে সাজিয়ে তোলার চেষ্টা করছি। গল্প পাল্টে, প্লট পাল্টে, নিজের উপস্থাপনাকে পাল্টে ফেলে বারে বারে ভাল ছবি উপহার দেওয়ার চেষ্টা করছি।

আজ শুক্রবার  মুক্তি পেল দেব-রুক্মিণীর রোম্যান্টিক ছবি ‘কিশমিশ’। ছবির ট্রেলার এবং একের পর এক গান ইতিমধ্যেই জিতে নিয়েছে দর্শকের মন।ছবিতে দেব ও রুক্মিণীর সঙ্গে মুখ্য ভূমিকায় অভিনয় করেছেন কমলেশ্বর মুখোপাধ্যায়,খরাজ মুখোপাধ্যায়,অঞ্জনা বসু ও জুন মালিয়া।

দীর্ঘদিন পর রোম্যান্টিক ছবিতে জুটি বেঁধেছেন দেব ও রুক্মিণী।কাজেই ‘কিশমিশ’ নিয়ে যে দেব ভক্তদের দারুণ উন্মাদনা রয়েছে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। দেব আগেই ঘোষণা করেছিলেন,  শুক্রবার  ‘‘২৯ এপ্রিল বিয়ে করছি রুক্মিণীকে!’’ যাঁকে কেউ কিছুতেই ছাদনাতলায় নিয়ে যেতে পারছিলেন না, সেই দেব তাঁর ছবি ‘কিশমিশ’-এর মুক্তির দিন নাকি সাতপাক ঘুরতে চলেছেন রুক্মিণী মৈত্রের সঙ্গে! কথাটা কানে যাওয়া মাত্রই তুমুল শোরগোল অনুরাগীদের মধ্যে।

পরিচালক রাহুল মুখোপাধ্যায়, চিত্রগ্রাহক মধুরা পালিত, হবু কনে রুক্মিণী মৈত্র নিজেদের অস্তিত্বে একশোভাগ উজার করে দিয়েছেন ।

‘কিশমিশ’-এর দ্বিতীয় গান ‘ভালবেসে চলে যাব’তে জায়গা করে নিয়েছে আটের দশকের ভালবাসা। হোয়াটসঅ্যাপে ইমোজি পাঠিয়ে ভালবাসি বলা নয়, তখন প্রেম আসত লুকিয়ে চুরিয়ে, আলগোছে। কখনও ভো-কাট্টা ঘুড়ির বুকে প্রেমপত্র। কখনও গানে গানে। নাটকের মহড়ায়। রাজনৈতিক মিছিলেও। সেই গানে আরও যেন টাটকা দেব-রুক্মিণী রসায়ন। যা দেখে মনে হতে বাধ্য, ষষ্ঠ ছবিতে নতুন করে প্রেমে পড়েছেন তাঁরা।
একটি গানের দৃশ্য দেবকে নিয়ে মজার ছলে বলিয়ে নিয়েছে তাঁর বিয়ের তারিখ! এই একটি গান তৃণমূল সাংসদের হাতে বাম দলের পতাকা ধরিয়ে দিয়েছে! গানের দৃশ্যের মিছিলে দেব লাল ঝান্ডা নিয়েছেন। শাসকদলে এর কোনও ছাপ পড়বে না তো? দেবের দাবি, আটের দশক ফিরিয়ে আনতে গেলে বাম দলকে ফিরিয়ে আনতেই হবে। কারণ, তখন তাদেরই জমানা। পাশাপাশি আরও যুক্তি, ‘‘তৃণমূলের সমর্থক হলেও আজ পর্যন্ত কোনও বিরোধী দল সম্পর্কে কোনও কুমন্তব্য করিনি। সব দলকে সমান সম্মান দিই। আমার কাছে মানুষের জন্য রাজনীতি। পেশার ক্ষেত্রে আগে অভিনেতা তার পর রাজনীতিবিদ। তাই লাল ঝান্ডা হাতে তুলে নিতে আমার কোনও অস্বস্তি হয়নি।’’

দেবের মতোই ছবির গানে ভেসেছেন রুক্মিণীও। তাঁর কথায়, ‘এই ছবির শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ভালবাসার কথা বলা হয়েছে। সেই ভালবাসা যা আমার দাদু-দিদার ছিল। এমন খাঁটি অনুভূতি এখন দুর্লভ। শুধু মাত্র এই কারণেই ছবিটি করতে রাজি হয়েছি।

আরও পড়ুন- সেজে উঠছে তৃণমূলের নতুন ভবন, অক্ষয় তৃতীয়ায় পুজো-আর্চার মধ্যে দিয়ে দ্বারোদঘাটন

 

 

 

Previous articleসেজে উঠছে তৃণমূলের নতুন ভবন, অক্ষয় তৃতীয়ায় পুজো-আর্চার মধ্যে দিয়ে দ্বারোদঘাটন