সেজে উঠছে তৃণমূলের নতুন ভবন, অক্ষয় তৃতীয়ায় পুজো-আর্চার মধ্যে দিয়ে দ্বারোদঘাটন

সোমনাথ বিশ্বাস

পার্টির জন্মলগ্ন থেকে প্রায় দু’দশক রাজ্যের বর্তমান শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের সদর দফতর ছিল বাইপাসের ধারে তপসিয়ায় পঞ্চানগ্রাম। গতবছর বিধানসভা ভোটের পর দলীয় একটি বৈঠক থেকে নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়ে দেন, আরও সুন্দর করে গড়ে তুলতে হবে দলের সদর দফতরকে। যাতে পার্টির সমস্তস্তরের কার্যকলাপ একছাতার তলায় একই দফতর থেকে সম্পন্ন করা যায়। নেত্রীর ঘোষণার কয়েকদিনের মধ্যেই পুরনো ভবন সম্পূর্ণ ভেঙে দিয়ে নতুন করে সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া শুরু হয়। তবে সেই সংস্কার সম্পূর্ণ হতে সময় লাগবে বেশ কয়েক বছর। তারপর থেকে পার্টির বিভিন্ন কার্যকলাপ, বৈঠক, সাংবাদিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে কখনও তপসিয়ার একচিলতে ক্যাম্প অফিসে, কখনও বা ক্যামাক স্ট্রীটে ভাড়া করা হোটেলে, আবার কখনও কখনও কালীঘাটে নেত্রীর বাড়ির দফতর বা ভবানীপুর, চেতলার কোনও শাখা অফিসে। কিন্তু জায়গা সংকুলান হওয়ায় তাতে সমস্যা বেড়েছে।

তাই নেত্রী নিজের উদ্যোগে ভাড়ায় পার্টি অফিসের খোঁজ লাগান। কলকাতা শহরের বেশকিছু বড়সড় বিল্ডিং দেখার সময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের চোখে লাগে ইএম বাইপাস সংলগ্ন মেট্রোপলিটানের বাসস্টপ সংলগ্ন ক্যানাল সাউথ রোডের একটি পাঁচতালা বাড়ি। পছন্দ হতেই সবুজ সংকেত দেন তৃণমূল নেত্রী। আপাতত কয়েক বছরের জন্য সেটাই হতে চলেছে রাজ্যের শাসক দলের সদর দফতর। যার পোশাকি নাম “তৃণমূল ভবন”। তবে ঠিকানা পরিবর্তন হলেও মূল দফতরের থেকে নতুন ভবনের দূরত্ব ঘড়ির কাঁটায় মাত্র ৫ মিনিট।

এবার কয়েকটি বছর নয়া ঠিকানাতেই আসবেন তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা। অক্ষয় তৃতীয়ায় শুভলগ্নে আনুষ্ঠানিক দ্বারোদ্ঘাটনের আগে রেন্টে নেওয়া অস্থায়ী তৃণমূল ভবন এখন সাজ সাজ রব। চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। একেবারে পাঁজি দেখে অক্ষয় তৃতীয়ার শুভক্ষণে (ওইদিন মুসলিম সম্প্রদায়ের পবিত্র ঈদও) নতুন ভবনের “গৃহ প্রবেশ” হবে। দুপুর ১টা নাগাদ রীতি-আচার মেনে পুজো করবেন দলের বর্ষীয়ান নেতা, বিধায়ক তথা মন্ত্রী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়।

ঠিক কেমন হতে চলেছে তৃণমূলের নতুন ভবন?

প্রায় ১৫ হাজার বর্গফুটের পাঁচতলার (প্রতিটি ফ্লোর ৩ হাজার বর্গফুট) এই নতুন ভবনটি ঝাঁ-চকচকে। বিভিন্ন ছবিতে নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বর্ণময় রাজনৈতিক কেরিয়ারের কোলাজে সাজানো থাকবে গোটা ভবন। তৃণমূল সূত্রে খবর, তিনতলায় দলনেত্রীর পৃথক কক্ষ থাকছে। তিনতলাতেই থাকছে দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কক্ষ। পাশাপাশি থাকছে রাজ্যের আরও দুই মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম, অরূপ বিশ্বাসের কক্ষ।

গ্রাউন্ড ফ্লোরে বসবেন দলের রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সি। পাশেই রিসেপশন ও অফিস স্টাফদের কক্ষ। পৃথক কক্ষ থাকছে পার্থ চট্টোপাধ্যায়, সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের। এছাড়া দলের প্রতিটি শাখা সংগঠনের (ছাত্র, যুব, শ্রমিক, মহিলা, শিক্ষক, অধ্যাপক ইত্যাদি) শীর্ষ নেতা-নেত্রীদের পৃথক কক্ষের বন্দোবস্ত করা হয়েছে। প্রতিটি ফ্লোরেই থাকছে আলাদা কনফারেন্সে রুম। একতলায় থাকছে আধুনিক মিডিয়া কনফারেন্স রুমে। এক ফ্লোর থেকে থেকে অন্য ফ্লোরে যাওয়ার জন্য রয়েছে লিফট ও সিঁড়ি। সেন্ট্রাল এসি না হলেও প্রতিটি ফ্লোর থাকছে শীততাপ নিয়ন্ত্রণে। পর্যাপ্ত অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থাও রয়েছে। যেহেতু নতুন এই ভবনে ভিআইপি-ভিভিআইপিদের নিয়মিত যাতায়াত লেগে থাকবে, তাই গোটা ভবন মুড়ে ফেলা হয়েছে সিসিটিভি দিয়ে নিরাপত্তারক্ষীরাও সজাগ থাকবেন সর্বক্ষণ। পর্যাপ্ত পার্কিংয়ের ব্যবস্থাও করা হয়েছে।

অন্যদিকে, নতুন ভবনে গৃহপ্রবেশের পাশাপাশি অক্ষয় তৃতীয়ার শুভলগ্নে পুরোনো ভবনে সংস্কারে হাত লাগানোর আগে একইদিনে সেখানে ভিতপুজো হতে পারে বলে জানা গিয়েছে। বর্ষার আগে মে মাসে মূল ভবনের সংস্কার শুরু করা হতে পারে।

আরও পড়ুন- সময়টা একেবারেই ভালো যাচ্ছে না, এবার খাট ভেঙে পড়লেন শুভেন্দু

 

 

Previous articlePv Sindhu: এশিয়া চ্যাম্পিয়নশিপের সেমিফাইনালে সিন্ধু