নোবেল-চুরি: তৃণমূলকে নিশানা রাহুলের, পাল্টা তোপ দাগলেন কুণাল

সিবিআইয়ের পিটিশনে কোথাও লেখা নেই যে রাজ্য সরকার সহযোগিতা করছে না। যেকথা সিবিআই নিজেই বলেনি, যে কথা সিবিআইয়ের পিটিশনেই লেখা নেই, সে কথা রাহুল সিনহা কোথা থেকে বলছেন? রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নোবেল চুরির তদন্তে সিবিআইকে রাজ্য সরকারের সহযোগিতার প্রশ্নে বিজেপি নেতা রাহুল সিনহাকে তুলোধনা করলেন তৃণমূল মুখপাত্র কুনাল ঘোষ। কুণাল এদিন রাহুল সিনহাকে ‘ভ্রাম্যমান পরাজিত’ নেতা বলেও কটাক্ষ করেছেন।

 

বিজেপি নেতা রাহুল সিনহা বলেছিলেন, “তৃণমূলের যে প্রচার মুখপাত্র তাতে বলা হয়েছে যে নোবেল পুরস্কার কোথায় গেল। সিবিআই যাতে নোবেল খুঁজে না পায়, তার জন্য সব অসহযোগিতা রাজ্য সরকার করেছে। কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলিকে রাজ্য সরকার তদন্তে বাধা দিয়েছে। ‘ রাহুল সিনহার এই বক্তব্যের প্রেক্ষিতেই কুণাল ঘোষ বলেন, ‘ রাহুল সিনহা মনে রাখবেন নোবেল চুরির তদন্ত সিবিআই নিয়েছিল ২০০৪ সালে । তখন পশ্চিমবঙ্গে রাজ্য সরকার বলতে কিন্তু সি পি এমের সরকার। বামফ্রন্ট সরকার। ফলে সরকার সহযোগিতা করেনি বলে তিনি যে অভিযোগ করছেন সেটা তৃণমূল সরকারের দিকে যাচ্ছে না । দায় বর্তাচ্ছে বামফ্রন্ট সরকারের উপর। ২০০৪ সাল থেকে ১৮ বছর ধরে নোবেল চুরির তদন্ত চলছে। তার মাঝখানে একাধিকবার আদালতে গেছে সিবিআই । জানিয়েছে তদন্ত আর এগিয়ে নিয়ে যাওয়া যাচ্ছে না। কিন্তু সেখানে কোথাও লেখা নেই যে রাজ্য সরকার সহযোগিতা করছে না।’

২৫ শে বৈশাখে রবি ঠাকুরের জন্মের শুভ লগ্নে সকল রবীন্দ্র প্রেমীদের প্রশ্ন নোবেল চুরি তদন্তের কী হলো? সিবিআই শেষ পর্যন্ত কোন পরিণতিতে পৌছল? ১৮ বছর পার করেও তদন্ত শেষ করে চুরি যাওয়া নোবেল উদ্ধার করে দিতে পারেনি সিবিআই । কোনও কিনারা হয়নি সিবিআইয়ের তদন্তে। অথচ, আশ্চর্যজনকভাবে তদন্ত শেষও করেনি তারা। অত্যন্ত দায়সারাভাবে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা আদালতে জানিয়ে দেয় যে, তদন্তে আশানুরূপ অগ্রগতি হয়নি। তাই তদন্ত বন্ধ রাখা হোক। নতুন সূত্র মিললে তবেই ফের তদন্ত হবে। এভাবে কার্যত ধামাচাপা দিয়ে দেওয়া হয় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নোবেল চুরিকাণ্ড। তদন্ত আর এগিয়ে নিয়ে যাওয়া তাদের পক্ষে সম্ভব নয় বলে ব্যর্থতার দায় স্বীকার না করেই দীর্ঘসূত্রতায় বছরের পর বছর পার হচ্ছে।

ঠিক এই জায়গাতেই প্রশ্ন উঠছে তাহলে তদন্ত কেন ছাড়ছে না সিবিআই? নাকি, ব্যর্থতার দায় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার উপরে এসে পড়বে বলে বিষয়টিকে ক্লোজড বলে উল্লেখ করা হচ্ছে। একটা তদন্ত শেষ না করে, অন্তিম পরিণতি আদালতকে না জানিয়ে কীভাবে ক্লোজ করা যায় ? রাজ্যের প্রতিটি রবি অনুরাগীর মনে এখন এই একটাই প্রশ্ন তাহলে কী সিবিআই ব্যর্থ ? তাহলে কী সিবিআই আর রবি ঠাকুরের নোবেল খুঁজে আনতে পারবে না?

 

Previous articleগানে গানে কবি-প্রণাম মুখ্যমন্ত্রীর