বেআইনি-অসাংবিধানিক: পুরসভার প্যাডে বিজেপির নেতাদের স্বাক্ষর! তোপ দাগলেন মালা

KMC-র লোগো দেওয়া ও ঠিকানা লেখা লেটার হেডে ৩ কাউন্সিলরের কাউন্সিলর সজল ঘোষ , মীনাদেবী পুরোহিত ও বিজয় ওঝার পাশাপাশি সই করেছেন কলকাতা জেলা বিজেপির ৩ নেতা উত্তর কলকাতা জেলা বিজেপির সভাপতি কল্যাণ চৌবে সহ-সভাপতি গুলাব সিং ও সাধারণ সম্পাদক তমোঘ্ন ঘোষ ।

বিধানসভা হোক বা পুরসভা- কোনও নির্বাচনেই শিকে ছেঁড়েনি যে বিজেপি (BJP) নেতাদের, তাঁদের বোধহয় প্রশাসনিক প্যাডে নিজেদের নাম দেখার ইচ্ছে হয়েছে। না হলে কলকাতা পুরসভা প্যাডে লেখা চিঠিতে কীভাবে সই করেন তাঁরা! এই কাজ বেআইনি-অসাংবিধানিক বলে তোপ দাগে কলকাতা পুরসভার চেয়ার পার্সেন মালা রায় (Mala Ray)। ঘটনার সূত্রপাত শনিবার, মেট্রোর কাজের জেরে বউবাজারে ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনের দাবিতে মেট্রো রেলের কাছে চিঠি লিখেছে বিজেপি। জেনারেল ম্যানেজারের সঙ্গে দেখা করেন চিঠি দেন কলকাতা পুরসভায় বিজেপির (BJP) তিন কাউন্সিলর-সহ নেতারা। KMC-র লোগো দেওয়া ও ঠিকানা লেখা লেটার হেডে ৩ কাউন্সিলরের কাউন্সিলর সজল ঘোষ (Sajal Ghosh), মীনাদেবী পুরোহিত (Minadevi Purohit) ও বিজয় ওঝার পাশাপাশি সই করেছেন কলকাতা জেলা বিজেপির ৩ নেতা উত্তর কলকাতা জেলা বিজেপির সভাপতি কল্যাণ চৌবে (Kalyan Chaubey), সহ-সভাপতি গুলাব সিং (Gulab Singh) ও সাধারণ সম্পাদক তমোঘ্ন ঘোষ (Tamagna Ghosh)। কিন্তু এই বেআইনি কাজটা তাঁরা করলেন কী করে?

KMC লেটার হেডে তিন কাউন্সিলর নিশ্চয় চিঠি লিখতে পারেন। কিন্তু কীভাবে সেই প্যাডে লেখা চিঠিতে স্বাক্ষর করলেন কল্যাণরা! গত বিধানসভা নির্বাচনে মানিকতলা কেন্দ্র থেকে নির্বাচনে লড়ে গোহারা হেরেছেন বিজেপি প্রার্থী কল্যাণ চৌবে। এর আগে কৃষ্ণনগর দক্ষিণ কেন্দ্র থেকে দাঁড়িয়েও পরাজিত হন প্রাক্তন ফুটবলার। সেই কারণে প্রশাসনিকস্তরে কোনও লেটারহেডে স্বাক্ষর করার সুযোগ এখনও হয়নি। বাকিদের অবস্থাও তথৈবচ। সুতরাং দুধের সাধ গোলে মেটাতে বেআইনি কাজ করতেও পিছুপা হলেন না বিজেপির তিনি প্রথমসারির নেতা।

তিন নেতার স্বাক্ষর করাই নয়, বিতর্ক তৈরি হয়েছে এই ধরণের প্যাড ছাপানো নিয়েও। পুরসভার চেয়ারপার্সন তথা সাংসদ মালা রায় বলেন, পুরোটাই অসাংবিধানিক ও বেআইনি। এরপরে তোপ দেগে তিনি বলেন, কেন্দ্র থেকে রাজ্য- বিজেপির কোনও নেতাই সংবিধানের ধার ধারে না। গণতন্ত্রকে অপমান করে। পুর কাউন্সিলররাও সেই পথে চলছে। পুরসভায় দলের মুখ্যসচেতক বা বিরোধী দলনেতা কে তা বিজেপি জানায়নি বলে মন্তব্য করেন মালা। অন্তর্দ্বন্দ্বে জর্জরিত বিজেপি পুরবোর্ড তৈরি হয়ে যাওয়ার কয়েক মাস পরেও এখনও পরিষদীয় দলনেতা বা মুখ্যসচেতক ঠিক করতে পারেনি। এই পরিস্থিতিতে আরও বিতর্ক বাড়ালেন বিজেপি তিন নেতা। সঙ্গী তিন কাউন্সিলর।



Previous articleসিরিয়ালের জনপ্রিয় অভিনেত্রীর রহস্যমৃত্যু, টলিপাড়ায় শোকের ছায়া