Bangladesh floods: বাংলাদেশে বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ,জলবন্দি প্রায় ৪০ লাখ মানুষ

ব্রহ্মপুত্র, ধরলা নদীর জল বেড়ে যাওয়ার কারণে জলবন্দি কুড়িগ্রামের উলিপুর ফুলবাড়ী, চিলমারী, রাজারহাট এলাকার অন্তত ৪০ হাজার মানুষ। পটুয়াখালীতে উজানের ঢলের কারণে নদ-নদীতে জলের উচ্চতা স্বাভাবিকের চেয়ে ২-৩ ফুট বেড়েছে

বিশেষ প্রতিনিধি, ঢাকা: সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বন্যা পরিস্থিতি অবনতি হচ্ছে বাংলাদেশে। বিপর্যস্ত সিলেট ও সুনামগঞ্জসহ বাংলাদেশের বেশি কিছু জেলা। আগামী দু’দিন এই বন্যা পরিস্থিতি আরও অবনতি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। প্লাবিত হয়েছে সিলেট, সুনামগঞ্জ এলাকা। ব্রহ্মপুত্র, ধরলা নদীর জল বেড়ে যাওয়ার কারণে জলবন্দি কুড়িগ্রামের উলিপুর ফুলবাড়ী, চিলমারী, রাজারহাট এলাকার অন্তত ৪০ হাজার মানুষ। পটুয়াখালীতে উজানের ঢলের কারণে নদ-নদীতে জলের উচ্চতা স্বাভাবিকের চেয়ে ২-৩ ফুট বেড়েছে। ফলে প্লাবিত অনেক গ্রাম। তলিয়ে গিয়েছে কয়েক হাজার হেক্টর জমি। জল জমেছে চট্টগ্রাম এলাকাতেও।

এদিকে আরও কিছু জেলা বন্যার কবলে পড়তে পারে। কারণ সেসব এলাকায় নদীগুলোর জল আরও বাড়তে শুরু করেছে। সেইসঙ্গে সিলেট, সুনামগঞ্জ, নেত্রকোনা, লালমনিরহাট, নীলফামারী, রংপুর ও কুড়িগ্রাম জেলার বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে। ইতিমধ্যেই সিলেট ও সুনামগঞ্জে প্রায় পুরো এলাকা বন্যার জলে ডুবে গিয়েছে। জলবন্দি মানুষকে উদ্ধার করতে নামে সেনাবাহিনী। কিন্তু এখনও সেই এলাকার অনেককেই উদ্ধার করে নিয়ে আসা যায়নি। একে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন, তার ওপরে বিদ্যুৎ না থাকায় সমস্যা আরও বেড়েছে।

ওই এলাকায় যেতে সমস্যা হচ্ছে। কারণ সেখানে যাওয়ার জন্য এখন একমাত্র ভরসা নৌকা। কিন্তু নৌকার জন্য চাওয়া হচ্ছে মাত্রাতিরিক্ত ভাড়া। আবার আবার কোথাও কোথাও অতিরিক্ত ভাড়া দিয়েও মিলছে না নৌকা। এই সময়ে সুযোগ বুঝে নৌকার মালিক ও মাঝিরা নৌকার ভাড়া কয়েকগুণ বাড়িয়ে দিয়েছেন। অনেকেই অভিযোগ করছেন, অন্য সময়ে যে পথ যেতে নৌকায় লাগে ৮০০ টাকা, সেখানেই এখন ৪০-৫০ হাজার টাকা চাওয়া হচ্ছে। সিলেটের মতই একই চিত্র সুনামগঞ্জে। আগে যেখানে জনপ্রতি ভাড়া নেওয়া হত ২০ থেকে ৫০ টাকা। সেখানেই এখন ১৫০০ টাকা চাওয়া হচ্ছে।

আরও পড়ুন- সরকারি হাসপাতাল ও মেডিক্যাল কলেজগুলিতে মানসিক চিকিৎসার ব্যবস্থা সম্পর্কে জানতে চাইল স্বাস্থ্য দফতর
শুধুমাত্র সাধারণ মানুষ নন, একই সমস্যা প্রশাসনের। ত্রাণকাজ ও উদ্ধার কাজে গতি আনার অতিরিক্ত ভাড়া দিতে রাজি হলেও নৌকা পাচ্ছেন না বলেও জানান আধিকারিকরা। এই সমস্যার কথা মেনে নিয়েছেন সিলেটের জেলাশাসক মহম্মদ মজিবর রহমান। তিনি বলেন, “কিছুটা অতিরিক্ত ভাড়া দিয়েও উদ্ধার কাজের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যক নৌকা আমরা পাচ্ছি না। এত বেশি ভাড়া হাঁকা হচ্ছে বলে জানা ছিল না। বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

জানা গিয়েছে, শতাব্দীতে এমন বন্যা হয়নি। প্রবল বর্ষণের জেরে সেখানে তৈরি হয়েছে এই বন্যা পরিস্থিতি। এর মধ্যে সিলেটের অবস্থা ভয়াবহ। শুধু বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়েই মারা গিয়েছেন ২১ জন। এখনও পর্যন্ত পাওয়া খবর বন্যায় মৃতের সংখ্যা ৩২।
সরকারি ভাবে জানানো হয়েছে, বাংলাদেশের ১০টি জেলা বন্যার কবলে পড়েছে। বগুড়া, জামালপুর, গাইবান্ধা, লালমনিরহাটে দেখা দিয়েছে বন্যা-পরিস্থিতি। বাংলাদেশের এক প্রতিমন্ত্রীর কথায়, ১২২ বছরের ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ বন্যা হচ্ছে সিলেট ও সুনামগঞ্জে। ভারতের অসম-মেঘালয়ে প্রবল বৃষ্টির জেরেই পড়শি দেশের এই দুর্ভোগ বলেও দাবি তাঁর।

জলবন্দি হয়ে পড়েছেন দুই জেলার প্রায় ৪০ লাখ মানুষ। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এটি সিলেটে স্মরণকালের ভয়াবহ বন্যা। জলবন্দি মানুষের মধ্যে হাহাকার ও আর্তনাদ চলছে। আশ্রয়ের খোঁজে জলের-স্রোত ভেঙে ছুটছে মানুষ। সবচেয়ে বিপদে শিশু ও বয়স্করা। আটকে পড়াদের উদ্ধার করে আশ্রয়কেন্দ্রে নেওয়া হচ্ছে। যেখানেই শুকনো ও উঁচু জায়গা পাওয়া যাচ্ছে সেখানেই আশ্রয় নিচ্ছে মানুষ।

সিলেটের অন্যতম বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র কুমারগাঁও স্টেশনে জল ঢুকে বন্ধ হয়ে গেছে সিলেটের বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা। সুনামগঞ্জে গত তিন দিন ধরে বিদ্যুৎ না থাকায় মোবাইল নেটওয়ার্ক ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে, কারও সঙ্গে যোগাযোগ করা যাচ্ছে না।
এদিকে, সিলেটে বন্যা দুর্গত এলাকায় জলবন্দি লোকজনকে উদ্ধারে সেনাবাহিনী ও নৌবাহিনী তৎপর রয়েছে। সেনাবাহিনীর ১০ প্লাটুন, ৬টি মেডিকেল টিম, নৌবাহিনীর ৩৫ সদস্য দুটি টিমে ভাগ হয়ে কাজ শুরু করেছে।

উদ্ধারকাজে নৌবাহিনী সদস্যরা নিজস্ব ক্রজ  ও বিমানবাহিনীর হেলিকপ্টার ব্যবহার করছেন। ৬০ জনের আরেকটি বিশেষ দল আরও ক্রুজ ও হেলিকপ্টারসহ উদ্ধার কাজে হাত লাগিয়েছে। সিলেট দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ শাখা জানিয়েছে, ১৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা, ৭ হাজার ৯০০ বস্তা শুকনো খাবারের প্যাকেট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। মন্ত্রণালয় আরও ৮ হাজার প্যাকেট খাবার ও ৩০ লাখ টাকা বরাদ্দ দিয়েছে।সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার মুহাম্মদ মোশাররফ হোসেন বলেছেন, ‘সিলেট ও সুনামগঞ্জের ১২ উপজেলায় বন্যা পরিস্থিতি সবচেয়ে খারাপ। এসব এলাকায় আমরা সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছি। সেনাবাহিনী ও নৌবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।’

Previous articleবৃষ্টি মাথায় ছেলের সঙ্গে ফুটবলে মাতলেন আমির, ভাইরাল ভিডিও