Friday, June 12, 2026

রাজ্যপাল কোনও পক্ষের নয়, তিনি সকলের: ‘ক্ষমতা খর্বের’ পর বার্তা পার্থর

Date:

Share post:

বিধানসভার চলতি অধিবেশনে রাজ্যের সমস্ত সরকারি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য ও পরিদর্শক পদ থেকে রাজ্যপালকে সরিয়ে দিতে বিল পাশ হয়েছে। ভূমি ও কর ট্রাইব্যুনালে নিয়োগ সংক্রান্ত ক্ষমতা ছাঁটতেও উদ্যোগী হয়েছে রাজ্য সরকার। তবে ব্যক্তিগত ভাবে রাজ্যপালের সঙ্গে সরকারের কোনোও বিরোধ নেই। বিধানসভা অধিবেশনের শেষ দিনে ধন্যবাদ জ্ঞাপন পর্বে রাজ্যপাল নিয়ে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করলেন পরিষদীয় মন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়।

এদিন বিধানসভায় পরিষদীয় মন্ত্রী বলেন, “এটি ব্যক্তিগত রাজ্যপালের বিরুদ্ধে নয়। রাজ্যপাল সকলের। রাজ্যপাল এক পক্ষের হতে পারেন না। যাঁরা ব্যক্তিগত কারণে রাজ্যপালকে ব্যবহার করার চেষ্টা করছেন, তাঁদের বলব রাজ্যপাল কারও নয়, তিনি সকলের। শিক্ষায় রাজনীতিকরণ করার ইচ্ছা এই সরকারের কোনওভাবেই নেই।” উল্লেখ্য, বিগত কিছুদিন ধরেই একাধিক বিল নিয়ে তর্জা শুরু হয়েছে রাজ্য রাজনীতিতে। রাজ্য বিধানসভার অধিবেশনে পাশ হয়েছে আচার্য বিল সহ একাধিক বিল। ওই বিলগুলির মাধ্যমে রাজ্যপালের ক্ষমতা খর্ব করা হচ্ছে বলে অভিযোগ তুলেছে বিরোধীরা।

শুরু থেকেই এই বিলগুলির বিরোধিতা করছে বিরোধী শিবির। আক্রমণের সুর চড়িয়েছেন বিজেপি নেতা, বিধায়করা। কিছুদিন আগে রাজভবনে গিয়ে রাজ্যপালের সঙ্গে দেখাও করেছিলেন শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে বিজেপি বিধায়কদের এক প্রতিনিধি দল। অতীতে রাজ্যপালকে এই বিলে সই না করার জন্যও অনুরোধ করা হয়েছিল বিজেপির তরফে। শুভেন্দু ‘পরামর্শ’ দিয়েছিলেন, বিল দিল্লিতে পাঠিয়ে দেওয়ার জন্য। এমন পরিস্থিতিতে শুক্রবার বিধানসভায় রাজ্যের অবস্থান স্পষ্ট করলেন পরিষদীয় মন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়। জানিয়ে দিলেন, শিক্ষায় রাজনীতিকরণের কোনও ইচ্ছা নেই রাজ্য সরকারের। এমনকী রাজ্যপাল যে কোনও একটি পক্ষের নন, সেই কথাও স্পষ্ট করছেন পার্থ বাবু।

এর পাশাপাশি পার্থ চট্টোপাধ্যায় রাজ্য বিধানসভার অধ্যক্ষ বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভূমিকারও প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, “বহু রকমের চাপ দেওয়া সত্বেও আপনি (স্পিকার) কাজ থেকে বিচ্যুত হননি। এই সভা গর্ব করে আপনার (স্পিকার) জন্য।” তিনি আরও বলেন, “বিধায়কদের উপস্থিতি আগের বারের থেকে ভাল। তাঁরা বক্তব্য রেখেছেন। মহিলা বিধায়করা ভাল বক্তব্য রেখেছেন। মন্ত্রীরা সব প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন।” শুধু তাই নয়, ধন্যবাদ জানান বিরোধী দলের বিধায়কদেরও। বলেন, বিরোধী দলের সব সদস্যকে ধন্যবাদ জানাই। তাঁরা দেরিতে হলেও বুঝেছেন বাইরে গিয়ে ছবি তোলা যায়। কিন্তু এলাকার জন্য তাঁদের দায়বদ্ধতা আছে। তাই তাঁরা অধিবেশনের কাজে অংশ নিয়েছেন।”


Related articles

মৃত্যুঞ্জয়ের পরে সায়নীর অবস্থান জানতে চেয়ে পোস্ট যুবনেতা শুভ্রজিতের

যুব তৃণমূলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক মৃত্যুঞ্জয় পালের (Mrityunjay Paul) পরে এবার ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের যুব তৃণমূল সভাপতি শুভ্রজিৎ...

ইতিহাসের গৈরিকীকরণের অভিযোগ! প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে বিতর্কিত ‘পশ্চিমবঙ্গ দিবস’ উদ্‌যাপনের তোড়জোড় বিজেপির 

প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে আগামী ২০ জুন রাজ্যজুড়ে ‘পশ্চিমবঙ্গ দিবস’ উদযাপনের প্রস্তুতি শুরু করেছে বিজেপি সরকার। কিন্তু অনুষ্ঠান ঘোষণার পর...

আদালতের নির্দেশকে বুড়ো আঙুল! ফলতায় ফের অভিযুক্তকে হাফ প্যান্ট পরিয়ে রাস্তায় হাঁটাল পুলিশ

আদালত স্পষ্ট জানিয়েছিল, পুলিশ অভিযুক্তদের গ্রেফতার করতে পারে, তাদের বিরুদ্ধে চার্জশিট দিতে পারে, কিন্তু কোনোভাবেই কারও সম্মানহানি করতে...

কৃষকবন্ধুর বিদায়! কেন্দ্রের প্রকল্পে কপালে চিন্তার ভাঁজ বাংলার কৃষকদের

বন্ধ হয়ে গেল রাজ্যের কৃষকদের বড় ভরসা ‘কৃষকবন্ধু’ ও ‘বাংলা শস্য বীমা’ প্রকল্প। বর্তমান রাজ্য সরকার এই দুটি...