২১ জুলাই কড়া শর্তে শুভেন্দুকে রাত ৮টা থেকে সভার অনুমতি হাইকোর্টের

পায়ে পা বাধিয়ে ঝগড়ায় অভ্যস্ত রাজ্য বিজেপি(BJP) অবশেষে অনুমতি পেল জনসভার। যদিও সেই জনসভার জন্য আদালতের দেওয়া হল কড়া শর্ত। শুরু থেকেই ২১ জুলাইয়ের পাল্টা সভা করতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী(Shuvendu Adhikari)। শেষ পর্যন্ত তা গড়ায় আদালতে(High Court)। শুরুতে আপত্তি জানালেও শেষ পর্যন্ত সেই সভায় অনুমতি দিল আদালত। তবে একাধিক কড়া শর্তের পাশাপাশি আদালত স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে ৮ টার পর এই সভা করতে পারবেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। যদিও এই ঘটনায় তৃণমূলের(TMC) তরফে জানানো হয়েছে, সংকীর্ণ মানসিকতার বিজেপি সস্তার রাজনীতি করছে।

বিজেপির দায়ের করা মামলায় বুধবার শুনানি শেষে সভার পক্ষেই মত দেন বিচারপতি মৌসুমী ভট্টাচার্য। তবে কড়া শর্ত দিয়ে তিনি জানান,

  • রাত ৮ টার আগে সভা করার যাবে না। রাত ১০ টার মধ্যে শেষ করতে হবে সভা।
  • শান্তি – শৃঙ্খলা বজায় রাখতে হবে বিজেপিকে।
  • বিজেপির জেলা অফিস সংলগ্ন মনসাতলা মাঠেই করতে হবে সভা।
  • বুধবার সন্ধে ৬ টার মধ্যে স্থানীয় থানাকে সভাস্থল সম্পর্কে জানাতে হবে।
  • পুলিশ সেই সভাস্থল পরিদর্শন করবে এবং সেখানে দুই হাজার লোকের সমাগমের জন্য পর্যাপ্ত জায়গা রয়েছে কি না, তা দেখবে।
  • যদি দেখা যায় দুই হাজার মানুষের জন্য ওই সভাস্থলটি পর্যাপ্ত নয়, তাহলে কত মানুষ নিয়ে সভা করা হবে, সেই বিষয়ে পুলিশকে জানাবে বিজেপি শিবির।
  • কোনওভাবেই যাতে জাতীয় সড়ক অবরুদ্ধ না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে বিজেপিকে।
  • সন্ধে সাড়ে ৬ টার পর থেকে মানুষ এবং গাড়ি ওই সভাস্থলের দিকে যেতে পারবে।
  • হাওড়ার স্থানীয় মানুষ ছাড়া, বাইরের কোনও লোক যেন সভায় না আসে, তা নিশ্চিত করতে হবে বিজেপিকে।
  • সভাস্থল পরিদর্শন করে দেখবেন এসডিও। সভাস্থল ২০ টি লাউড স্পিকারের জন্য উপযুক্ত কি না, তা খতিয়ে দেখবেন তিনি। এসডিও যদি মনে করেন, তাহলে লাউড স্পিকারের সংখ্যা কমাতে পারেন তিনি।
  • কিছুদিন আগেই যেহেতু ওই এলাকায় অশান্তি হয়েছিল তাই, বক্তারা যেন কোনওরকম প্ররোচনামূলক বক্তব্য না রাখেন তা নিশ্চিত করতে হবে। যাতে মানুষ উত্তেজিত হন এমন কোনও প্ররোচনামূলক ভিডিয়ো না দেখানো হয়, তাও নিশ্চিত করতে হবে বিজেপিকে।

তবে আদালতের তরফে শর্তসাপেক্ষে সভার অনুমতি দেওয়া হলেও গোটা বিষয়টি বিজেপির সস্তা রাজনীতি বলে তোপ দেগেছে তৃণমূল। এদিন তৃণমূল সাংসদ শান্তনু সেন বলেন, লোডশেডিংয়ে যে ব্যক্তি এই সভা করার জন্য মামলা করেছিলেন তাঁর মনে রাখা উচিত তিনি যে ভোটার কার্ড নিয়ে ভোটটা দিয়েছিলেন সেটা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আন্দোলনের জন্য। যারা এই লড়াইকে সম্মান জানাতে পারে না। যারা গান্ধীজিকে সম্মান জানাতে পারে না তাঁরা আসলে ‘দেশদ্রোহী’। এদের থেকে ভালো কাজের সম্মান আশা করা যায় না। অত্যন্ত সংকীর্ণ মানসিকতা। সস্তার রাজনীতি করতেই এটা করছে ওরা। পাশাপাশি তৃণমূলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ এদিন বলেন, পায়ে পা দিয়ে যদি কেউ ঝগড়া করতে চায় তাঁকে আর কি বলা যাবে। বিজেপির সঙ্গে ২১ জুলাইয়ের কোনও সম্পর্ক নেই। তাহলে কেন আজকের দিনেই ওদের সভা করতে হবে? যাইহোক আদালত ওদের রাত ৮ টার পর সভা করার নির্দেশ দিয়েছে। উল্লেখ্য, এর আগে এই মামলায় ২১ জুলাইয়ে বিজেপির সভায় আপত্তি তুলেছিল আদালত। কেন ২১ জুলাই দিনটিকে বিজেপি বেছে নিচ্ছে? কেন ২০ জুলাই বা ২২ জুলাই নয়? যদিও শেষ পর্যন্ত রাত ৮ টার পর বিজেপিকে এই সভার অনুমতি দিল আদালত।


Previous articleZubeen Garg: অসমে গুরুতর অসুস্থ জুবিন গর্গ, এয়ার অ্যাম্বুল্যান্সে স্থানান্তরিত করার চেষ্টা
Next articleঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের এই কদর্য কার্টুনটি ১৮৭৪ সালে প্রকাশিত হয়েছিল বসন্তক পত্রিকায়। কিন্তু কেন? আসুন জেনে নিই!