বিদ্যাসাগরের শেষ জীবনের অজানা কাহিনী নিয়ে প্রকাশিত হল দেবারতি মুখোপাধ্যায়ের উপন্যাস 

বছরের পর বছর ধরে কলকাতার দীপ প্রকাশন স্বনামধন্য সাহিত্যিকদের পাশাপাশি সম্ভাবনাময়ী লেখক লেখিকাকে প্ল্যাটফর্ম তৈরি করে দিচ্ছে তাঁদের সাহিত্য প্রতিভাকে বিকশিত করার। এবারও লেখিকা দেবারতি মুখোপাধ্যায়ের নতুন উপন্যাস প্রকাশে এগিয়ে এসেছেন তাঁরাই।

বর্ণপরিচয়-এর জনকের ১৩২ তম মৃত্যুবার্ষিকীর প্রাক্কালে, তাঁর শেষ জীবনের অজানা কাহিনী নিয়ে প্রকাশিত হল দেবারতি মুখোপাধ্যায়ের (Debarati Mukhopadhyay) লেখা উপন্যাস ‘ঈশ্বরের অন্তিম শ্বাস'(Ishwarer Ontim Shwas)। ২৩ জুলাই ২০২২, কলকাতার প্রেসক্লাবে দীপ প্রকাশন-এর (Deep Prakashan) পক্ষ থেকে এই গ্রন্থ প্রকাশ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

ডিজিটাল পৃথিবীতে মানুষ বই পড়তে ভুলে গেছেন। কিন্তু যারা প্রকৃত অর্থে পাঠক তাঁরা আজও গ্রন্থ বা উপন্যাস কেনার জন্য ভিড় জমান বই পাড়ায়। বছরের পর বছর ধরে কলকাতার দীপ প্রকাশন স্বনামধন্য সাহিত্যিকদের পাশাপাশি সম্ভাবনাময়ী লেখক লেখিকাকে প্ল্যাটফর্ম তৈরি করে দিচ্ছে তাঁদের সাহিত্য প্রতিভাকে বিকশিত করার। এবারও লেখিকা দেবারতি মুখোপাধ্যায়ের নতুন উপন্যাস প্রকাশে এগিয়ে এসেছেন তাঁরাই। প্রেসক্লাবে (Press Club, Kolkata) আয়োজিত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদের সভাপতি বারিদবরণ ঘোষ (Baridbaran Ghosh)। এই অনুষ্ঠানে তিনি বিদ্যাসাগরের (Iswarchandra Vidyasagar) সমসাময়িক ভাবনা-চিন্তার কথা সকলের সামনে তুলে ধরেন। বিশিষ্ট সাহিত্যিক নৃসিংহ প্রসাদ ভাদুড়ী (Nrisingha Prasad Bhaduri) বলেন, দেবারতি এই প্রজন্মের ভাবনা-চিন্তা কে লেখার সঙ্গী করে তুলেছেন। তাই তরুণ প্রজন্মের পাঠকদের কাছে তিনি ভীষণ জনপ্রিয়। শুধু তাই নয় কলিযুগের আঙ্গিকে ঈশ্বরচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়ের কর্মকাণ্ডকে ধর্মীয় প্রেক্ষাপটেও মিলিয়ে দেন তিনি। উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ অভিরূপ সরকার (Abhirup Sarkar), লেখক সৈকত মুখোপাধ্যায়, কৃষ্ণেন্দু মুখোপাধ্যায় সহ অন্যান্য বিশিষ্টজনেরা। বিদ্যাসাগর ছিলেন দানবীর, তাঁর চরিত্রের বলিষ্ঠতার কথা ব্যাখ্যা করেন অভিরূপ সরকার।

লেখিকা জানান, এই উপন্যাসটি অন্যান্য চার-পাঁচটা গ্রন্থের মত নয়। এখানে এই প্রজন্মের ছেলেমেয়েদের ভাবনা চিন্তাকে সংযুক্ত করা হয়েছে। তিনজন তরুণ ব্লগার কারমাতার এলাকায় যান একটি ব্লগ শ্যুট করার জন্য। সেখানে গিয়ে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের জীবনের অপ্রকাশিত গল্প কীভাবে সকলের সামনে উঠে আসে তাই যেন এই উপন্যাসে অন্যতম উপজীব্য হয়ে উঠেছে। লেখিকা নিজেও বেশ কয়েকবার ওই স্থানে গিয়েছেন এবং তাঁর আক্ষেপ এখনও পর্যন্ত বাংলার মানুষ এই জায়গাটি সম্পর্কে সেভাবে অবগতই নন। এই উপন্যাসের মাধ্যমে তরুণ প্রজন্ম আরও বেশি করে ঈশ্বরচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় তথা দয়ার সাগর বিদ্যাসাগরকে নিয়ে পড়তে এবং জানতে আগ্রহী হবেন, এই উদ্দেশ্যেই ‘ঈশ্বরের অন্তিম শ্বাস’ (Ishwarer Ontim Shwas) রচনা করলেন দেবারতি মুখোপাধ্যায়।


Previous articleKolkata League: পিছোল কলকাতা লিগ, থাকছে না অবনমন