Tuesday, March 17, 2026

হাসপাতালে ঢোকার আগে কেঁদে ভাসালেন অর্পিতা, পার্থর দাবি ‘ষড়যন্ত্রের শিকার’

Date:

Share post:

আদালতের নির্দেশ মতো শুক্রবার জোকা ইএসআই হাসপাতালে শারীরিক পরীক্ষার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়েছে অর্পিতা মুখোপাধ্যায় ও পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে। আর সেখানেই দেখা গেল ভিন্ন ছবি। হাসপাতালে ঢোকার আগে কাঁদতে কাঁদতে রাস্তায় বসে পড়েন অর্পিতা মুখোপাধ্যায়। কোনওমতে গাড়ি থেকে নামিয়ে তাঁকে হুইল চেয়ারে বসিয়ে হাসপাতালে নিয়ে যান সিআরপিএফ কর্মীরা। ঘটনাকে কেন্দ্র করে রীতিমত উত্তেজনা ছড়ায় জোকা ইএসআই হাসপাতালের সামনে। অন্যদিকে হাসপাতালের সামনে সংবাদমাধ্যমের ক্যামেরার সামনে পার্থ চট্টোপাধ্যায় দাবি করেন তিনি ষড়যন্ত্রের শিকার।

আদালত নির্দেশ দিয়েছিল প্রতি ৪৮ ঘণ্টায় স্বাস্থ্য পরীক্ষা করাতে হবে পার্থ চট্টোপাধ্যায় ও অর্পিতা মুখোপাধ্যায়কে। সেইমতো বুধবারের পর শুক্রবার ২ জনকে সিজিও কমপ্লেক্স থেকে নিয়ে জোকা ESI হাসপাতালে পৌঁছন ইডির আধিকারিকরা। দুজনকে নিয়ে ২টি গাড়ি বেলা সওয়া ১২টা নাগাদ পৌঁছয় সেখানে। তবে গাড়ি থেকে নামার আগে কান্নায় ভেঙে পড়তে দেখা যায় অর্পিতাকে। গাড়ির দরজার সামনেই মাটিতে বসে পড়েন তিনি। এরপর কোনওমতে পাঁজাকোলা করে তাঁকে হুইল চেয়ারে নিয়ে হাসপাতালে ঢোকেন আধিকারিকরা।

অন্যদিকে গতকালই পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে মন্ত্রিসভা ও দলের সমস্ত পদ থেকে সরানো হয়েছে। এরপর আজ জোকায় গাড়ি থেকে নামার পর সংবাদমাধ্যমকে বিস্ফোরক অভিযোগ করেন পার্থ। তিনি জানান, “আমি ষড়যন্ত্রের শিকার।” মেডিক্যাল টেস্টের পর বেরোনোর সময় ফের পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের কাছে প্রশ্ন রাখা হয়, কারা ষড়যন্ত্র করছে? উত্তরে তিনি বলেন, “যারা করছে শীঘ্রই জানতে পারবেন।” দল থেকে বরখাস্ত প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “দল যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে তা সময় বলবে।” স্বাভাবিকভাবেই তাঁর এই মন্তব্যকে ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। যদিও তৃণমূলের তরফে জানানো হয়েছে। এবিষয়ে কিছু বলার নেই। কেউ গ্রেফতার হলে তাঁর স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া হয় ‘নির্দোষ’ ও ‘ষড়যন্ত্রের’ শিকার। যদি তা হয় তবে সেটা প্রমাণ করার দায় ওনার নিজের। একইসঙ্গে তৃণমূল মুখপাত্র কুণাল ঘোষ এপ্রসঙ্গে বলেন, “নির্দোষ হলে প্রথমেই জানাননি কেন? ৭ দিন পর ষড়যন্ত্রের কথা মনে পড়ল?” পাশাপাশি প্রশ্ন উঠছে, গ্রেফতার হওয়ার পর প্রথমে পার্থর মন্তব্য ছিল “মুখ্যমন্ত্রী ফোন ধরেননি।” এরপর তিনি জানান, “কেন মন্ত্রিত্ব ছাড়ব?” এরপর মন্ত্রিত্ব ও দল থেকে বহিস্কার হতেই “ষড়যন্ত্রের” দাবি পার্থর। স্বভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে এতদিন কেন কিছু জানাননি পার্থ?


spot_img

Related articles

‘বিনা কারণে’ শীর্ষ আধিকারিক বদল: স্বেচ্ছাচারী সিদ্ধান্ত থেকে বিরত থাকতে জ্ঞানেশকে চিঠি মমতার

দিল্লিতে সাংবাদিক বৈঠক করে নির্বাচন ঘোষণার কয়েক ঘন্টার মধ্যে রাজ্যের শীর্ষ আধিকারিক বদল জ্ঞানেশ কুমারের নেতৃত্বাধীন নির্বাচন কমিশনের।...

বকেয়া ডিএ মেটাতে সরকারি নির্দেশ, দু’দফায় মিলবে প্রাপ্য অর্থ

মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণার এক দিনের মধ্যেই বকেয়া মহার্ঘভাতা (ডিএ) মেটানো সংক্রান্ত সরকারি নির্দেশিকা প্রকাশ করল রাজ্য সরকার। সেখানে জানানো...

নির্বাচনী আচরণবিধির জের, থমকাল কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগ

বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই জারি হয়েছে নির্বাচনী আদর্শ আচরণবিধি। তার জেরেই আপাতত থমকে গেল কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে...

জরুরি কারণ ছাড়া ছুটি নয়! ভোটের আগে পুলিশে ছুটিতে কড়াকড়ি 

আসন্ন বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬-এর প্রেক্ষিতে রাজ্য পুলিশের ক্ষেত্রে ছুটি মঞ্জুরির উপর জারি হল কড়া বিধিনিষেধ। নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ...