দক্ষিণবঙ্গে বৃষ্টির ঘাটতি নিয়ে আশঙ্কা বাড়ছে সরকারের

বাংলায় এবার ২০১০-এর থেকেও খারাপ পরিস্থিতি। আলিপুর আবহাওয়া দফতরের (Alipur Weather Department)তরফ থেকে যে খতিয়ান তুলে ধরা হয়েছে তাতে দেখা যাচ্ছে ২০১০ সালের জুন মাসে বৃষ্টির ঘাটতি ছিল ১৬ শতাংশ, সেখানে এই বছর মানে ২০২২ সালে প্রায় ৪৮ শতাংশের মতো ঘাটতির খবর লিপিবদ্ধ হয়েছে।

শ্রাবণ মাস প্রায় শেষের দিকে কিন্তু তবুও সেভাবে বৃষ্টির দেখা নেই দক্ষিণবঙ্গে (South Bengal)। তাহলে কি এক যুগ আগে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল প্রাকৃতিক কারণে তার থেকেও ভয়ঙ্কর অবস্থা হতে চলেছে দক্ষিণবঙ্গে? যেখানে জুলাইয়ে দক্ষিণ ভারতে (South india) ৬০.৪ শতাংশ অতিরিক্ত বৃষ্টি হয়েছে, সেখানে পূর্ব ও উত্তর-পূর্ব ভারতে (east & north east india) ৪৪.৭ শতাংশ কম বৃষ্টি হয়েছে। আর বৃষ্টি (Rain) কম হওয়া রাজ্যের তালিকায় নাম রয়েছে এই বাংলার (West Bengal),বিশেষ করে রয়েছে দক্ষিণবঙ্গ। সপ্তাহ দুয়েকের মধ্যে যদি ভারী বর্ষণ না হয় সেক্ষেত্রে কৃষি নিয়ে বড় চিন্তা তৈরি হবে মনে করছেন কৃষি বিশেষজ্ঞরা (Agricultural Experts)।

মাঝে মাঝে ঝেঁপে বৃষ্টি ভিজিয়ে দিচ্ছে দক্ষিণবঙ্গকে। কিন্তু প্রয়োজনের তুলনায় তা কোনোমতেই পর্যাপ্ত নয়। আগামীতেও এভাবেই বৃষ্টির ঘাটতি (Lack of rain) থাকলে ধান ,পাটের পাশাপাশি মরশুমি ফল ও সবজি চাষ নিয়েও সমস্যা তৈরি হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। চাষের ক্যালেন্ডার অনুযায়ী, ১৫ জুলাই থেকে ১৫ অগস্ট পর্যন্ত আমন ধান রোপণের কাজ চলে। রোপণের সময় যত পিছোতে থাকবে, ততই উত্‍পাদনে লোকসানের আশঙ্কা বাড়বে। আবার এই বৃষ্টি যদি ফসল তোলার সময় শুরু হয় সেক্ষেত্রে বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়াবে। এর আগে ২০১০-এ রাজ্যে বৃষ্টির ঘাটতির কারণে খরার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। তৎকালীন বাম সরকারের তরফে ১১ জেলায় খরা ঘোষণা করা হয়েছিল। তবে আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলায় এবার ২০১০-এর থেকেও খারাপ পরিস্থিতি। আলিপুর আবহাওয়া দফতরের (Alipore Weather Department)তরফ থেকে যে খতিয়ান তুলে ধরা হয়েছে তাতে দেখা যাচ্ছে ২০১০ সালের জুন মাসে বৃষ্টির ঘাটতি ছিল ১৬ শতাংশ, সেখানে এই বছর মানে ২০২২ সালে প্রায় ৪৮ শতাংশের মতো ঘাটতির খবর লিপিবদ্ধ হয়েছে। অন্যদিকে ২০১০-এর জুলাইয়ে যেখানে বৃষ্টির ঘাটতি (Lack of rain)ছিল ৪০ শতাংশ, সেখানে এবারের জুলাইয়ে বৃষ্টির ঘাটতি ৪৬ শতাংশের মতো। এই দুই মাসের বিপুল বৃষ্টির ঘাটতি কি আদৌ অগাস্ট-সেপ্টেম্বরে মিটবে, সন্দিহান আবহাওয়াবিদরা। এই অবস্থায় উদ্বিগ্ন রাজ্য সরকার (Government of West Bengal), ইতিমধ্যেই রাজ্যের কৃষি দফতর (Department of Agriculture, West Bengal) ক্ষুদ্র সেচ পরিকাঠামো মজবুত করার ওপর জোর দিচ্ছে। কৃষকদের অল্প জল ব্যবহার করে ব্যবহার করে চাষের পদ্ধতি শেখানোর পাশাপাশি জল অপচয় কম করার ব্যপারেও পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। মুখ্য কৃষি উপদেষ্টা প্রদীপ মজুমদার জানিয়েছেন,প্রতিদিন পরিস্থিতির ওপর নজর রাখা হচ্ছে। সর্বত্র বিকল্প সেচের ব্যবস্থা কার্যকর করা হয়েছে। রাজ্য সরকার সবসময় কৃষকদের সবরকম সহায়তায় প্রস্তুত।যেখানে যেধরণের সহায়তা প্রয়োজন তা করা হবে। গত দুই মাসে দক্ষিণবঙ্গের যেসব জেলায় বৃষ্টির ঘাটতি সব থেকে বেশি তার মধ্যে রয়েছে,

বীরভূম – ৬৬ শতাংশ
মুর্শিদাবাদ- ৬৩ শতাংশ
নদিয়া – ৬২ শতাংশ
বর্ধমান- ৪৪ শতাংশ
উত্তর ২৪ পরগনা- ৪৬ শতাংশ
কলকাতায় -৪৩ শতাংশ


Previous articleস্ত্রীর উপর নির্যাতনের অভিযোগ থানার ওসির বিরুদ্ধে, আদালতের দ্বারস্থ মহিলা