স্বেচ্ছামৃত্যুর জন্য বিদেশ যাওয়া? রোগীকে আটকাতে দিল্লি হাইকোর্টের দ্বারস্থ পরিবার

উন্নত ডিজেনারেটিভ রোগে আক্রান্ত কাউকে কি ইউথেনেশিয়ার (Euthanasia) জন্য ইউরোপে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া যেতে পারে? দিল্লি হাইকোর্টে (Delhi High Court) একটি পিটিশন (Petition) পাঠানো হয়েছে যাতে আত্মহত্যায় (Switzerland) সাহায্য করার জন্য একজন ব্যক্তিকে সুইজারল্যান্ড ভ্রমণ থেকে বিরত রাখার আদেশের আহ্বান জানানো হয়। জানা গেছে পরিবারের এক বন্ধু একটি মামলা দায়ের করেছেন যেখানে আবেদন করা হয় যে নয়ডার ৪০ বছর বয়সী ব্যক্তিকে ইউরোপ ভ্রমণ থেকে যাতে বিরত রাখা যেতে পারে। এই বিষয়ে আদালতের আদেশ চাওয়া হয়েছিল। আবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে যে লোকটি ভারতীয় ভিসা কর্তৃপক্ষকে (Indian Visa) মিথ্যাভাবে জানিয়ে একটি শেনজেন ভিসা (Schengen Visa) পেয়েছিলেন যে তিনি চিকিৎসার জন্য বেলজিয়াম যেতে চান।

আবেদন অনুসারে, তিনি আসলে সুইস ভিত্তিক ফার্ম ডিগনিটাসে আত্মহত্যা করতে সহায়তা করার জন্য বেলজিয়াম (Belgium) হয়ে সুইজারল্যান্ডে ভ্রমণ করছেন, কিন্তু ভারতীয় কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে এই তথ্য গোপন করেছেন। প্রশ্নকারী ব্যক্তিটি মায়ালজিক এনসেফালোমাইলাইটিসে ভুগছেন, যা সাধারণত ক্রনিক ফ্যাটিগ সিনড্রোম নামে পরিচিত। সিএফএস একটি জটিল, দুর্বল, দীর্ঘমেয়াদী নিউরো-ইনফ্লেমেটরি (Neuro Inflamatory) রোগ। ২০১৪ সালে প্রাথমিকভাবে নির্ণয়ের পর এইমস-এ (AIIMS) তাঁর চিকিৎসা চলছিল। এরপর করোনা কালে লকডাউন (Lockdown) চলাকালীন চিকিৎসা স্থগিত হয়ে যায়। বুধবার দিল্লি হাইকোর্টে দায়ের করা আবেদনে বলা হয়েছে যে চিকিৎসার অভাবে,লোকটি এখন সম্পূর্ণ ভাবে শয্যাশায়ী।

পিটিশনে বলা হয়েছে যে রোগী তাঁর পরিবারকে আবেগজনিত ভাবে এই সিদ্ধান্তে সহমত পোষণ করতে বাধ্য করেছেন। পিটিশনে আরও বলা হয়েছে যে তিনি ইতিমধ্যেই শেনজেন ভিসা পেয়েছেন। তিনি স্বেচ্ছামৃত্যুর যোগ্য কিনা তা জানতে এর আগেই তিনি একবার সুইজারল্যান্ড গেছিলেন। সেখানে সুইস কর্তৃপক্ষ এবং ডিগনিটাসের সাথে প্রাথমিক কথাবার্তা বলেছেন। মামলাকারীর আইনজীবী সুভাষ চন্দ্রন জানিয়েছেন, এই ধরণের ঘটনা নজিরবিহীন। তিনি জানান, এমন কিছু ঘটনা রয়েছে যেখানে কোনও ব্যক্তি অপরাধ করলে কর্তৃপক্ষ ভ্রমণের অনুমতি প্রত্যাখ্যান করে। কিন্তু ভারতে যেহেতু আত্মহত্যার অনুমতি নেই, তাই এই প্রবণতা যথেষ্ট অপরাধমূলক।

উল্লেখ্য ভারতীয় আইন স্বেচ্ছামৃত্যু বা ইউথেনেশিয়াকে সমর্থন করে না এবং অনুমতি দেয় না। এই মামলাটি অত্যন্ত সংবেদনশীল কারণ এক্ষেত্রে রোগী নিজেই মানসিকভাবে সচেতন এবং সহায়তাকারী ইউথানেশিয়ার জন্য ভ্রমণের সিদ্ধান্ত নিতে সক্ষম। তাই জীবন শেষ করে দেওয়ার অধিকার পেতে এবং অন্যদেশে গিয়ে তা কার্যকরী করার ক্ষেত্রে মানবিক দিক গুলোকেও মাথায় রাখা দরকার। তবে আগামী সপ্তাহ পর্যন্ত হাইকোর্ট বন্ধ থাকায় এই মাসে কেসের শুনানির সম্ভাবনা নেই।

আরও পড়ুন- ৭ সেপ্টেম্বর নবান্ন অভিযানের ডাক, হতাশ কর্মী-সমর্থকদের চাঙ্গা করতে মরিয়া বঙ্গ বিজেপি

Previous article১৬ আগস্ট থেকে শুরু হচ্ছে ডুরান্ড কাপ, উদ্বোধনী ম‍্যাচে থাকবেন মুখ‍্যমন্ত্রী
Next articleরবীন্দ্রনাথের মৃত্যু চেতনা ও বাইশে শ্রাবণ: জ্ঞান মঞ্চে অনন্য সন্ধ্যা