Tuesday, February 3, 2026

রাজপথে বর্ণাঢ্য মহামিছিল, ‘পরশ্রীকাতর’ বাম-বিজেপির সমালোচনাকে পাত্তা দিচ্ছে না তৃণমূল

Date:

Share post:

এক মাস আগে পুজোর সূচনা করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিন জোড়াসাঁকো থেকে যে শোভাযাত্রা শুরু হয়, সেখান থেকেই মুখ্যমন্ত্রীকে বলতে শোনা যায়, “আজ থেকেই আমাদের দুর্গাপুজো শুরু হয়ে গেল। এবারের পুজোয় নতুন আগমন। নতুন আগমনী মায়ের। আমরা ইউনেস্কোকে ধন্যবাদ জানাই। আমাদের সকল বন্ধুকে ধন্যবাদ জানাই, যারা কলকাতার দুর্গাপুজোকে ইনট্যানজিবল কালচারাল হেরিটেজ করতে সহযোগিতা করেছেন। জয় মা দুর্গা বলে এগিয়ে চলুন। সব ধর্ম, সব বর্ণ, সব সম্প্রদায়, সবাইকে নিয়ে।”

বৃহস্পতিবার শহর যখন উৎসবমুখর। রাজপথ যখন ঢাকের বোল, ধামসা, মাদলের তালে মুখরিত। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রায় পা মেলালেন, সেই সময় বারবার বিজেপি নেতাদের মুখে শোনা গেল,’এই কৃতিত্ব পুরোপুরি মোদি সরকারের’। বিজেপির মুখপাত্র অমিত মালব্য এদিন একটি টুইটে লেখেন, ‘ইউনেস্কো ইনট্যানজিবল কালচারাল হেরিটেজের সম্মান জানিয়েছে দুর্গাপুজাকে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এর জন্য একটি শোভাযাত্রা করছেন। তিনি এই স্বীকৃতির কৃতিত্ব নিতে চান। কিন্তু সত্যি এটাই যে, এই কৃতিত্বে তাঁর কোনও ভূমিকাই নেই। এই কৃতিত্ব এসেছে মোদী সরকারের অধীনস্থ সঙ্গীত নাটক অ্যাকাডেমির জন্য।’

আরও পড়ুন- Bangladesh : ১০ হাজার ডলারের বেশি রাখতে পারবে না কোন ব্যক্তি, নির্দেশ দিল কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক  

যদিও এদিনই জোড়াসাঁকোতে দাঁড়িয়ে রাজ্যের মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য বলেন, “এটা সারা পৃথিবীর কাছে ভারতের গর্ব। আর এটা তৈরি করে দিয়েছেন আমাদের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দেশ বিদেশ থেকে মানুষ এসেছেন। এছাড়া টেলিভিশন, সোশ্যাল মিডিয়াতেও মানুষ দেখছেন। এটা একটা অন্য মেজাজ। যারা রাজনীতি করছে করুক, বৈদিক ভিলেজে খেয়েছে, ঢেকুর তুলুক, ওরা বুঝবে না। এটা অনুভবের, উপলব্ধির। বাংলার মানুষ, ভারতবর্ষের মানুষ করতে পারেন, কিন্তু ওরা যে রাজনৈতিক দলে, তাতে পারবে না। বাংলা যদি দুর্গাপুজো না নিয়ে যেত, ওদের সাধ্য ছিল এই জায়গায় নিয়ে যাওয়ার?”

এমনকি কটাক্ষবাণ শানাতে দেখা গেল বাম নেতা মহম্মদ সেলিমকে (MD. Selim)। একইসঙ্গে ‘মমতা-আরএসএস’ (RSS-Mamata relationship) সম্পর্ক নিয়েও তুলোধনা করলেন তিনি।  “আরএসএস তাঁকে দুর্গা বলে দিয়েছিল। আর তিনি আরএসএসের দুর্গা রোল প্লে করছেন।”  এ ভাষাতেই এদিন কাটক্ষ করতে দেখা গেল সেলিমকে। একইসঙ্গে মমতার এই উদ্যোগে আদপে “সংকীর্ণ রাজনীতির স্বার্থে, দুর্গা ঠাকুরের জন্য নয়” বলেও তোপ দেগেছেন সেলিম। একইসঙ্গে দুর্গাপুজোর নিজস্বতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে সেলিম বলেন, “প্রতিটা ব্লকের একটা নিজস্বতা আছে। যে দুর্গাপুজো মডেল ছিল স্বনির্ভর, স্বকীয়, স্বতন্ত্র। আজকে আরএসএস গোটা ধর্মটাকে রাজনীতির মিশ্রণ করে একটা টানেলের মধ্যে ঢুকিয়ে দিচ্ছে। মমতাও তাই করছেন। যেখানে শত ফুল বিকশিত নয়, সব ফুল এসে তাঁর পায়ে পড়ুক। আরএসএস তাঁকে বলে দিয়েছিল দুর্গা তিনি। আর তিনি আরএসএসের দুর্গা রোল প্লে করছেন। সরকারি ছুটি দিয়ে, স্কুলগুলিকে দিয়ে, কর্পোরেশনকে দিয়ে সবাইকে জড়ো করতে হবে। কারণ ইস্যুটাকে পাল্টাতে হবে।”

বাম-বিজেপি এই উদ্যোগকে যতই সমালোচনা করুক না কেন, তাকে আমল দিতে নারাজ তৃণমূল।তাদের সাফ কথা, দুর্গাপুজোর সঙ্গে বাঙালির আবেগ জড়িয়ে।সেটা নিয়ে যারা রাজনীতি করছেন করুন।

 

spot_img

Related articles

শহরতলির যানজট রুখতে উদ্যোগী নবান্ন, শুরু হচ্ছে বিশেষ সমীক্ষা

কলকাতা লাগোয়া শহরতলি এবং জেলা শহরগুলিতে ক্রমবর্ধমাণ যানজটের জাঁতাকল থেকে সাধারণ মানুষকে মুক্তি দিতে বড় পদক্ষেপ করল রাজ্য...

টাকার অঙ্ক অনেক কম, কারা সম্প্রচার করবে ISL? জানিয়ে দিল AIFF

আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হবে আইএসএল(ISL)। সোমবার সকালেই অল ইন্ডিয়া ফুটবল ফেডারেশন(AIFF) লিগের মিডিয়া রাইটস সংক্রান্ত টেকনিক্যাল...

শবেবরাতে বাজি নিয়ন্ত্রণে কড়া হাইকোর্ট: রাত ১০টার পর বাজি ফাটালেই আইনি পদক্ষেপ

উৎসবের আনন্দ যেন অন্যের কষ্টের কারণ না হয়ে দাঁড়ায়, তা নিশ্চিত করতে ফের কড়া অবস্থান নিল কলকাতা হাইকোর্ট।...

গণতন্ত্র বিপন্ন! ওপার বাংলার ‘প্রহসন’ নিয়ে সরব হাসিনা-পুত্র সজীব

বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং আসন্ন নির্বাচন নিয়ে প্রতিবাদের সুর চড়ালেন শেখ হাসিনা-পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়। সোমবার বিকেলে...