২২ বছর পর সভাপতি নির্বাচন কংগ্রেসে, পরিবারতন্ত্রের তকমা ঘোচাতে চায় গান্ধী পরিবার

২২ বছর পর সভাপতি পদে নির্বাচন। এবার গান্ধী পরিবার থেকে কেউ প্রার্থী হওয়ার ইচ্ছাপ্রকাশ না করলেও এখনও তাঁদের হাতেই যে কংগ্রেসের ব্যাটন তা বলার অপেক্ষা রাখে না

দীর্ঘ ২২ বছর পর ফের ভারতের শতবর্ষ প্রাচীন রাজনৈতিক দল জাতীয় কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সভাপতি পদে নির্বাচন। দেশজুড়ে হাত শিবিরের অন্দরে সাজসাজ রব। এর আগে শেষবার কংগ্রেস সভাপতি নির্বাচনে সোনিয়া গান্ধীর সামনে মুখ থুবড়ে পড়েছিল বিরোধী শিবিরের প্রার্থী জিতেন্দ্র প্রসাদ। সোনিয়া পেয়েছিলেন ৭,৫৪২ ভোট। পক্ষান্তরে জিতেন্দ্র প্রসাদের ভাগ্যে জুটেছিল মাত্র ৯৪টি ভোট।

আরও পড়ুন:Shantiniketan: দেহ নিয়ে রাজনীতি! স্থানীয়দের বিক্ষোভের মুখে লকেট

আজ, বৃহস্পতিবার কংগ্রেস সভাপতি নির্বাচনের বিজ্ঞপ্তি জারি হবে। মনোনয়ন জমা দেওয়ার সময়সীমা ২৪ থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর। একের বেশি প্রার্থী হলে নির্বাচন ১৭ অক্টোবর। এবার গান্ধী পরিবারের তরফে পছন্দের প্রার্থী রাজস্থানের মুখ্যমন্ত্রী অশোক গেহলট। শশী থারুরও সভাপতি নির্বাচনে লড়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন। দিগ্বিজয় সিংও আচমকা সভাপতি পদে মনোনয়ন দেবেন বলে মনস্থির করেছেন। সবমিলিয়ে কংগ্রেস সভাপতি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সরগরম পরিস্থিতি।

২২ বছর পর সভাপতি পদে নির্বাচন। এবার গান্ধী পরিবার থেকে কেউ প্রার্থী হওয়ার ইচ্ছাপ্রকাশ না করলেও এখনও তাঁদের হাতেই যে কংগ্রেসের ব্যাটন তা বলার অপেক্ষা রাখে না। চিকিৎসা করিয়ে ইতিমধ্যেই দেশে ফিরেছেন সোনিয়া গান্ধী। তাই “ভারত জোড়ো যাত্রা” কর্মসূচির মধ্যে একদিনের ছুটি নিয়ে আজই দিল্লি আসছেন রাহুল গান্ধী। অশোক গেহলটও চেষ্টা করছেন রাহুলকে সভাপতি পদে দাঁড় করাতে। সেক্ষেত্রে রাজস্থানের মুখ্যমন্ত্রীর পদে থেকে যেতে পারবেন তিনি। জয়পুর থেকে দিল্লি উড়ে এসে সোনিয়া গান্ধীর সঙ্গে দেখা করে তিনি চলে গিয়েছেন কেরল রাহুলকে বোঝাতে। সেখানে রয়েছেন শচীন পাইলটও। ফলে মুখোমুখি তিনজনের বৈঠক হতে পারে। অন্যদিকে, আগামী কাল শুক্রবার দিল্লিতে দলের সভাপতি নির্বাচন ইস্যুতে বৈঠকে বসতে পারেন সোনিয়া-রাহুল-গেহলট।

বিভিন্ন প্রদেশ থেকে প্রস্তাব এলেও রাহুল গান্ধী এবার কংগ্রেস সভাপতি নির্বাচনে দাঁড়াতে নারাজ। রাহুল রাজি থাকলে হয়তো নির্বাচন করার প্রয়োজনই হতো না। আসলে সোনিয়া-রাহুল চাইছেন কংগ্রেসের মধ্যে পরিবারতন্ত্রের যে তকমা বিজেপি সেঁটে দেওয়ার চেষ্টা করেছে, তা থেকে মুক্তি পেতে। তাই ব্যাটন নিজেদের হাতে রাখকেও, সভাপতি হোক গান্ধী পরিবারের বাইরের কেউ, এমনটাই চাইছেন সোনিয়া-রাহুল। তাই তাদের পছন্দ অশোক গেহেলট। সেক্ষেত্রে এক ঢিলে দুই পাখি মারা যাবে। গেহেলট কংগ্রেস সভাপতি হলেও দল চালাবেন সোনিয়া-রাহুল। আবার সামনেই রাজস্থান বিধানসভা ভোট, সেই নির্বাচনে নতুন প্রজন্মের শচীন পাইলটকে মুখ করে লড়াইয়ে নামবে কংগ্রেস।

Previous articleBreakfast Sports: ব্রেকফাস্ট স্পোর্টস