বিদেশি অনুদান আইন লঙ্ঘন! রাজীব গান্ধী ফাউন্ডেশনের FRCA লাইসেন্স বাতিল কেন্দ্রের

২০০৫-২০০৬ সালের বার্ষিক রিপোর্টে রাজীব গান্ধী ইন্সটিটিউট অফ কন্টেমপোরারি স্টাডিজকে চিনা দূতাবাস থেকে সাহায্য করা হয়েছিল বলে উল্লেখ রয়েছে। এছাড়াও সাহায্যের তালিকায় নাম রয়েছে, ইউরোপীয় কমিশন, আয়ারল্যান্ড সরকার ও রাষ্ট্রপুঞ্জের উন্নয়ন প্রকল্পের।

বিদেশি অনুদান সংক্রান্ত আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ। আর সেকারণেই রাজীব গান্ধী ফাউন্ডেশনের (Rajiv Gandhi Foundation) FCRA লাইসেন্স (Forgein Contribution Regulation Act) বাতিলের (Cancel) পথে হাঁটল কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক (Union Ministry of Home Affairs)। ফাউন্ডেশনের বিরুদ্ধে বিদেশ থেকে আসা ত্রানের টাকা সংক্রান্ত আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে। দীর্ঘদিন ধরেই বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করছিল কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। তবে এখন থেকে আর বিদেশি আর্থিক অনুদান (Forgein Financial Help) গ্রহণ করতে পারবে না রাজীব গান্ধী ফাউন্ডেশন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক ইতিমধ্যেই তদন্তের জন্য একটি আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটি গঠন করেছে। মূলত আর্থিক তছরুপ ও বিদেশি অনুদান সংক্রান্ত আইন লঙ্ঘনের অভিযোগেই এই তদন্ত করা হয় রাজীব গান্ধী ফাউন্ডেশনের বিরুদ্ধে। আর তদন্তে ত্রুটি সামনে আসার পর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের তরফে লাইসেন্স (License) বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ২০২০ সালের জুলাই মাসে এই কমিটি গঠন করা হয়। এই কমিটির নেতৃত্বে ছিল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (Enforcement Directorate)। রাজীব গান্ধী ফাউন্ডেশন, রাজীব গান্ধী চ্যারিটেবল ট্রাস্ট (Rajiv Gandhi Charitable Trust), ইন্দিরা গান্ধী মেমোরিয়াল ট্রাস্টের (Indira GandhiMemorial Trust) বিদেশি অনুদানের উৎস খতিয়ে দেখতে তদন্তে নামে এই কমিটি। দুদিন আগেই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের কাছে তাদের রিপোর্ট জমা দেওয়ার পর রাজীব গান্ধী ফাউন্ডেশনের FCRA লাইসেন্স বাতিল করে দেয় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক।

সোনিয়া গান্ধী (Sonia Gandhi), প্রিয়াঙ্কা গান্ধী (Priyanka Gandhi), রাহুল গান্ধী (Rahul Gandhi) ছাড়াও প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং (Manmohan Singh) এবং পি চিদম্বরম (P Chidambaram) রাজীব গান্ধী ফাউন্ডেশনের সদস্য। ২০০৫-২০০৬ সালের বার্ষিক রিপোর্টে রাজীব গান্ধী ইন্সটিটিউট অফ কন্টেমপোরারি স্টাডিজকে (Rajiv Gandhi Institute of Contemporary Studies) চিনা দূতাবাস (Chinese Embassy) থেকে সাহায্য করা হয়েছিল বলে উল্লেখ রয়েছে। এছাড়াও সাহায্যের তালিকায় নাম রয়েছে, ইউরোপীয় কমিশন, আয়ারল্যান্ড সরকার ও রাষ্ট্রপুঞ্জের উন্নয়ন প্রকল্পের। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক সূত্রের খবর, ফরেন কন্ট্রিবিউশন অ্যান্ড রেগুলেশন আইন (Forgein Contribution and Regulation Act) অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে গান্ধী পরিবার ঘনিষ্ঠ এই স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার বিরুদ্ধে।

বিজেপি মুখপাত্র সম্বিত পাত্রর (Sambit Patra) অভিযোগ, জাকির নায়েকের (Zakir Naik) যে ইসলামিক রিসার্চ অর্গানাইজেশনই (Islamic Research Organisation) ২০১১ সালের ৮ জুলাই রাজীব গান্ধী ফাউন্ডেশনে অনুদান করেছে। টাকার অঙ্ক প্রায় ৫০ লক্ষ। সব মিলিয়ে একাধিক সংস্থার কাছে বেআইনিভাবে টাকা নেওয়ার অভিযোগ আছে এই সংস্থার বিরুদ্ধে। তবে কংগ্রেস (Congress) তাদের বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে জানিয়েছে, রাজনৈতিক ভাবে লড়াই করতে না পেরে বিরোধীদের কণ্ঠরোধের চেষ্টা করছে কেন্দ্রের বিজেপি সরকার। গান্ধী পরিবারের ভাবমূর্তি নষ্ট করতেই নোংরা খেলায় মেতেছে বিজেপি। তাঁদের কাছে প্রতিটি পয়সার হিসাব রয়েছে বলেও দাবি করেছেন প্রাক্তন অর্থমন্ত্রী পি চিদম্বরম।

 

Previous article‘বাঁদনা পরব’ ও ‘সহাড়াই’ উৎসবে শুভেচ্ছা জানিয়ে টুইট মুখ্যমন্ত্রীর