আন্দোলনকারীকে পুলিশের কামড়: বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ লালবাজারের

কামড় বিতর্কে অবশেষ বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দিল কলকাতা পুলিশ(Kolkata Police)। গোটা ঘটনার তদন্ত করবেন কলকাতা পুলিশের কলকাতা পুলিশের ডেপুটি কমিশনার সাউথ বুদ্ধদেব মুখোপাধ্যায়(Buddhadev Mukherjee। কীভাবে গোটা ঘটনা ঘটলো তা খতিয়ে দেখা হবে। এই ঘটনায় অভিযুক্ত লেডি কনস্টেবলের(lady constable) সঙ্গেও কথা বলবেন আধিকারিকরা। তদন্ত রিপোর্ট জমা দেওয়ার পর পরবর্তী পদক্ষেপ ঠিক হবে।

উল্লেখ্য, বুধবার ক্যামাক স্ট্রিটে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অফিসের সামনে চাকরির দাবিতে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন টেট উত্তীর্ণরা। বিক্ষোভ হঠাতে গেলে চাকরিপ্রার্থীদের সঙ্গে পুলিশের হাতাহাতি শুরু হয়। টেনে হিঁচড়ে বিক্ষোভকারীদের প্রিজন ভ্যানে তোলার চেষ্টা করা হয়। প্রিজন ভ্যানের চাকার সামনে শুয়ে পড়েন বিক্ষোভকারীরা। অশান্তির মাঝে বিক্ষোভকারী অরুণিমা পালের দিকে ছুটে আসেন ইভা থাপা নামে এক পুলিশকর্মী। হাতে কামড় বসান ওই মহিলা পুলিশকর্মী। যদিও পুলিশের তরফে পালটা অরুণিমার বিরুদ্ধে মারধর ও কামড়ের অভিযোগ তোলা হয়েছে। অরুনিমা সহ ৩০ জন আন্দোলনকারীকে গতকাল গ্রেফতারও করে পুলিশ। শুক্রবার অবশ্য তারা প্রত্যেকেই জামিন পেয়ে যায়।

কামড় বিতর্কে শুক্রবার সরকারি হাসপাতালের প্রেসক্রিপশনেও জানানো হয়েছে, মানুষের কামড়েই ক্ষত হয়েছে অরুণিমার হাতে। আজ সকালে সাগর দত্ত মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে হাতের ক্ষত পরীক্ষার জন্য আসেন অরুণিমা। তাঁর হাত পরীক্ষা করে সাগর দত্ত মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের চিকিত্‍সক লেখেন, হিউম্যান বাইট, অর্থাত্‍, মানুষের কামড়ের চিহ্ন মিলেছে চাকরিপ্রার্থীর হাতে। অরুণিমাকে ঘটনার পর গ্রেফতার করা হলেও অভিযুক্ত পুলিশ কর্মীর বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ।

এদিকে এই ইস্যুতে তোলপাড় রাজ্য রাজনীতিও। শুক্রবার বিধানসভার স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “প্ররোচনা দিলে অনেক কিছুই হতে পারে।” অর্থাৎ অভিযুক্ত পুলিশের আচরণের পক্ষেই সওয়াল করেছেন তিনি। এ বিষয়ে এদিন শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় বলেন, “যা হয়েছে ঠিক হয়নি। পুলিশের কোড অফ কন্ডাক্টে এটা করা যায় না। তবে কী হয়েছে, সেই তদন্ত হচ্ছে।” পাশাপাশি তৃণমূল বিধায়ক অজিত মাইতি বলেন, “জোর করে চাকরি নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। দিনের পর দিন পুলিশের উপর হুজ্জতি চলছে। কেউ যদি পুলিশকে কামড়ে দেয়, তাহলে পুলিশ কি রসগোল্লা ছুঁড়বে?” সবমিলিয়ে কামড় বিতর্কে রাজনৈতিক টানা পড়েনের মাঝেই এবার গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু করল কলকাতা পুলিশ।

Previous articlePurulia : স্কুলের দেওয়াল ভেঙে শিশু মৃ*ত্যুর ঘটনায় চাঞ্চল্য