Gujrat Election : মনোনয়ন ঘিরে অসন্তোষ মোদি রাজ্যে, প্রার্থী দ্বন্দ্বে জেরবার বিজেপি – কংগ্রেস

সামনেই নরেন্দ্র মোদির (Narendra Modi) রাজ্য গুজরাটের বিধানসভা নির্বাচন (Gujrat Assembly election)। তার আগে প্রার্থী নির্বাচন আর মনোনয়ন ঘিরে চাপা অসন্তোষ পদ্ম আর হাতের মধ্যে। বিজেপির (BJP) প্রার্থী তালিকায় জায়গা না পেয়ে এখন অনেক নেতারাই নির্দল প্রার্থী হিসেবে লড়াই করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ক্ষোভ তীব্র হচ্ছে বিজেপির অন্দরে।

টিকিট বরাদ্দ নিয়ে বাড়ছে দ্বন্দ্ব। গুজরাটে বিধানসভা নির্বাচনে দলের প্রার্থী মনোনয়ন নিয়ে শাসক বিজেপি ও বিরোধী কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ দলীয় সমস্যা কিছুতেই ধামাচাপা দেওয়া যাচ্ছে না। ভদোদরায় বিজেপিতে তোলপাড় শুরু হয়েছে। বর্তমান বিজেপি বিধায়ক মধু শ্রীবাস্তব এবং প্রাক্তন বিধায়ক দিনু প্যাটেল (Dinu Patil) টিকিট না পেয়ে নির্দল হিসাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ঘোষণা করেছেন। প্রাক্তন মন্ত্রী এবং সাত বার বিজেপির টিকিটে নির্বাচিত যোগেশ প্যাটেলও (Jogesh Patil) টিকিট না পাওয়ার আশঙ্কা করে দলের বিরোধিতা করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন । ঘনিষ্ঠ সূত্রে জানা যাচ্ছে তিনি নির্দল হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেন। এছাড়া গত নির্বাচনে হেরে যাওয়া প্রাক্তন বিধায়ক সতীশ নিশালিয়াকেও টিকিট দেওয়া হয়নি। তিনিও হয়তো আলাদাভাবেই লড়বেন। বিজেপি সূত্র বলছে, যোগেশ প্যাটেলের মঞ্জলপুর আসনের প্রার্থীর নাম এখনও ঘোষণা করা হয়নি। এখন বিজেপি নেতারা এবং ভদোদরার মানুষের বিশ্বাস করেন যে এই চার নেতা যদি বিজেপি থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে আলাদাভাবে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন তবে এটি রাভাপুরা, সায়াজিগঞ্জ, আকোটা সহ সমস্ত আসনে পদ্ম প্রার্থীদের জন্য সমস্যা তৈরি করবে। ইতিমধ্যেই তাঁরা নিজেদের নির্বাচনী এলাকায় প্রচার এবং লাগাতার বৈঠক চালিয়ে যাচ্ছেন। এখানেই শেষ নয়, প্রার্থী মনোনয়ন নিয়ে সৌরাষ্ট্রে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। ভাবনগরের মহুয়া আসন থেকে বিজেপির প্রার্থী শিবাভাই গোহিল টিকিট পাচ্ছেন না। একইভাবে বোটাদ ও গাড্ডা আসনেও ঘোষিত প্রার্থী পরিবর্তনের সম্ভাবনা রয়েছে। বোটাদে প্রার্থী কংগ্রেস থেকে আসা ঘনশ্যাম বিরানির বিরোধিতা করছেন ওই কেন্দ্রের বিজেপি নেতারা।

সৌরাষ্ট্রে শুধু বিজেপি নয় নির্বাচনের টিকিট না পাওয়ায় বিক্ষোভের ঘূর্ণিঝড় কংগ্রেস (Congress) দলেও। বিক্ষুব্ধ নেতারা বলছেন দলের তরফে গত অক্টোবরে ঘোষণা করা হয়েছিল যে বর্তমান দলীয় বিধায়কদের সকলেই পুনরায় মনোনয়ন পাবেন। কিন্তু দলের আংশিক প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করা হয়েছে বিজেপির প্রথম প্রার্থী তালিকা প্রকাশের পর। পশ্চিম রাজকোটে মনসুখ কালরিয়ার নাম ঘোষণার আগেই কংগ্রেসের স্থানীয় নেতাদের তুমুল বিক্ষোভে, ঘোষণা স্থগিত রাখতে হয়। শহরের কংগ্রেস নেতাদের অনুপস্থিতিতে হিতেশ ভোরা, সুরেশ বাথওয়ার রাজকোটে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন ! রাজকোট-পূর্ব আসনে কংগ্রেস প্রার্থী করেছে প্রাক্তন বিধায়ক ইন্দ্রনীল রাজ্যগুরুকে (Indranil Rajyaguru)। শহর কংগ্রেসের একটি গোষ্ঠী এর তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে। বিক্ষুব্ধদের বক্তব্য, গত এপ্রিল মাসে ইন্দ্রনীল রাজ্যগুরু দল ত্যাগ করে আম আদমি পার্টিতে যোগ দিয়েছিলেন। সেখানে আশা পূরণ না হওয়ায় আবার কংগ্রেসে ফিরে এসেছেন।প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি জগদীশ ঠাকুর কিছুদিন আগেই ঘোষণা করেছিলেন যে যাঁরা অন্য দল থেকে ফিরে এসেছেন তাদের টিকিট দেওয়া হবে না । রাজকোট পশ্চিম বিজেপির ঘাঁটি হলেও, কংগ্রেস সেখানে মনসুখ কালরিয়াকে টিকিট দেওয়ার কথা তুললে, সেখানে তীব্র বিরোধিতা দেখা দিয়েছে। রঞ্জিত মুন্ধওয়াসহ বিশিষ্ট কংগ্রেস নেতারা রাস্তায় নেমে কালরিয়ার বিরুদ্ধে বিক্ষোভ দেখান এবং গোপাল উন্ডুকতাকে মনোনয়ন দিতে হবে বলে দাবি করেন। এই আসনে অতুল রাজানিকে কংগ্রেসের একজন শক্তিশালী প্রার্থী । যদিও প্রতিবাদের পরে, কংগ্রেস রাজ্যগুরুর নাম ঘোষণা করলেও, কালারিয়ার নাম ঘোষণা করা হয়নি।

আরও পড়ুন:শুভেন্দুর কুকথার জবাব দিতে গিয়ে রাষ্ট্রপতিকে অপমান, মুর্মু বিতর্কে ক্ষমা চাইলেন অখিল

 

Previous articleশুভেন্দুর কুকথার জবাব দিতে গিয়ে রাষ্ট্রপতিকে অপমান, মুর্মু বিতর্কে ক্ষমা চাইলেন অখিল