“সোনা চোর” স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী! নিশীথের নামে নালিশ জানাতে রাষ্ট্রপতির সাক্ষাৎ চায় তৃণমূল

রাষ্ট্রপতির সঙ্গে কথা বলতে চান লোকসভায় তৃণমূলের লোকসভার সংসদীয় দলের নেতা সুদীপ এবং রাজ্যসভার নেতা ডেরেক। আগামী ৭ ডিসেম্বর নিশীথের মামলার পরবর্তী শুনানি। বিশেষ সূত্রে জানা গিয়েছে, এর মধ্যে রাষ্ট্রপতির কাছ থেকে সাক্ষাতের অনুমতি পেলেই দিল্লি রওনা হবে ৭ সদস্যের দল

দেশের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বিরুদ্ধেই কি-না সোনার দোকান লুঠ, চুরি ও ডাকাতির অভিযোগ। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের ডেপুটি কোচবিহারের বিজেপি সাংসদ নিশীথ প্রামাণিককে নিয়ে এমন অভিযোগে তোলপাড় শুধু রাজ্য নয়, জাতীয় রাজনীতি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের ডেপুটির বিরুদ্ধে এমন মারাত্মক অভিযোগ আসায় অস্বস্তিতে পড়েছে গেরুয়া শিবির। জাতীয়স্তরে এমন গরম ইস্যুকে হাতিয়ার করে কেন্দ্রকে চাপে ফেলতে এবার রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সাক্ষাৎপ্রার্থী হলেন তৃণমূলের দুই নেতা তথা সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং ডেরেক ও’ব্রায়েন। সাক্ষাতের সময় পেলে তাঁরা রাইসিনা হিলে যাবেন। রাষ্ট্রপতির সঙ্গে কথা বলবেন বাংলার বিজেপি নেতা তথা কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিককে নিয়ে। যে নিশীথের বিরুদ্ধে গত শুক্রবারই গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে আলিপুরদুয়ার জেলা আদালত। ফলে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী পদে থাকার নৈতিক অধিকার নেই নিশীথের।

সূত্রের খবর, এই বিষয়েই রাষ্ট্রপতির সঙ্গে কথা বলতে চান লোকসভায় তৃণমূলের লোকসভার সংসদীয় দলের নেতা সুদীপ এবং রাজ্যসভার নেতা ডেরেক। আগামী ৭ ডিসেম্বর নিশীথের মামলার পরবর্তী শুনানি। বিশেষ সূত্রে জানা গিয়েছে, এর মধ্যে রাষ্ট্রপতির কাছ থেকে সাক্ষাতের অনুমতি পেলেই দিল্লি রওনা হবে ৭ সদস্যের দল।

উল্লেখ্য, ২০০৯ সালে দু’টি পৃথক চুরির মামলা দায়ের করা হয়েছিল নিশীথ-সহ আরও বেশ কয়েকজনের বিরুদ্ধে। তখন অবশ্য নিশীথ সাংসদ হননি। নেতা হিসাবেও তাঁর নাম সে ভাবে জানেনি বাংলার মানুষ। প্রায় ১৩ বছর পর সেই মামলায় নিশীথকে আদালত ডেকে পাঠিয়েছিল শুনানির জন্য। কিন্তু আলিপুর দুয়ারের বিচার বিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেটের যে থার্ড কোর্টে মামলাটির শুনানি ছিল, সেখানে নিশীথ বা তাঁর আইনজীবী উপস্থিত না থাকায়, পরবর্তী শুনানির দিন প্রয়োজনে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীকে গ্রেফতার করে আদালতে হাজির করানোর নির্দেশ দেন বিচারক। এর পরেই নিশীথকে নিয়ে রাজ্যে তৃণমূল-বিজেপি তরজা শুরু হয়। তৃণমূল বলতে শুরু করে যে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের হাতে দেশের নিরাপত্তার দায়িত্ব, সেই মন্ত্রকেরই প্রতিমন্ত্রীর বিরুদ্ধে চুরির অভিযোগ!

এদিকে পঞ্চায়েত ভোটের আগে নিশীথ ইস্যুতে সরগরম রাজ্য ও জেলা রাজনীতি। একদিকে যেমন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বিরুদ্ধে সোনার দোকানে লুঠ ও চুরির অভিযোগে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে, অন্যদিকে নিশীথ প্রামণিকের বাড়িতে লুকিয়ে রাখা হয়েছে বেআইনি অস্ত্র, সেই অভিযোগও তোলা হয়েছে তৃণমূলের তরফে। কোচবিহারের ভোটাগুড়িতে খোদ নিশীথের গড়ে দাঁড়িয়ে সুর চড়িয়েছেন দিনহাটার তৃণমূল বিধায়ক উদয়ন গুহ। এক দলীয় সভায় উদয়ন গুহ বলেন, স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর যদি সত্ সাহস থাকে তাহলে রাজ্য পুলিশকে ঢোকার ব্যবস্থা করে দেওয়া হোক তাঁর বাড়িতে। এই বাড়ি যদি সার্চ হয় তাহলে গ্যারান্টি দিয়ে বলছি সবরকম বেআইনি অস্ত্র এই বাড়ি থেকে পাওয়া যাবে। সবরকম বেআইনি অস্ত্রের ঘাঁটি হচ্ছে এই সাংসদের বাড়ি। মহকুমায় যত সমাজবিরোধী আছে, এর বাইরের যেসব সমাজবিরোধী বিজেপির হয়ে গুন্ডামি করে তাদের আস্তানা হচ্ছে এমপির বাড়ি। শুধু তাই নয় অসম থেকেও সমাজবিরোধীদের নিয়ে এসে এই বাড়িতে আশ্রয় দেওয়া হয়।

Previous articleপরপর তিনবার! অবসরের দিনই মেয়াদ বাড়ল ইডি অধিকর্তার