বারুইপুরে নৌসেনার কর্মীকে খু*ন করে ৫ টুকরো লোপাট! ধৃত স্ত্রী ও ছেলে

নৃশংস ছবি দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুরে! প্রাক্তন নৌসেনা কর্মীর দেহ উদ্ধারের ঘটনায় চাঞ্চল্যকর তথ্য এল পুলিশের হাতে। স্ত্রী ও ছেলে দুজনে মিলেই খুন করেছেন ওই নৌসেনা কর্মী উজ্জ্বল চক্রবর্তীকে। খুনের  পর তাঁর দেহ টুকরো টুকরো করে বাগান ও পুকুরে ফেলে দেয় ছেলে। ইতিমধ্যেই নৌসেনার ছেলে ও স্ত্রীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ধৃতদের নাম শ্যামলী চক্রবর্তী (৪৭) ও জয় চক্রবর্তী (২৫)। রবিবার সকাল থেকেই নৌসেনার দেহ উদ্ধারের জন্য পুকুরে নেমে তল্লাশি চালানো হয়েছে।

আরও পড়ুন:বারুইপুরে প্রাক্তন নৌসেনা কর্মীর খন্ড-বিখন্ড দেহ নিয়ে ময়নাতদন্তে হাড়হিম করা তথ্য!

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার বারুইপুরের ডিহি মদন মাল্লো এলাকার উজ্জ্বলের হাত-পা কাটা দেহ উদ্ধার হয়।এরপরই নৌসেনার দেহাংশের খোঁজে তল্লাশি শুরু করে বারুইপুর থানার পুলিশ। এদিকে মৃতের ছেলে জয় ও স্ত্রী শ্যামলী চক্রবর্তীকেও জেরা করতে শুরু করে তারা।বয়ানে অসঙ্গতি থাকায় দুজনকেই গ্রেফতার করা হয়। শুরু হয় টানা জেরা। জেরার মুখে ভেঙে পড়ে খুনের কথা স্বীকার করে নৌসেনা কর্মীর স্ত্রী ও ছেলে। রবিবার ধৃতদের বারুইপুর আদালতে হাজির করানো হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

তদন্তকারীদের দাবি, উজ্জ্বল রোজই মদ্যপান করতেন। তা নিয়ে পরিবারে অশান্তিও হত। নিহতের ছেলে জয় একটি পলিটেকনিক কলেজে পড়েন। পড়শিদের জিজ্ঞাসাবাদ করে তদন্তকারীরা জানতে পারেন, বিভিন্ন কারণে প্রায়শই পরিবারে অশান্তি লেগে থাকত। গত ১৪ নভেম্বর উজ্বলের সঙ্গে তাঁর স্ত্রী ও ছেলের ব্যাপক অশান্তি হয়। সেই সময় রাগের মাথায় বাবাকে প্রচণ্ড মারধর করেন জয়। অভিযোগ, যার জেরেই উজ্বলের মৃত্যু হয়। এর পর তাঁর স্ত্রী ও ছেলে মিলে দেহ টুকরো টুকরো করে কেটে বাড়ির পাশের জলাশয় ও পুকুরে সেই টুকরো দেহের অংশগুলি ফেলে দেয় ছেলে।

পুলিশ সূত্রের দাবি,  জেরার মুখে ভেঙে পড়ে খুনের কথা স্বীকার করে নৌসেনা কর্মীর স্ত্রী ও ছেলে। নৌসেনার ছেলে জয় চক্রবর্তী জানায়, ১৪ নভেম্বর অর্থাৎ সোমবার রাতে অতিরিক্ত মদ্যপান করছিল তার বাবা। আর এই মদ্যপানকে কেন্দ্র করে প্রায়শই অশান্তি হত বাড়িতে। সেদিন রাতেও পলিটেকনিক কলেজে পাঠরত জয় বাবার মদ্যপানে বাধা দেয়। আর তা নিয়েই বাবা ও ছেলের মধ্যে গণ্ডগোল শুরু হয়। বাবাকে বেধড়ক মারধর করে ছেলে। মারের চোটে জ্ঞান হারিয়ে ফেললে গলায় ফাঁস দিয়ে খুন করা হয় প্রাক্তন নৌসেনা কর্মীকে।

Previous articleযাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে র‌্যাগিংয়ের শিকার বিশেষভাবে সক্ষম ছাত্র, জরুরী বৈঠকে  কর্তৃপক্ষ