ঝাড়ুদার থেকে মেসিদের দৌড় থামিয়ে দেওয়া এই সৌদি কোচ কে?

দুবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে সৌদি পেয়েছে বিশ্বকাপ ইতিহাসের চতুর্থ জয়। বিশ্বকাপে এটাই যে তাদের সেরা সাফল্য, তা বলার অপেক্ষা রাখে না

হার্ভি রেনারের কি সেই দিনগুলির কথা মনে আছে? মনে আছে, যে সময়ে সারারাত জেগে ঝাড়ুদারের কাজ করে আবার ভোরের সূর্য উঠতেই ফুটবল পায়ে ছুটতেন, নিজের স্বপ্ন পূরণের স্বপ্ন দেখতেন। যে স্বপ্নের খোঁজে সেই দিনগুলোয় ছুটে বেড়াতেন, আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে সেই স্বপ্ন কি পূরণ হয়েছে? মেসিদের দৌড় থামিয়ে কি সেই রাত জেগে ঝাড়ু দেওয়ার দিনগুলি মনে পড়ছিল রেনারের। উত্তরটা তিনিই দিতে পারবেন। তাঁর স্বপ্ন পূরণ হোক না হোক, তাঁর হাত ধরেই সৌদি আরব পেয়েছে স্বপ্নের সাফল্য!

আরও পড়ুন: মেসিদের চোখে চোখ রেখে লড়াই করে নায়ক সৌদি গোলরক্ষক

বিশ্বকাপে সৌদি আরব এর আগে হারিয়েছিল মরক্কো, বেলজিয়াম, মিশরকে। দুবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে সৌদি পেয়েছে বিশ্বকাপ ইতিহাসের চতুর্থ জয়। বিশ্বকাপে এটাই যে তাদের সেরা সাফল্য, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

কোচিং ক্যারিয়ারে এমন সাফল্য রেনারের জন্য অবশ্য নতুন কিছু নয়। এর আগে একমাত্র কোচ হিসেবে দুটি ভিন্ন দেশের হয়ে আফ্রিকা কাপ অব নেশনস জিতেছিলেন এই ফরাসি কোচ। রেনারের কোচিং ক্যারিয়ারও শুরু ফ্রান্সের ক্লাব দ্রাগিনিয়াঁর হয়ে।

এরপর দেশ ছেড়ে চলে যান ইংল্যান্ডে। দায়িত্ব নেন চতুর্থ স্তরের লিগের দল ক্যামব্রিজ ইউনাইটেডের। সে সময়টা একেবারেই ভালো যায়নি রেনারের। গোটা মরশুমে দলকে জেতাতে পেরেছিলেন মাত্র পাঁচ ম্যাচে। তাঁর দল হেরেছিল ১৪টিতে আর ড্র করে ২৬ ম্যাচ।

মাঠের পারফরম্যান্সে রেনারের কৌশলের প্রভাব না পড়লেও ড্রেসিংরুমে তাঁর ‘ম্যান ম্যানেজমেন্ট’ দক্ষতা তখনই আলোচনার বিষয়বস্তু হয়ে উঠেছিল। তাঁর সম্পর্কে বলতে গিয়ে প্রাক্তন এভারটন ও নরউইচ গোলকিপার জন রুডি বলেছিলেন, “রেনার শুধু মুখেই বলেন না, নিজেও ফুটবলারদের কাজটা করে দেখান, বিশেষ করে জিমে।”

রেনার আসল চমকটা দেখান জাম্বিয়ার কোচ হয়ে। নিজের দ্বিতীয় মরশুমে কাপ অব নেশনসের ফাইনালে আইভরিকোস্টকে হারিয়ে সেরার খেতাব জেতে জাম্বিয়া। এরপর আইভরিকোস্টের হয়েও একই শিরোপা জেতেন রেনার। আইভরিকোস্ট থেকে তিনি যান লিগ আঁ-র ক্লাব লিলে। তবে সেখানে খুব একটা সুবিধা করতে পারেননি।

আবারও ফেরেন জাতীয় দলের দায়িত্বে, মরক্কোর কোচ হয়ে। দায়িত্ব নিয়েই মরক্কোকে বিশ্বকাপের মূল পর্বে নিয়ে যান এই কোচ। ২০ বছরের অপেক্ষা ও আক্ষেপ দূর করে ২০১৮ সালে রাশিয়া বিশ্বকাপে খেলে মরক্কো। ২০১৯ সালে সৌদি আরবের দায়িত্ব নেন মরক্কো-অধ্যায় শেষ করে।

মূলত রেনারকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল বাছাইপর্ব পার করে সৌদি আবরকে বিশ্বকাপের টিকিট এনে দেওয়ার। সেটা তো রেনারই করেছেনই, আর বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচেই মেসিদেরকে হারিয়ে তো এখন জায়গা করে নিয়েছে ইতিহাসের পাতাতেই।

Previous articleশহরজুড়ে শীতের মরশুম!সপ্তাহান্তে আরও নামবে তাপমাত্রার পারদ