ম‍্যানইউ বিতর্কের মাঝেই আজ নামছেন রোনাল্ডো , বিশ্বকাপে পর্তুগালের প্রতিপক্ষ ঘানা

এদিকে ম‍্যাচের আগের দিন ব্রুনো ফের্নান্দেসকে সঙ্গে নিয়ে সাংবাদিক সম্মেলনে এসেছিলেন পর্তুগালের কোচ ফের্নান্দো স্যান্টোস। অধিনায়ক রোনাল্ডো সাংবাদিক বৈঠকে এলে ম্যানইউয়ের প্রসঙ্গ উঠবেই। তাই ব্রুনোকে নিয়ে আসেন কোচ।

আজ বিশ্বকাপের অভিযান শুরু করতে চলেছে পর্তুগাল। প্রতিপক্ষ ঘানা। তবে এরই মাঝে চর্চায় পর্তুগালের সুপারস্টার ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো। হতে পারেন তিনি পর্তুগালের জাতীয় নায়ক, কিন্তু ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোর বিশ্বকাপ জীবনেও বারবার ঢুকে পড়ছে ম্যাঞ্চেস্টার ইউনাইটেড।

বৃহস্পতিবার পর্তুগাল মুখোমুখি হচ্ছে ঘানার। কিন্তু এই মুহূর্তে রোনাল্ডো-ম্যান ইউয়ের বিচ্ছেদ এত বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে যে পর্তুগাল সেন্ট্রাল ব্যাক  রুবেন দিয়াজকে বলতে হল, ‘এটা নিয়ে অনেক কথা হয়েছে। আমরা সবাই বিশ্বকাপে ফোকাসড রয়েছি’।

বৃহস্পতিবার প্রতিপক্ষ ঘানা। এমনিতে ঘানা ম্যাচ তাঁদের জন্য সহজ হতে পারে। এই বিশ্বকাপে সবথেকে নিচে থাকা দল ঘানা। ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ে তারা আছে ৬১ নম্বরে। কিন্তু সৌদিরা আর্জেন্তিনাকে ২-১ গোলে হারানোর পর কোনও ম্যাচই আর সহজ হচ্ছে না কাতারে। গ্রুপ এইচ-এ ঘানা, পর্তুগাল ছাড়া আর রয়েছে উরুগুয়ে ও দক্ষিণ কোরিয়া। তবে ঘানা র‍্যাঙ্কিংয়ে সবার পিছনে থাকলেও ফুটবলারদের গড় বয়সের হিসাবে সবথেকে কম বয়সী দল। ইনাকি উইলিয়ামস স্পেন থেকে ঘানায় যোগ দিয়েছেন। মহম্মদ কুডুস ও টমাস পার্টি যে কোনও দলকে বেগ দিতে পারেন। দিয়াজ বলছিলেন, ‘ঘানার ফুটবলাররা  শারীরিক ও টেকনিক্যাল দিক থেকে বেশ শক্তিশালী। ওদের ফুটবলারদের অনেকেই ইউরোপের লিগে খেলে। আমরা জানি একটা বিপজ্জনক দলের মুখোমুখি হতে চলেছি’।
২০১৪ বিশ্বকাপে পর্তুগাল ঘানাকে ২-১ গোলে হারিয়েছিল। ১৯৬৬ ও ২০০৬-এ তারা সেমিফাইনাল পর্যন্ত গিয়েছিল। এর বাইরে কোনওবার পর্তুগাল শেষ ষোলোর ওপারে পা রাখতে পারেনি। কাতারে কোচ স্যান্টোসকে অবশ্য প্রথম এগারো বাছতে গিয়ে বেশ মুশকিলে পড়তে হচ্ছে। দিয়াগো কোস্তা না লুই প্যাট্রিসিয়া, সেটা একটা প্রশ্ন। উপরে বেনার্ডো সিলভা ও রোনাল্ডোর থাকা নিয়ে কোনও সংশয় নেই। বাকি জায়গাটা নিয়ে লড়াই হতে পারে জোয়াও ফেলিক্স, রাফায়েল লিয়াও, ওটাভিও এবং আন্দ্রে সিলভার মধ্যে।

এদিকে ম‍্যাচের আগের দিন ব্রুনো ফের্নান্দেসকে সঙ্গে নিয়ে সাংবাদিক সম্মেলনে এসেছিলেন পর্তুগালের কোচ ফের্নান্দো স্যান্টোস। অধিনায়ক রোনাল্ডো সাংবাদিক বৈঠকে এলে ম্যানইউয়ের প্রসঙ্গ উঠবেই। তাই ব্রুনোকে নিয়ে আসেন কোচ। তবে তাতেও রেহাই পাননি তিনি। ইংল্যান্ডের এক সাংবাদিক প্রথমেই ব্রুনোকে জিজ্ঞেস করলেন, ‘‘ম্যানইউয়ের সঙ্গে রোনাল্ডোর বিবাদের জেরে আপনাদের সম্পর্কেও তো চিড় ধরেছিল। এখন কি পরিস্থিতি বদলেছে?’’ রীতিমতো অস্বস্তিতে পড়ে গিয়েছিলেন ম্যানইউ তারকা। বললেন, ‘‘প্রথমত, রোনাল্ডোর সঙ্গে আমার সম্পর্কের অবনতি হয়নি। দ্বিতীয়ত, ওর সঙ্গে ম্যানইউ নিয়ে কোনও রকম আলোচনাই হয় না। আমাদের একটাই লক্ষ্য পর্তুগালের হয়ে বিশ্বকাপ জেতা। সকলেরই একই রকম মানসিকতা। তাই অন্য কোনও আলোচনা হয়নি। এটা এমন স্পর্শকাতর বিষয়, যার সঙ্গে ওর পরিবারের স্বার্থও জড়িয়ে রয়েছে। তাই কোনও অবস্থাতেই ক্রিশ্চিয়ানোর সঙ্গে এই ব্যাপারে কথা বলতে পারি না।”

আরও পড়ুন:সতীর্থদের নিয়ে বৈঠক মেসির, মেক্সিকো ম‍্যাচের আগে দলকে চাঙ্গা করতে মরিয়া লিও

 

Previous articleডেঙ্গির জন্য ব্রাজিল-আর্জেন্টিনার পতাকায় মোড়া বিশ্বের সবচেয়ে বড় মশারি, ভিতরে ফুটবল