Wednesday, May 6, 2026

রাজ্যের উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলিকে সুস্বাস্থ্য কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা সরকারের

Date:

Share post:

গ্রামের পাশাপাশি এবার শহরাঞ্চলের স্বাস্থ্য পরিকাঠামো ঢেলে সাজাতে উদ্যোগী হল রাজ্য সরকার। রাজ্যের সমস্ত উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলিকে (Sub Health Centre) ধাপে ধাপে সুস্বাস্থ্য কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে বিস্তারিত পরিকল্পনা তৈরি করেছে রাজ্য সরকার। পুর ও নগরোন্নয়ন দফতর সূত্রে খবর, আগামী ২০২৩-২৪ আর্থিক বছরে রাজ্যের বিভিন্ন পুরসভা এলাকায় এলাকায় মোট ৩৬৭টি পুর সুস্বাস্থ্য কেন্দ্র তৈরি হবে। এর মধ্যে বিধাননগর ও আসনসোল ২০টি, হাওড়া ৩০টি, বালিতে ১২টি, দুর্গাপুর ও শিলিগুড়ি ১৮টি করে নতুন পুর সুস্বাস্থ্য কেন্দ্র তৈরি হবে।

এগুলি তৈরি হবে স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে পঞ্চদশ অর্থ কমিশনের আর্থিক সাহায্যে। ভাড়া বাড়িতে কেন্দ্র হলে দু’মাসের মধ্যে এবং নতুন বাড়ি করতে হলে পাঁচমাসের মধ্যে কেন্দ্রগুলি চালু করতে হবে বলে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এর আগেই রাজ্যের ১১৪ টি উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রের পরিকাঠামো উন্নয়নে পাঁচ কোটি টাকার বেশি বরাদ্দ করা হয়েছে। এই টাকায় উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলিকে অত্যাধুনিক চিকিৎসা পরিষেবা বিশিষ্ট সুস্বাস্থ্যকেন্দ্র বা হেলথ অ্যান্ড ওয়েলনেস সেন্টার হিসেবে গড়ে তোলা হচ্ছে।

চলতি আর্থিক বছরে এই খাতে সর্বাধিক বরাদ্দ পেয়েছে পুরুলিয়া (Purulia) জেলা। সেখানকার স্বাস্থ্য কেন্দ্র গুলির মান উন্নয়নে ৫৪ লক্ষ টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলাকে বরাদ্দ করা হয়েছে ৩৬ লক্ষ টাকা। বাকি ১৭ টি জেলাকে ২২ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা করে দেওয়া হবে বলে সূত্রের খবর। রাজ্যে মোট ১০ হাজার ৩০০ এর বেশি উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র রয়েছে। ধাপে ধাপে এর প্রত্যেকটিকে সুস্বাস্থ্য কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
এই সুস্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলিকে ই-ক্লিনিক হিসেবে গড়ে তোলা হচ্ছে। যেখানে টেলি মেডিসিন পরিষেবার মাধ্যমে ক্যান্সার-সহ বিভিন্ন দুরারোগ্য রোগের চিকিৎসা পরিষেবা পাচ্ছেন সাধারণ মানুষ। রাজ্যজুড়ে তৈরি হওয়া, ৬৮ টি টেলিমেডিসিন হাবের মাধ্যমে ৭০০ জনেরও বেশি চিকিৎসক গ্রামীণ এলাকার মানুষদের এই দৈনন্দিন স্বাস্থ্য পরিষেবা দিচ্ছেন।

মাত্র দশ মাস আগে স্বাস্থ্য ইঙ্গিত নামক রাজ্য সরকারের এই টেলিমেডিসিন প্রকল্প ইতিমধ্যেই দেশের মধ্যে দ্বিতীয় স্থান দখল করে প্রশংসিত হয়েছে। জেনারেল মেডিসিন, প্রসূতি রোগবিদ্যা, শিশুরোগ, চর্মরোগ, চক্ষুরোগ, মানসিক রোগ, নাক-কান-গলার চিকিৎসার ক্ষেত্রে টেলিমেডিসিন পরিষেবা আগেই শুরু হয়েছিল। চলতি বছরের মে মাস থেকে অক্টোবর পর্যন্ত ক্যান্সারের মতো রোগের চিকিৎসা এবং স্নায়ুরোগের চিকিৎসার ব্যবস্থাও স্বাস্থ্যভবন করে দিয়েছে। তাতে মানুষ যেমন উপকৃত হয়েছেন, তেমনই বেড়েছে টেলি মেডিসিনের চাহিদা। এবার চালু হচ্ছে পেটের রোগের চিকিৎসা। বাংলার কোটি কোটি মানুষ পেটের নানা সমস্যায় ভোগেন। এবার তাঁরা এই সমস্যার হাত থেকেও মুক্তি পাবেন। রাজ্যের অন্যতম বিশিষ্ট চিকিৎসা কেন্দ্র এসএসকেএম হাসপাতালের মাধ্যমে বাংলার মানুষকে ওই পরিষেবা দেওয়া হবে।

Related articles

রাজ্যে নতুন বিধানসভা গঠনের প্রস্তুতি, লোকভবনে রাজ্যপালের সঙ্গে বৈঠক CEO – মুখ্যসচিবদের 

শেষ হয়েছে ভোট, সংবিধানের রীতি অনুযায়ী পাঁচ রাজ্যেই এবার বিধানসভা গঠনের প্রস্তুতি শুরু। বাংলায় বর্তমান বিধানসভার মেয়াদ শেষ...

‘মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু’! বিজেপির অফিসিয়াল ঘোষণার আগেই ভাইরাল পোস্টার ঘিরে বিতর্ক

দুই তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গড়তে চলা বিজেপি (BJP) এ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর নাম ঘোষণা না করলেও সোশ্যাল মিডিয়ায়...

৬ ঘণ্টা বন্ধ থাকবে মুম্বই বিমানবন্দর, চরম যাত্রী ভোগান্তির আশঙ্কা 

৬ ঘন্টা বন্ধ থাকতে চলেছে মুম্বইয়ের ছত্রপতি শিবাজি মহারাজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর (Mumbai Airport) । বৃহস্পতিবার অর্থাৎ ৭ই মে...

কোথাও তৃণমূলের পার্টি অফিসে আগুন, কোথাও গুলিবিদ্ধ বামকর্মী; জেলায় জেলায় ভোট পরবর্তী হিংসার ছবি

ভোটের ফলাফল ঘোষণার দিন থেকে বুধবার সকাল পর্যন্ত রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে নির্বাচন পরবর্তী হিংসার (post poll violence) ছবি...