Monday, March 16, 2026

ফের স্পষ্ট বিজেপির দ্বিচারিতা, পৃথক গোর্খাল্যান্ডের দাবিতে জোরালো সওয়াল বিজেপি বিধায়কের

Date:

Share post:

ফের স্পষ্ট হয়ে গেলো বিজেপির দ্বিচারিতা। বিধানসভায় দাঁড়িয়ে ফের পৃথক গোর্খা ল্যান্ডের (Gorkhaland) দাবিতে জোরালো সওয়াল করলেন পদ্ম শিবিরের অন্যতম বিধায়ক বিষ্ণুপ্রসাদ শর্মা। বঙ্গভঙ্গ বিরোধী প্রস্তাব পেশের দিন বিধানসভায় কার্শিয়াঙের বিজেপি বিধায়ক পৃথক গোর্খাল্যান্ড রাজ্য নিয়ে গণভোটের দাবি জানান। কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনের তত্ত্বাবধানে সেই গণভোট করার কথা বলেন তিনি। যার তীব্র বিরোধিতা করেছে সরকার পক্ষ।

সোমবার রাজ্য বিধানসভায় ‘বঙ্গভঙ্গ বিরোধী প্রস্তাব আনেন তৃণমূল কংগ্রেস বিধায়ক সত্যজিৎ বর্মণ। সেই প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে বিজেপি বিধায়ক বিষ্ণুপ্রসাদ শর্মা বলেন, ‘গোর্খাল্যান্ড ইস্যুর জন্য মানুষ আমাকে সমর্থন করেছেন। পাহাড়ের মানুষ কী চাইছেন, কেন চাইছেন তা জানার জন্য গণভোটের আয়োজন করা হোক। কেন্দ্র এবং কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনের সাহায্য নিয়ে রাজ্য সরকার মানুষের মত জানার চেষ্টা করুক।’ অন্যদিকে এদিন পদ্মশিবিরের বিধায়কের এই দাবির তুমুল বিরধিতা করেন শোভন দেব চট্টোপাধ্যায়,ফিরহাদ হাকিম, ব্রাত্য বসু, তাপস রায় সাবিনা ইয়াসমিনরা। ফিরহাদ হাকিম বলেন,
ইংরাজ আমল থেকেই বাংলা কে ভাগ করার চক্রান্ত চলছে। এর বিরুদ্ধে রবীন্দ্রনাথকেও পথে নামতে হয়েছিল।বা়ংলাকে ভাগ করার জন্যই দেশকে ভাগ করলো।যার পিছনেও ছিল সেই আর এস এস। আর
১৯৮০ সালে পাহাড়কে অশান্ত করে বা়ংলাকে ভাগ করার চেষ্টা করে তার পিছনে ছিল বিজেপি।শোভন দেব চট্টোপাধ্যায় পাহাড়ের ইতিহাস তুলে ধরে বলেন,দার্জিলিং এ নানান উপজাতি,জনজাতি আছেন। তাহলে গোর্খারাই কেন আলাদা রাজ্যের দাবিদার? তবে কংগ্রেস ও বাম আমলে উত্তরবঙ্গ যে বঞ্চিত হয়েছে সেকথা স্বীকার করেছেন তিনি। কৃষিমন্ত্রী বলেন সেকারণেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ২০১১ সালের পর ক্ষমতা এসে নজর দেয় উত্তর বঙ্গের দিকে।

আরও পড়ুন: মঙ্গলে অভিষেককে নিয়ে বিশেষ প্ল্যানিং বিজেপির, স্বাস্থ্যসাথী কার্ড সঙ্গে রাখার পরামর্শ কুণালের

দার্জিলিং এ শিল্পতালুক ঘোষনা করে ছেন।উন্নতি ঘটিয়েছে শিক্ষা স্বাস্হ্যর,
তাই আবেদন ,আবার নতুন করে রাজ্যকে ভাগ করার চেষ্টা করবেন না।আমরা বাংলা ভাগ করতে দেবো না। তাতে যদি মৃত্য বরণ করতে হয় করবো। ব্রাত্য বসু বলেন, আমাদের দেশে রাজ্য ভাগের যে মূল ভিত্তি, সেই ভাষা, ভৌগলিক অবস্থান বা আয়তন কোনোটাই উত্তরবঙ্গের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। যে যুক্তিতে গোর্খা ল্যান্ড (Gorkhaland) চাওয়া হচ্ছে তা মানতে গেলে বাংলাকে আরও বহু টুকরো করতে হবে। তাপস রায় বাংলা ভাগ নিয়ে বিজেপির দ্বিচারিতা র রাজনীতিকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেন।সাবিনা ইয়াসমিন বলেন, বঙ্গ বিজেপির নেতারা যখনই ভাগিরথী নদীর ওপারে যান, তখন বঙ্গভঙ্গের দাবিকে সমর্থন করেন। আবার দক্ষিণবঙ্গে এলেই অখণ্ড বাংলার কথা বলেন। এটাই ওঁদের দ্বিচারিতার রাজনীতি।আলোচনার শেষে বঙ্গভঙ্গ বিরোধী প্রস্তাব ধ্বনি ভোটে বিধানসভায় পাশ হয়ে যায়।

 

spot_img

Related articles

বিধানসভা নির্বাচনের প্রার্থী তালিকা প্রস্তুত, মঙ্গলেই ঘোষণার পথে তৃণমূল

২৮ ফেব্রুয়ারি পূর্ণাঙ্গ ভোটার তালিকা প্রকাশের পরে যে কোনও সময়ে রাজ্যে নির্বাচন ঘোষণা হতে পারে, এমনটা প্রস্তুতি নিচ্ছিল...

জ্বালানি গ্যাস নিয়ে কেন্দ্রের হঠকারিতা: সোমে পথে মমতা-অভিষেক

মোদি সরকারের ভ্রান্ত বিদেশ নীতির জেরে গোটা দেশে সংকটে সাধারণ মানুষ। লকডাউন থেকে এসআইআর, এবার গ্যাসের সংকটেও যেখানে...

নির্বাচনী আচরণবিধি লাগু হতেই বদল রাজ্যের মুখ্যসচিব ও স্বরাষ্ট্রসচিব

নির্বাচনী আচরণবিধি লাগু হতেই রাজ্যে একের পর এক মনের মত আধিকারিক পদে বদল করতে শুরু করে দিল নির্বাচন...

আচরণবিধি লাগু হতেই কমিশনের কড়া নজর, বদলি ও উন্নয়ন তহবিলে নিয়ন্ত্রণ

বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই রাজ্যে কার্যকর হয়েছে আদর্শ আচরণবিধি। সেই পরিপ্রেক্ষিতে প্রশাসনিক কাজকর্ম, আধিকারিকদের বদলি এবং উন্নয়নমূলক...