Thursday, June 4, 2026

যারা কড়াইতে ফুটছে তাদের বেসন, তেল ও ছ্যাকা দেব: বামকে তোপ ব্রাত্যর

Date:

Share post:

তৃণমূলের(TMC) ছাত্র যুব সমাবেশে ফের একবার বাম আমলের(CPIM) নিয়োগ দুর্নীতি নিয়ে সরব হয়ে উঠলেন তৃণমূল বিধায়ক তথা রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু(Bratya Basu)। কড়া সুরে তিনি জানালেন, “আমাদের তাড়া দিতে হবে না। আপাতত যে কটা কড়াইতে ফুটছে, তাদের বেসন দেব, তেল দেব, ছ্যাকা দেব, সব করব। সেমি ইঞ্চিতে ইঞ্চিতে শোধ দেব।”

এদিন সিপিএমকে তোপ দেগে ব্রাত্য বসু বলেন, “আপনারা দেখেছেন পার্টির একটা বৈঠকে আমাদের দলের সুপ্রিমো দলের শিক্ষা সেলের চেয়ারম্যানকে নির্দেশ দিয়েছেন সিপিআইএম আমলে যাঁর যাঁর ভুলভাবে চাকরি হয়েছে, তাঁদের তালিকা বের করুন। সিপিআইএম ইচ্ছা করে মিথ্যা বলছে, মুখ্যমন্ত্রী নাকি শিক্ষামন্ত্রীকে নির্দেশ দিয়েছেন তালিকা বের করার।” এরপরই তিনি বলেন, “সিপিএম নেতারা বারবার তাড়া দিচ্ছেন, কই লিস্ট বেরোচ্ছে না কেন? আমরা কি ওতই বোকা? সব বেরোবে। ইউ আর ইন দ্য সেম বোর্ড ব্রাদার। সব একসঙ্গে আছেন। আমাদের তাড়া দিতে হবে না। আপাতত যে কটা কড়াইতে ফুটছে, তাদের বেসন দেব, তেল দেব, ছ্যাকা দেব, সব করব। সেমি ইঞ্চিতে ইঞ্চিতে শোধ দেব।”

এরপর বিজেপি কংগ্রেস ও সিপিএমকে একযোগে আক্রমণ শানিয়ে ব্রাত্য বলেন, “কেন্দ্র বাংলাকে হাতে ও ভাতে মারার পরিকল্পনা করছে। বিজেপি দুটোতেই মারতে চায়। স্বাভাবিকভাবেই সব রাজনৈতিক দল একসঙ্গে প্রতিবাদ করছে। সিপিএম বারবার কেন্দ্র ও রাজ্যের সম্পর্কের পুনর্বিন্যাসের কথা বলছে। আমরা কেরলেও দেখতে পারছি, কংগ্রেস ও সিপিএম রাজ্যে লড়ছে, কিন্তু সংসদে তারা যখন যাচ্ছে, তখন একসঙ্গে লড়ছে। কেরলও বঞ্চিত। তামিলনাড়ুতেও তাই। কিন্তু বঙ্গ সিপিএমের একমাত্র প্রতিনিধি রাজ্যসভায়, তিনি কোনও কথা বলেন না। তিনি নীরব থাকে, কংগ্রেসও কোনও কথা বলে না, নীরব থাকে। একমাত্র কথা বলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর কাছেই সকলের প্রত্যাশা। আত্মঘাতী রাজনীতি সিপিএম বারবার বাংলায় করেছে, এখনও করছে।”

ব্রাত্য বসুর পাশাপাশি এদিন দেবাংশু ভট্টাচার্য বলেন, “সিপিএম বিজেপিতে কোনও তফাত নেই। সব এক, শুধু কালর হয়ে গিয়েছে গেরুয়া, আপনার এলাকায় যে ইনকিলাব জিন্দাবাদ বলত, সেই ব্যাটাই এখন জয় শ্রী রাম বলছে। বিজেপির কেন এত সমস্যা? ব্রাত্য বসু কয়েটা চিরকুট বার করার কথা বলছে, যত না বিজেপি লাফাচ্ছে, তার থেকে বেশি লাফাচ্ছে সিপিএম। কারণ যাদের চিরকুট এখন বেরোবে, তার পুটকি লাগিয়ে এখন রাম হয়ে গিয়েছে।”

সায়নী ঘোষ বলেন, “খুদকা সাথ, দোস্ত কা বিকাস, গণতন্ত্র কা বিনাস ও দেশ কা সর্বনাশ। আজ ১৪০ কোটি মানুষ ভারতে যার মধ্যে ৮০ কোটি মানুষকে রেশন দিতে হয় এটাই বিজেপির বিকাস। আজ দেশে হিন্দু মুসলমানের মধ্যে দাঙ্গা লাগানো এদের বিকাশ। বিনামূল্যে চাল অথচ ১১৩০ টাকার গ্যাসে রান্না করতে হয় এটাই এদের বিকাশ। আজ ছাত্র, যুব, কৃষক সবাই বঞ্চিত। অথচ রাজার গায়ে ১০ লাখের স্যুট ৮ হাজার কোটির বিমান। বাংলার মানুষ সব দেখছে। এর জবাব দেবে।”

Related articles

তোলাবাজি থেকে শ্লীলতাহানির! গ্রেফতার কলকাতার কাউন্সিলর থেকে প্রাক্তন বিধায়ক

দুর্নীতির বিরুদ্ধে একের পর পদক্ষেপ রাজ্যের নতুন শাসকদলের। প্রায় দশ বছর ধরে যে সব নেতাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ...

বহিষ্কৃত সন্দীপনের বিরুদ্ধে জমি দখলের অভিযোগ: বিক্ষোভ এন্টালিতে

অনৈতিক কাজের জবাব চেয়ে প্রথমবার বিধায়ক হয়ে সরব হয়েছেন সন্দীপন সাহা। এবার তাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও চুরির অভিযোগ...

পথে নামছে ককরোচ পার্টি: নেতৃত্বে দীপকের পাশে সোনম ওয়াংচু

সোশ্যাল মিডিয়ার পরে এবার পথে নেমে ভারতের ছাত্রসমাজ ও যুবসমাজের দাবি তুলে ধরতে চলেছে ককরোচ জনতা পার্টি। সেই...

জীবনতলায় NIA: ছেলেকে নিয়ে প্রাক্তন বিধায়ক শওকতের খোঁজে আধিকারিকরা

আবারও রাজ্যে সক্রিয় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনআইএ। ভাঙড়ে বিস্ফোরণের ঘটনায় এবার প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক শওকত মোল্লার খোঁজে বৃহস্পতিবার...