Tuesday, January 13, 2026

বালুরঘাটে দণ্ডিকাণ্ডে তৃণমূলের  কড়া পদক্ষেপ, কুণাল বললেন বিজেপির নোংরা রাজনীতি

Date:

Share post:

কড়া পদক্ষেপ নিল তৃণমূল কংগ্রেস।বালুরঘাটে দণ্ডি কাণ্ডের জেরে সরানো হল অভিযুক্ত নেত্রীকে। তাঁর জায়গায় আনা হল নতুন আদিবাসী মুখ। অভিযুক্ত নেত্রীর বিরুদ্ধে সরব হয়েছিলেন মন্ত্রী বীরবাহা হাঁসদা। অভিযোগ, বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পরে গত শুক্রবার ৩ জন ১ কিলোমিটার দণ্ডি কেটে তৃণমূল কার্যালয়ের সামনে এসেছিলেন। ফের তাঁরা যোগ দিয়েছিলেন সবুজ শিবিরে। তাঁদের হাতে পতাকা তুলে দিয়েছিলেন জেলা সভানেত্রী প্রদীপ্তা চক্রবর্তী। নেত্রী বলেছিলেন, ওঁরা  বিবেকের দংশনে দণ্ডি কেটেছিলেন। ভুল বুঝিয়ে ওঁদের বিজেপিতে যোগ দেওয়ানো হয়েছিল। তবে তা শুধরে তাঁরা তৃণমূলে ফিরে এসেছেন।

জানা গিয়েছিল, বালুরঘাট কোর্ট মোড় থেকে দণ্ডি কেটে তাঁরা এসেছিলেন তৃণমূলের জেলা কার্যালয়ে (তপন)। তবে বিষয়টি ভালো বাহবে নেয়নি সবুজ শিবির। কড়া সমালোচনা করেছিলেন মন্ত্রী বীরবাহা হাঁসদা ও জেলা সভাপতি মৃণাল সরকার।

এই বিষয়ে তৃণমূলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ রবিবার বলেছেন, কেউ বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে এলে তার একটা নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া আছে। কিন্তু বালুরঘাটে কে, কেন, কোন কারণে এইভাবে দণ্ডি কাটলেন সেটা নিয়ে আমাদের কাছে যে তথ্য এবং ভিডিও এসেছে তা নিয়ে আমরা খোঁজ খবর করছি। কারণ, ভিডিওটিতে কোনও নেতা নেত্রীকে দেখা যাচ্ছে না। তবে বিরোধীদের এ নিয়ে কথা বলার কোনও অধিকার নেই। কারণ শুভেন্দু অধিকারী যখন আমাদের মন্ত্রী বীরবাহা হাঁসদাকে ‘জুতার তলায় রাখি’ বলেন, দিলীপ ঘোষ যখন বলেন, ‘দেবী দুর্গার বাবা কে? আমরা বাবা জানি না’, কৈলাস বিজয়বর্গীয় যখন বলেন, অপরিচ্ছন্ন মহিলারা রাক্ষসীর মতো, শূর্পনখার মতো।তখন ওদের রুচিবোধ বুঝতে অসুবিধা হয়না।

জঙ্গলকন্যা থেকে আদিবাসীদের যারা যোগ্য সম্মান দিচ্ছেন তারা তৃণমূল কংগ্রেস। তাই বিরোধীরা কোনও ঘটনা নিয়ে যদি নোংরা রাজনীতি করে তবে মানুষ তা্ বিশ্বাস করবে না।

এরপরেই অভিযুক্ত নেত্রীর বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নিল জোড়াফুল শিবির। তাঁর জায়গায় আনা হয়েছে স্নেহলতা হেমব্রমকে। আদিবাসী মুখ এনে সবুজ শিবির প্রমাণ করল, ‘বিদ্বেষী’ নয় দল। কেউ ভুল করলে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হয়। প্রসঙ্গত, স্নেহলতা যেই গ্রামের বাসিন্দা, সেই গ্রাম দত্তক নিয়েছিলেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার।

প্রসঙ্গত, দল পরিবর্তন করেছিলেন শিউলি মার্ডি, মার্টিনা কিস্কু, মালতী মুর্মু এবং ঠাকরণ সরেন। এঁদের মধ্যে মার্টিনা সহ দণ্ডি কেটেছিলেন ৩ জন। মার্টিনা বলেছিলেন, ভুল হয়েছিল। তা শোধরানোর জন্যই এভাবে আসা।

 

 

spot_img

Related articles

বিজেপি বিধায়কের মুখে অশ্লীল ভাষা: শাস্তির বদলে সাফাই দিল রাজ্য নেতৃত্ব!

বাংলায় যে ধরনের ভাষা সন্ত্রাস আগে কখনও দেখা যায়নি, বিজেপির বাড় বাড়ন্ত হওয়ার পর সেই ছবিই এই রাজ্যে...

গঙ্গাসাগরে জনসমুদ্র! মাহেন্দ্রক্ষণের আগেই সাগরে ৬০ লক্ষের পুণ্যস্নান 

গঙ্গাসাগরে পুণ্যস্নানের জন্য রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের পাশাপাশি দেশের নানা রাজ্য থেকে লক্ষ লক্ষ পুণ্যার্থী ভিড় জমিয়েছেন। মাহেন্দ্রক্ষণের আগেই...

আধিকারিকদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির তদন্ত কে করবে: সুপ্রিম কোর্ট দ্বিধাবিভক্ত

সরকারি আধিকারিকদের জন্য দুর্নীতি বিরোধী আইনের ধারার বৈধতা নিয়ে সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারল না দেশের শীর্ষ আদালত। দেশের একজন...

SIR-এর কাজের চাপেই মৃত্যু বিএলও-র! নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা ঘিরে ক্ষোভ

গুরুতর অবস্থায় মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছিলেন তিনি। হাসপাতালে ভর্তি থাকার পর মঙ্গলবার এল সেই দুঃসংবাদ। মৃত্যু হল জলপাইগুড়ির...